BREAKING NEWS
Search

হলোগ্রাফিক প্রিন্সিপাল

তখন প্রেমের একটা ক্রিটিক্যাল পর্যায় চলছে। মুখে বলিনি কিন্তু মনে মনে সারাক্ষনই তার গলায় বাঁদুরের মতো ঝুলে পড়তে ইচ্ছা করে। প্রতি রাতেই তার কথায় মুগ্ধ হই। এহ, এতো সুন্দর করে কথা বলে কেন? আর মুভি নিয়ে প্রায়ই কথা হয়। আমি যে সাইফাইয়ের ভক্ত এটা সে জানে। তো এর ভিতর একদিন কথা ওঠার সাথে সাথেই আমি আমার একটা বিশাল ক্ষেমতা ঝেড়ে দিলাম, “জানেন, আমি ম্যাট্রিক্স (তখন রিলোডেড বের হয়েছে) মুভি গুলো যখনই সময় পাই দেখি।” সে শুনেই হুট করে বলে দিলো আমি এতো দেখি তার কারন এখানে মনিকা বেলুচ্চি আছে। আমার জিব্বি আটকে যাওয়া টাইপ অবস্থা হল। এইডা আবার কেডা? মনিকা বেলুচ্চি কে? আমি তো জানি মেইন এক্ট্রেসের নাম এটা না। আমি একটা মেয়েকে না চেনার দুঃক্ষে হাসফাস করলেও এমন ভাব দেখালাম যেন এটা কোন ব্যাপারই না। কথা শেষে ওই রাতেই নেটে খোজাখুজি করে বুঝলাম মনিকা বেলুচ্চি কে এবং সে যে আসলেই আছে মুভিতে। অনেকক্ষণ ভেবে টেবে কয়েকটা কাজ করার কথা ভাবলাম। তাকে ভুজুং-ভাজুং দিয়ে কাইত করতে হবে, আমার স্টুপিড ইগোকে কুঁত করে গিলে ফেলতে হবে এবং প্রপোজ করার কাজটা এই বেলা কমপ্লিট করতেই হবে তাতে সে শয়তান, হারামি, সুযোগ-সন্ধানী যা ইচ্ছা ভাবে ভাবুক আমাকে। কিচ্ছু আসে যায় না। তাকে পাওয়া নিয়ে কথা।

যাই হোক, মনিকা থাকুক আর না থাকুক, ম্যাট্রিক্সের একটা ব্যাপার অসম্ভব ভালো লাগে সেটা হল এই রিয়েল এবং ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড ব্যাপারটা। কেমন না? সবাই আছে এক প্রোগ্রাম ওয়ার্ল্ডে, কেউই বুঝতে পারছে না কোনটা রিয়েল ওয়ার্ল্ড আর কোনটা ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড। আজকের লেখাটার সাথে এই ব্যাপারটার একটু কানেকশন আছে। হলোগ্রাম দেখেছেন নিশ্চয়ই। আপনার ইনফর্মেশন গুলো নিয়ে একটা প্রজেক্টর থেকে আপনাকে ভার্চুয়ালি রিক্রিয়েট করে। যাকে করা হচ্ছে সে হয়তো কিছুই বুঝতে পারছেনা। বিয়ের দাওয়াত খাবার পরে ভাবছে সত্যি সত্যি মনে হয় তার দাতের ফাকে একটা হাড়ের টুকরা বেধে আছে কিন্তু আসলে একজন তাকে এই ইনফর্মেশনটা ফিড করছে, ফিল করতে বাধ্য করছে যে তার এখন এটা মনে হবে। ইন্টারেস্টিং না? ভাবেন তো, আপনি, আমি, এই পুরো ওয়ার্ল্ড, পুরো ইউনিভার্স আসলে একটা হলোগ্রাম? কেমন লাগবে? আমরা কি রিয়েল ওয়ার্ল্ডে আছি নাকি অন্য একটা রিয়েল ওয়ার্ল্ড আছে? আমরা আসলে কি প্রজেকশন কিছু ইনফর্মেশনের?

