৷৷ কথোপকথন ৷৷
ছেলেঃ হ্যালো, কি অবস্থা?
মেয়েঃ এই তো। তুই কেমন আছিস?
ছেলেঃ হা, ভালো। তোমাকে যে মেসেজটা পাঠাইছিলাম গতকাল রাতে, পাইছিলা?
মেয়েঃ হা, বইটা বেশ ভালই কাজে লাগছে। পারলে আরও কয়েকটা পাঠাস।
এই পর্যায়ে যদি আপনার মাথায় মশার সমান ঘিলুও থাকে তাহলে বুঝে গেছেন যে মেয়েটা একটা আনকমফোর্টেবল এনভায়রনমেন্টে আছে যেখানে তার পক্ষে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা সম্ভব না। তখন আপনি যদি আমার মতো একজন নির্যাতিত এবং সংগ্রামী পুরুষ হন, তো কি করবেন? বন্ধুয়ারে করো তোমার মনে যাহা লয় কিন্তু আমি হলে ব্যাপারটা এভাবে ঘটতো।
আমিঃ ও, আচ্ছা, আচ্ছা। কেন? কাতলা মাছের মতো মুখটা দিয়া এখন কোন কথা বাইর হয়না। হয় না কেন?
সেঃ শোন, আমি এখন রাখি। পরে একসময় কথা হবে।
আমিঃ তাতো রাখবাই। এখন তো স্পিকটি নট। ফাজিল মাইয়া।
সুযোগ ভাই জীবনে বার বার আসেনা। একবার যখন এসেছে, কাজে লাগানোই উচিত। যা মনে ছিল কিন্তু তার কথার ব্রাশ ফায়ারের তোড়ে কোনদিন বলা হয়নি, সব ফটাফট ঝেড়ে দিবো। পরে না হয় নাকে খত দিয়ে, পা ধরে রাগ ভাঙ্গাবো। অন্তত কিছু সময়ের জন্য তো বুকের জ্বালা একটু হলেও মিটলো, এটাই অনেক। জন্ম থেকেই জ্বলছি আর কেরোসিন অনেক দামী।
৷৷ এনালোজী ৷৷
উপরের কাহিনী যদি বুঝতে পারেন তাহলে এটার সাথে ডার্ক ম্যাটেরের বিশাল সম্পরকটা নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন। বলি কিভাবে। নরমালি আপনি যদি একটা গ্যালাক্সীর ম্যাস জানেন তাহলে এর থেকে একটা নিদ্রিষ্ট দুরুত্তে একটা গ্রহ ঠিক কতো স্পীডে ঘুরবে এটা ক্যালকুলেশন করে বের করে দিতে পারবেন। তো রিসার্চাররা কিছু গ্যালাক্সী অবজার্ভেশন করে দেখলো যে থিউরিটিক্যালী যেই স্পীডে একটা গ্রহের ঘোরার কথা তার চেয়ে অনেক বেশী স্পীডে সেটা ঘুরছে গ্যালাক্সীটাকে কেন্দ্র করে। এর কারনটা কি? তারা আবার থিউরীতে ব্যাক করলো। অনেকদিন পরে বের হলো যে এটা একমাত্র সম্ভব যদি গ্যালাক্সীটার ম্যাস আরও অনেক, অনেক বেশী হয়। যদি হয় তাহলে গ্রহটা থিউরিটিক্যালী যে স্পীডে ঘোরার কথা আর অবজার্ভেশন করলে যেই স্পীড পাওয়া যাচ্ছে, দুটোই মিলে যাচ্ছে। খুব স্বাভাবিক ভাবেই কি বলা যায়না যে আসলে এই গালাক্স্যীটার অল্প কিছু ম্যাস মাত্র আমরা দেখতে পারছি কিন্তু এর চেয়ে কয়েকগুন বেশী ম্যাস আছে যেটা আমরা সেটা দেখতে পারছি না। এই যে, যে ম্যাসটা দেখা যাচ্ছে না এটাকেই প্রথমে বলা হলো মিসিং ম্যাটার এবং পরে নামকরন করা হলো ডার্ক ম্যাটার। মানে ম্যাটারই তো আসলে ম্যাস তৈরী করে একটা অবজেক্টের। তো এখন উপরের উদাহরনে মেয়েটাকে গ্যালাক্সী, নিজেকে গ্রহ এবং মেয়ের মা/বাবাকে ডার্ক ম্যাটার ভাবেন। এর পড়ে মিলিয়ে নেন এবং বোঝার চেষ্টা করেন ডার্ক ম্যাটার কি জিনিষ এবং কিভাবে ইনডিরেক্টলী আমরা এটা বুঝি।
