রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে সমাবেশ করেছেন সাংবাদিকরা। সমাবেশ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
আজ ১১ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনে এ সমাবেশ হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। নিহত এই দুই সাংবাদিকের হত্যার বিচার চেয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ডিআরইউ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি সাইফুল ইসলাম। সমাবেশ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে দ্রুত বিচারের দাবি জানান তারা।
গত ছয় বছরে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ছয়টি বছর অতিবাহিত হলো অথচ আমরা কেউ এখনো এই হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে পারলাম না। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে চাই। কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করছেন।’
সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ডিআরইউয়ের আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।
ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর আলী শুভ বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। আর বিচার হওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।’
ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, সাগর-রুনি হত্যায় খুনিরা ধরা না পড়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থেকে আমরা সরে আসব না। আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।
সাংবাদিক নেতারা সবাইকে এক হওয়ার জন্য উপদেশ দিলেও তারা এক হন না অভিযোগ করে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘নেতারা এক হতে বলেন কিন্তু তারা তা মানেন না। আগামী বছর যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা না হয়। সাংবাদিক দম্পতির ছেলে মেঘকে এখানে দাঁড় করিয়ে যেন বলতে পারি বিচার হয়েছে।’
সমাবেশ শেষে সাংবাদিক নেতারা একটি র্যালি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। এরপর সেখানে ১৮ জনের একটি প্রতিনিধিদল এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।
ডিআরইউ’র যুগ্ম-সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাজ্জাদ আলম খান তপু, ইলিয়াস হোসেন, রাজু আহমেদ, মুরসালিন নোমানী, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক শেখ মামুনুর রশীদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের অপর অংশের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনিকে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় হত্যা করা হয়। ছয় বছরেও আলোচিত এই হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।