আজকের টপিকটা এই ওয়ার্ল্ড যে একটা হলোগ্রাম এবং হলোগ্র্রাফিক প্রিন্সিপাল থিওরী কি জিনিষ সেটা একটু আবছা ভাবে দেখব। এটার খুব সলিড এবং ভ্যালিড ম্যাথমেটিক্যাল ফর্ম এখন আছে। তাই এটা মোটেও ভুয়া না এবং অন্য একটা লাভ ও আছে এটা জেনে। কারো সাথে রাগারাগি হল, কথা দিয়ে কথা রাখতে পারলেন না, ১০ টার কথা বলে ১২ টায় গিয়ে উপস্থিত হলেন, ধুর ধুর, এই এক্সকিউজ দিয়ে দেবেন। বলবেন, হলোগ্রামের ভিতরে আছি, কোনটা রিয়েল কোনটা ভার্চুয়াল এটা বুঝতে বুঝতেই দেরী হয়ে গেলো? আর এটা তো আগে থেকে কেউ একজন প্রোগ্রাম করে ঢুকিয়ে দিয়েছে, আপনার কি দোষ? এতো রাগারাগির কিছু নেই।

৷৷ শুরুর কথা ৷৷

ওয়ার্ল্ড যে একটা হলোগ্রাম এবং এই যে হলোগ্রাফিক প্রিন্সিপাল থিওরী এটা ইনিশিয়ালি শুরু হয়েছিলো স্টিফেন হকিং’র একটা বিখ্যাত কাজ দিয়ে। উনি ১৯৭০ সালে ওনার ফেমাস ব্ল্যাক হোলের রেডিয়েশন থিওরী প্রোপজ করেন। আর বোঝেনই তো ইন্টারনেটের অবস্থা। কোন মতামত দিলেন তো হইছে। এক্কেবারে দলবল নিয়া আইসা ঝাপায়া পড়ব মানুষজন। তবে এটাতে যে সবসময় খারাপ হয় তা কিন্তু না। বরং তর্ক বিতর্কের ভিতর দিয়ে অনেক ভালো কিছু বেড়িয়ে আসে। যেমন এই ক্ষেত্রে বেড়িয়ে এসেছিলো। তো, উনি কি এমন বলেছিলেন যে এতো দলবল নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে হবে? ওনার থিওরীর বটম লাইন ছিল যে কোন একটা বস্তু যদি ব্ল্যাক হোলের ভিতরে চলে যায় তাহলে সেটা এই ইউনিভার্স থেকেই হারিয়ে যায়। কারন ব্ল্যাক হোল গুলো সময়ের সাথে সাথে আস্তে আস্তে তার ম্যাস লুজ করতে শুরু করে রেডিয়েশনের মাধ্যমে এবং এটাকেই বলে হকিং রেডিয়েশন। ম্যাস লুজ করতে শুরু করলে যেটা হবে যে একটা বড় ব্ল্যাক হোল আস্তে আস্তে ছোট হতে থাকবে এবং একসময় ইউনিভার্সে মিশে যাবে বা তার কোন অস্তিত্বই থাকবে না।

এটা শুনতে সহজ শোনালেও একটা ভেজাল আছে। মনে করেন একটা হাতুড়ি ব্ল্যাক হোলের ভিতরে ঢুঁকে পড়লো। আর আমরা তো জানি ব্ল্যাক হোলের ভিতরে ঢুকলেই সব জিনিষ তার সিঙ্গুলারিটির দিকে মালকোঁচা দিয়ে দৌড়াতে থাকে এবং ওখানে ঠিক ঠিক কি হয় সেটা আমরা জানিনা তবে এটা জানি যে হাতুড়িটা তার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পার্টিক্যালে কনভার্ট হয়ে প্রচণ্ড টানে সিঙ্গুলারিটীতে গিয়ে মিশে যাবে। তো মিশে গিয়েও সে কিন্তু শেষ হলনা কারন সে সিঙ্গুলারিটিতে আছে। এটা আমরা না দেখলেও জানি। সমস্যা হচ্ছে হকিং’র কথা সত্যি হলে তো আস্তে আস্তে ব্ল্যাক হোলটাই ভ্যানিস হয়ে যাবে। তাহলে যেই হাতুড়িটা এখানে ঢুকল সেটা এবং এটা যেই ইনফর্মেশন গুলো ক্যারি করছিলো সেগুলো ও হারিয়ে যাবে। কারন কোন ব্ল্যাক হোল নেই মানে কোন সিঙ্গুলারিটিও নেই। এই ব্যাপারটা আসলে ফিজিক্সের একটা ফান্ডামেন্টাল হাইপোথিসিসকে ব্রেক করে। সেটা হল ইনফর্মেশন কখনও নষ্ট হবে না। এই ইউনিভার্সে যেই ইনফর্মেশন একবার ক্রিয়েট করেছে সেটা আজীবনই থাকবে। তাকে আবার যেকোনো সময় ইচ্ছা করলেই রিকন্সট্রাক্ট করা যাবে। তো এখন যদি ইনফর্মেশনটা ব্ল্যাক হোলে যাবার পরে হারিয়ে যায় তাহলে তো বলা যায় ফিজিক্সের এই ফান্ডামেন্টাল হাইপোথিসিসটা সত্যি না। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এতো যুগের ফিজিক্স কি ভুল একটা ধারনার উপর দাড়িয়ে আছে? এখানেই যত সমস্যা বাধল। এই একটা পয়েন্টেই প্রায় ৩০/৪০ বছর ধরে বিতর্ক হয়েছে এবং এই বিতর্কের এক পর্যায়ে গিয়ে এই ওয়ার্ল্ড যে হয়তো একটা হলোগ্রাম হতে পারে এবং হলোগ্রাফিক প্রিন্সিপাল থিওরী সামনে এসেছে। কথায় আছে না শেষ ভালো যার সব ভালো তার। তাই শেষেই নাহয় এই প্রিন্সিপালটা কি জিনিষ সেটা কপচাই এবং তার আগে কিছু জরুরী ব্যাপার জেনে নি। কারন এটা জানার আগে ইনফর্মেশন বলতে আসলে একজন ফিজিসিস্ট কি বোঝেন সেটা জানা খুব বেশী রকমের জরুরী।