ডার্ক ম্যাটার এর ইম্পাক্টটা কি সেটা আসলে সবচেয়ে ভালো বোঝা যায় এই গ্রহ গুলোর ঘোরাঘুরি থেকে। ধরেন নিউটন এবং আইন্সটাইন দুজনেই একটা বিষয়ে একমত ছিলেন যে একটা অবজেক্ট এর যত বেশী ম্যাস হবে (ডার্ক ম্যাটার সহ) সে তত বেশী গ্রাভিটেশনাল পুল (টানা) ক্রিয়েট করবে আসে পাশের গ্রহ গুলোর উপরে। মনে করেন, সুর্যের এখন যেই ম্যাস তার থেকে যদি বেশী হতো তাহলে আমাদের ৩৬৫ দিনে বছর না হয়ে হয়তো ২৬৫ দিনে হতো কারন প্রিথীবি সুর্যকে কেন্দ্র করে আরও জোরে ঘুরত। এবং এই গ্রাভিটেশনাল পুলের কারনেই সুর্যের কাছাকাছি গ্রহ গুলো (যেমন বৃহস্পতি) জোরে ঘোরে এবং দুরের গ্রহ গুলো (প্লুটো) আষ্তে আষ্তে ঘোরে এবং অনেক বেশী সময় নেয় সুর্যকে প্রদক্ষিন করতে।
৷৷ পরিমান ৷৷
এখানে একটা ব্যাপার উল্লেখ না করলেই না। ভিজিবল ম্যাটার জিনিষটা হলো আপনি যেই জিনিষটা চোখে দেখতে পারেন বা বুঝতে পারেন। এই ক্ষেত্রে ধরেন এই কথোপকথন। এটা আপনি বুঝতে এবং শুনতে পারছেন, এটাকে আপনি ভিজিবলী ফীল করতে পারছেন। আর ডার্ক ম্যাটার তো মনে হয় বুঝতে পেরেছেন যে ইনভিজিবল ম্যাটার। যেটা শুধু ফীল করা যাচ্ছে কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। মাইয়ার বাবা/মায়ের মতো। এই ইউনিভার্সে ভিজিবল ম্যাটারের পরিমান হচ্ছে ৪.৯% এবং ডার্ক ম্যাটের এবং ডার্ক এনার্জী যেটা এই ডার্ক ম্যাটারের সাথে রিলেটেড সেটা হলো ৯৫.১%। একটু ভাবেন। এতো দিন এতো, এতো কিছু জেনে আমরা আসলে মাত্র এই ৪.৯% এর ভিতর আছি এমনকি এটাও পুরোপুরি আমরা এখনও জানিনা। বাকি ৯৫.১% এর ব্যাপারেই আমাদের কোন ধারনাই নেই। হে হে হে। এইটুকু জেনেই কি মারামারি, ভুলেই যাই যে জীবনের গল্প, জেনেছো অনেক অল্প গানটা অনেক আগেই জাফর ইকবাল গেয়ে গিয়েছেন।
৷৷ কিভাবে বোঝে মানুষ ৷৷
একটা ব্যাপার জানাতেই হবে কারন এখানেও আইন্সটাইন এর কথা চলে আসবে। ধরেন আমি তো এই সুযোগের জন্য ওৎ পেতে বসে থাকি। এই যে আপনি কোন মতেই দেখতে পারছেন না কিন্তু বুঝতে পারছেন ওখানে কিছু একটা আছে এটা কিন্তু আইন্সটাইন এর জেনারেল রিলেটিভিটীর একটা প্রেডিকশন দিয়েই বের করা হয়। ব্যাপারটা এই রকম যে মনে করেন আপনি একটা ইট এক জায়গাতে রাখলেন। এখন এক দিক দিয়ে যদি লাইট ফেলেন তাহলে লাইটটা ইটকে ফুটো করে যেতে পারবেনা। লাইটটা যেটা করবে সেটা হচ্ছে, একটু বেকে গিয়ে আবার সোজাসুজি যাওয়া শুরু করবে। এই যে একদম লে-ম্যান টাইপের উদাহরনে লাইটটা একটু বেকে গেলো, এখান থেকে গ্রাভিটেশনাল লেস্নিং ইউজ করে আপনি ইটের ম্যাস কতো বলে দিতে পারবেন। গ্রাভিটেশনাল লেস্নিং কি জিনিষ এটা আমাদের শুধু এতোটুকু জানা থাকলেই চলবে যে এই ব্যাপারটা হচ্ছে এভাবে লাইটের বেকে যাওয়া এবং একটা জিনিষের ম্যাস বের করার মতো কাজ করতে যেই থিউরী আমরা ইউজ করি সেটা। এখন