৷৷ ইনফর্মেশন কি ৷৷

মনে করেন আপনি আপনার কম্পিউটারের মনিটরে লিখলেন “আইজকা তরে খাইছি”। এটা তো আসলে বেশ কিছু ইনফর্মেশনের একটা কালেকশন, একটা সেনটেন্স, একটা মেসেজ তাই না? একজন ফিজিসিস্টের কাছে অবশ্য এই ইনফর্মেশন/সেনটেন্স/মেসেজ দাড়া ফিজিক্যালি ঠিক কি বোঝাল সেটা মোটেও জরুরী না। আপনি চাইনিজে লিখতে পারেন, রাশিয়ানে লিখতে পারেন, বোঝেন কি না বোঝেন এটা মোটেও জরুরী না। যেটা জরুরী সেটা হল এই ইনফর্মেশন সম্পন্ন লেখাটা লিখতে একটা নিদ্রিস্ট নাম্বারের লেটার লাগে এবং তাদের একটা সিকোয়েন্স থাকে। এই লাইনটাকে কতগুলো ইনফর্মেশন আছে এটা আপনি মোর্স কোডে কনভার্ট করে বের করতে পারেন। মানে ডট-ডট ড্যাস-ড্যাস দিয়ে। মনে করেন, এটা লিখতে সব মিলিয়ে ৭ টা ডট আর ৮ টা ড্যাস লাগলো। এখন একটা ডট অথবা একটা ড্যাসকে যদি একটা বিটস ভাবি তাহলে বলা যাবে যে এই লাইনটাতে ইনফর্মেশনের পরিমান ১৫ বিটস। আর এটা খুব স্বাভাবিক কনসেপ্ট। যেমন মনে করেন কম্পিউটারে কোন ওয়ার্ড লেখার পর প্রথমে কম্পিউটার ভাউ বাইনারি (১ অথবা ০) তে এই ইনফর্মেশনটা কনভার্ট করে তার নিজের মেমোরিতে নিয়ে কাজ কারবার যা করার করে। রম বা রেম টাইপ কিছু একটা আছে যে, ওটাতে।

৷৷ হলোগ্রাম এবং হলোগ্রাফিক প্রিন্সিপাল ৷৷

এখন একটু ভেজাইল্যা একটা কথা বলি। আপনি কি এই লাইনটা ডিলিট করে দিতে পারবেন বা ডিলিট করলে কি হয় এটা জানেন? হাসছেন নিশ্চয়ই। শালার, কতো দুষ্টু মুভি, ছবি ডিলিট করলাম, হালায় আইছে? অবশ্যই পারব। এটা ঠিক। আপনি শিফট ডিলিট করে দিতে পারেন। লাইনটা রিসাইকেলেও থাকলো না। আর এটা তো আপনাকে করতেই হবে কারন আপনার কম্পিউটারের একটা নিদ্রিস্ট মেমোরি আছে বা বলতে পারেন স্পেস আছে যেটা একটা নিদ্রিস্ট পরিমানের ইনফর্মেশন রাখতে পারে। তার বেশী হলে আসলে সে আর রাখতে পারবে না। তাহলে আপনাকে কিছু ইনফর্মেশন ডিলিট করতেই হবে যদি নতুন ঢুকাতে চান কম্পিউটারের স্পেস ফিলআপ হয়ে যাবার পর। আর ডিলিট করলে ফিজিসিস্টদের মতে এটা কম্পিউটার থেকে ডিলিট হয় কিন্তু কোন না কোন এক ভাবে এই ইনফর্মেশন গুলো এনভায়রনমেন্টে চলে যায়। এটা হতে পারে কম্পিউটারের বডি, প্লাস্টিক বা কম্পিউটারের বাইরের এনভায়রনমেন্টে। আর যখন আমরা এভাবে ইনফর্মেশন ডিলিট করতে থাকি এবং যেহেতু ইনফর্মেশন গুলো কখনই লস্ট হতে পারেনা তাই এরা এনার্জি হয়ে ছড়িয়ে পরে এবং এই এনার্জি থেকে হিট জেনারেট হয়। এই কারনেই আপনার কম্পিউটারকে অবশ্যই ঠাণ্ডা রাখতে হয়। কুলিং ওয়ার্ডটা এমনি এমনি আসেনি। হে হে হে।

এখন আসি আসল কথায়। হলোগ্রাফিক প্রিন্সিপালের মতে এই যে হাতুড়িটা ব্ল্যাক হোলের ভিতরে ঢুঁকে গেলো, এটা তার ইলেকট্রন প্রোটন নিয়ে ঢুঁকে গেছে ঠিক আছে কিন্তু তার ইনফর্মেশন গুলো ব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজনে থেকে যাবে। ইভেন্ট হরাইজন হচ্ছে ব্ল্যাক হোলের আউটার সার্ফেস ভেবে নিতে পারেন। অথবা এভাবে ভাবতে পারেন, ব্ল্যাক হোল ইউনিভার্সের যেখানেই থাকুক না কেন সেই জায়গাটাকেই একটু ডাবিয়ে দেয়। মানে ওই ইউনিভার্সের স্পেসটাকে একটা ফানেলের সেইপ দেয় যে ফানেলের চুঙ্গার মতো দিকটাতে হচ্ছে সিঙ্গুলারিটি। তো এই ফানেলকে যদি ব্ল্যাক হোল ভাবেন তাহলে ফানেলের যেই আউটার সারফেসটা বা এক্সপান্ড যে দিকটাতে আমরা তেল ঢালি সেই এক্সপান্ড সার্ফেসের উপরের বাইরের দিকটাকে ইভেন্ট হরাইজনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। আর কীভাবে বোঝানো যেতে পারে মাথায় আসছে না। এখন কিন্তু ব্যাপারটা একটু ইন্টারেস্টিং হয়ে গেলো। কারন ব্ল্যাক হোলের বা যেকোনো কিছুর সার্ফেস তো আসলে টু-ডাইমেনশনাল। তাহলে খেয়াল করেন ব্ল্যাক হোলের ভিতরে থাকলো একটা থ্রি-ডাইমেনশনাল অব্জেক্ট (আপনার হাতুড়ি) আর সেই একই অব্জেক্টের সমস্ত ইনফর্মেশন জমা থাকলো একটা টু-ডাইমেনশনাল সার্ফেসে। এটা শুনতে একটু ঝামেলা মনে হলেও আসলে আমরা অহরহই দেখি। থ্রি-ডাইমেনশনাল আর্ট দেখেছেন নিশ্চয়ই রাস্তায় অথবা ছবিতে। আর বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই যে আপনি তাকিয়ে আছেন একটা অব্জেক্টের দিকে যার দৈর্ঘ, প্রস্থ এবং উচ্চতা সবই বুঝতে পারছেন এবং অবশ্যই আছে কিন্তু এটা আকা হয়েছে একটা প্রিস্ঠায় যার শুধু দৈর্ঘ এবং প্রস্থ আছে কিন্তু কোন উচ্চতা নেই, অর্থাৎ টু-ডাইমেনশনাল। আর একভাবে বললে আপনি একটা থ্রি-ডাইমেনশনাল অব্জেক্ট দেখলেন টু-ডাইমেনশনাল অব্জেক্টের সার্ফেসে। নাটক তো আমরা দেখি নাকি? সবাই কোমর দুলিয়ে বিশাল নাচানাচি করে এবং আপনি বুঝতেও পারেন তারা মানুষ এবং মানুষ তো থ্রি-ডাইমেনশনাল। অথচ পুরোটাই দেখছেন একটা পর্দায় যেটা একটা টু-ডাইমেনশনাল সারফেস ছাড়া আর কিছু না। তার মানে একটা থ্রি-ডাইমেনশনাল অব্জেক্টের ইনফর্মেশন গুলো একটা টু-ডাইমেন্সনে থাকতে পারে কিন্তু ওই থ্রি-ডাইমেনশনাল অব্জেক্টের সেটা বোঝার কোন কায়দা নেই যে সে কি রিয়েল নাকি ভার্চুয়াল। এখন টিভির ভিতরের মানুষগুলোর জীবনকে আপনি আপনার জীবন ভাবেন এবং খেয়াল করেন আপনার যে ইনফর্মেশন গুলো জমা আছে সেগুলো জাস্ট একটা সম্প্রচার কেন্দ্র থেকে প্রজেকশন করা হচ্ছে কিন্তু টিভির ভিতরের মানুষগুলো অর্থাৎ আপনি সেটা কিছুই বুঝতে পারছেন না।