মনে করেন এটা ইট না হয়ে একটা বিশাল গ্যালাক্সী এবং অনেক দূর থেকে লাইট এই গ্যালাক্সীকে পাশ কাটিয়ে আসছে। তাহলে এই মেথড দিয়ে আসলে আপনি গ্যালাক্সীটার ম্যাস কতো হবে সেটা বের করে দিতে পারলেন। এখন যদি দেখেন যে ভিজিবল ম্যাটারের পরিমান দিয়ে যেই ম্যাস হবার কথা তার তিন ভাগের ১ ভাগ তাহলে চোখ বন্ধ করে আপনিও বলে দিতে পারবেন যে এখানে বাকি ২ ভাগ হচ্ছে ডার্ক ম্যাটার। এভাবেই রিসার্চাররা মোটামুটি ইউনিভার্সের একটা ডার্ক ম্যাটার ডিষ্ট্রিবিউশনের মডেল দাড়া করিয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত সেটা ভ্যালিডই পাওয়া গেছে।
৷৷ কি দিয়ে গঠিত ৷৷
ডার্ক ম্যাটারের পারটিক্যাল গুলোকে ধারনা করা হয় যে প্রচণ্ড ভারি এবং এদের এতই ক্ষমতা যে এরা একটা গ্যালাক্সী কিভাবে ঘুরবে সেটাও ডিফাইন করে দিতে পারে। স্বভাবতই জানতে ইচ্ছা করবে এটা কি দিয়ে তৈরী। কি পারটিক্যাল এটা যে এতই ক্ষমতা? সমস্যা হলো আপনি একটা ইট কোথাও দেখলে হয়তো বলে দিতে পারেন এই ইটটা আসলে এই এই পারটিক্যাল দিয়ে তৈরী কিন্তু ডার্ক ম্যাটারের বেলায় সেটা বোধহয় এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ওঠেনি কারন এই পারটিক্যাল কোন লাইট এর সাথে ইন্টারিয়াকশন করে না, কোন ম্যাটের এর সাথে না, কোন লাইট এর এমিট ও করে না। এখন কিছু দেখতে হলে তো আসলে তাকে লাইট এর সাথে ইন্টারাক্ট করতে হবে, তাই না? তারপরেও মানুষ এটা প্রথমে ভেবেছিল নিউট্রিনো নামের পারটিক্যাল দিয়ে তৈরী। কিন্তু নিউট্রিনো আপনি ল্যাবরেটরীতে ক্রিয়েট করতে পারেন এবং এটা দেখাও যায়। বাদ দেয়া হোল। তারপর মানুষ ভাবলো এক্সিয়ন এর কথা। সেটাও বাদ গেলো যদিও এই পারটিক্যাল বিগ ব্যাং যখন হয়েছিলো ঠিক তখন তৈরী হয়েছিলো এবং ডার্ক ম্যাটার ও তখন তৈরী হয়েছিলো বলে ধারনা করা হয়। ফাইনালী হচ্ছে WIMP। এখন পর্যন্ত আমি যতটুকু জানি রিসার্চাররা ভাবছে WIMP-ই সেই পারটিক্যাল যেটা দিয়ে আসলে ডার্ক ম্যাটার ফর্ম করেছে যদিও কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। হে হে হে।
৷৷ কিভাবে মানুষ এটা খুজছে ৷৷
আমরা তো মানুষ। একভাবে না একভাবে আমারা ঠিকই বের করার চেষ্টা করি, কেইসটা কি? হয়তো ভাবছেন আমরা আকাশের দিকে তাকিয়ে খোজার চেষ্টা করি। তা কিন্তু না। মানুষ এটা খুজতে চলে গেছে মাটির নিচে। ম্যাক্সিমাম ডার্ক ম্যাটার খোজার জন্য ল্যাবরেটরী গুলো হলো আনডারগ্রাউন্ড। শুনেই আবার ডন-ফন ভাববেন না। এরাও ডন কিন্তু অন্য রকম ডন, ভালো ডন। যেমন একটা উদাহরন হলো সুদান ন্যাশনাল ল্যাবরেটরী। হা হা হা। উদাহরন দিতে গিয়ে হাসি লাগছে। এইখানে কোন ধর্মের ব্যাপার নাই। আসলেই ওরা বেশ বিখ্যাত। ল্যাবরেটরীটা প্রায় ২৪৩১ ফুট মাটির নিচে। একটা পরিত্যাক্ত লোহার মাইন ছিলো জায়গাটা আমার যতদূর মনে