এবার এটা ভাবেন আমাদের এই ইউনিভার্সের ক্ষেত্রে। আমরা মানুষ এবং আমরা একটা থ্রি-ডাইমেনশনাল অব্জেক্ট। এখন ভাবেন হয়তো এই ইউনিভার্সের একটা শেষ সীমানা আছে। ধরেন ওই শেষ সিমানাতে আমি এখন যেগুলো লিখছি এই ইনফর্মেশন গুলো জমা আছে। একটু ভাবেন। এই আমি, এই যে বসে লিখছি, এই পুরো ইউনিভার্স, এই ইনফর্মেশন গুলো ওই টু-ডাইমেন্সনে জমা আছে। কেউ একজন এখানে জাস্ট একটা প্রজেকশন ফেলছে এবং আমার মনে হচ্ছে আমি, এই যে লিখছি, এই ইউনিভার্সটা দেখছি এটাই রিয়েল কিন্তু যে প্রজেকশন ফেলছে সে জানে এসবই একটা প্রজেকশন। আরও একভাবে বলি, মনে করেন আমি ব্ল্যাক হোলের ভিতরে বসে এটা লিখছি। এই থিওরী মতে মতে আমার এই লেখার সমস্ত ইনফর্মেশন ব্ল্যাক হোলের সার্ফেসে জমা আছে। এখন ব্ল্যাক হোলটাকে ইউনিভার্স, ব্ল্যাক হোলের ভিতরে আমার থ্রি-ডাইমেনশনাল জীবন এবং ব্ল্যাক হোলের সার্ফেসটাকে এই ইউনিভার্সের শেষ সিমানা ধরেন মনে মনে। তাহলেই সম্পর্কটা বুঝতে পারবেন কেন হলোগ্রাম বলা হচ্ছে আমার জীবনকে। আমি নিজেকে থ্রি-ডাইমেনশনাল অব্জেক্ট ভাবছি, সেভাবেই জীবন যাপন করছি এই ইউনিভার্সে কিন্তু আমি একটা টু-ডাইমেনশনাল সার্ফেসের কিছু ইনফর্মেশনের প্রজেকশন ছাড়া আর কিছুই না। আর এটাই ছিল যে এই পুরো ওয়ার্ল্ডটা আসলে একটা হলোগ্রাম এটা ভাবার মুল কারন এবং এটাই হলোগ্রাফিক প্রিন্সিপালের মুল কথা।

৷৷ ইনফর্মেশন এবং আমরা ৷৷

ইনফর্মেশন কখনও লস্ট হয়না। এটা সত্যি এবং এর উপরে চরম সত্যি আর কিছু নেই। তাই ঘরের মানুষের সাথে রাগারাগি করার আগে ১০০০ বার চিন্তা করা দরকার। আমি নিজে সবসময় পারিনা কিন্তু চেষ্টা তো করতে হবে পারার। তার ভালোবাসা আমি কষ্ট দেবার পরেও অবশ্যই একই রকম থাকবে কিন্তু এই কষ্ট দেবার ইনফর্মেশনটা থেকেই যাবে। আমি হুট করে রেগে গিয়ে অনেক সময় তূরকে ঝাড়ি মারি। আমার ছোট্ট পরীটা তারপরেও যখন আমার দিকে তাকিয়ে হাসে, চুমু দেয়, কোলে আসে তখন আর সব বাবার মতো আমারও প্রচণ্ড মন খারাপ হয়ে যায়। খারাপ মানুষকে ক্ষমা করে দেবার ক্ষমতা আল্লাহ মনে হয় শুধু এই ছোট বাচ্চাদেরই দিয়েছেন।

লেখক: মোঃ আরিফুজ্জামান (সুমন) পেশায় একজন প্রকৌশলী এবং অবসর সময়ে ফিজিক্যাল কসমোলজী নিয়ে পড়তে ভালবাসেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশু এবং গর্ভবতী মায়েদের অধিকার আদায়ে যুক্ত থাকতে পছন্দ করেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image