পড়ে। আর মাটির নিচে যাবার আসল উদ্দেশ্য হলো যাতে এক্সপেরিমেন্টটাকে কোন আন-ওয়ান্টেড রেডিয়েশন থেকে পুরাই দূরে সরিয়ে রাখা যায়। মানে আপনি যত এই এক্সপেরিমেন্ট একটা পিওর এনভাইরনমেন্টে করতে পারবেন ততই এটা সাকসেসফুল হবার সম্ভবনা বেড়ে যাবে। এই কারনেই এতো আইসোলেটেড রাখার চেষ্টা। এভাবে ভাবতে পারেন, যত বেশী রেডিয়েশন, তত বেশী সংখ্যক পারটিক্যালের ভিতর থেকে আপনাকে একটা নিদ্রিষ্ট পারটিক্যাল খুজে বের করতে হবে কিন্তু রেডিয়েশন কম তো পারটিক্যাল ও কম তাই খুজে পাওয়ার সময় কমলো এবং সম্ভবনা অনেক বেড়ে গেলো।
তারা একটা মেশিন আবিষ্কার করেছে যেখানে যদি সাব জিরো টেম্পারেচারে কোন পারটিক্যাল পাস করে তাহলে মেশিনটার টেম্পারেচার একটু বেড়ে যাবে এবং ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ত ধরা পরবে। মানে এই রকম যে ডার্ক ম্যাটার তো ধরেন সারাক্ষনই পৃথিবীতে আসছে। কিন্তু এরা কারো সাথে ইন্টেরাক্ট করছে না। তাই তারা জারমেনিয়াম এর একটা পরদা মতো একটা জায়গায় টানিয়ে রেখেছে। আর এই পর্দাটাতে অনেক টেম্পারেচার সেন্সর লাগানো আছে। আর জারমেনিয়াম এর এটম গুলো খুবই ঘন। তাই যদি কোন ভাবে কোন ডার্ক ম্যাটারের পারটিক্যাল এই জারমেনিয়ামের পর্দায় আঘাত করে তাহলে এই পর্দাটায় যেই টেম্পারেচার সেন্সর গুলো লাগানো আছে সেগুলো নরমাল টেম্পারেচারের চেয়ে এক সেকেন্ডের জন্য হলেও একটু হাই টেম্পারেচার দেখাবে। আপনি তখন সেই ডাটা গুলো নিয়ে এনালাইসিস করবেন এবং বোঝার চেষ্টা করবেন যে ডার্ক ম্যাটারের পারটিক্যাল গুলোর প্রপার্টি যেই পারটিক্যালটা মাত্রই পাস করেছে তার সাথে মিলে যায় কিনা। যদি পেয়ে যান তাহলে তো কেল্লা ফতে। আমার এটা যতবারই শুনি ততবারই খুব খারাপ লাগে। চিন্তা করেন যেই মানুষগুলো এই কাজগুলো করছে গত ১২ বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে, প্রতিদিন এরা ল্যাবে আসে এটা ভেবে যে আজ হয়তো একটু ভিন্ন কিছু দেখবো, একটু অন্য রকম। কিন্তু কিচ্ছু পায় না। আবার রাতে বাসায় যায় বা ল্যাবেই বসে থাকে মনিটরের দিকে তাকিয়ে। এরা আমার মতো অল্পতেই ভেঙ্গে পড়েনা এবং কিভাবে এটা এরা অর্জন করেছে কে জানে।
৷৷ টেইক এওয়ে ৷৷
সায়েন্টিষ্টদের নিয়ে যে আমার একটু হ্যাপা আছে এটার অন্যতম একটা কারন হচ্ছে এদের কোন কিছুর পেছনে লেগে থাকার ক্ষমতা। পেতেও পারে আবার নাও পেতে পারে কিন্তু আশা ছাড়ে না এবং সর্বোচ্চ চেষ্টাটা সব সময়ই থাকে। খুজতে থাকে, খুজতেই থাকে। আমি জানি এদের সবারই অনেক ভেজাল আছে। এ তাকে দেখতে পারেনা, সে এর পেপার পাবলিশ করেনা, একজন নোবেল পেয়ে গেলো তো আর একজনের মেজাজ খারাপ, নানান তাল। কিন্তু একটা কাজ যেটা এরা কেউ কোনোদিনও করে না সেটা হলো ম্যানারস নষ্ট হতে দেয়া। এরা আর একজনকে দেখতে পারেনা কিন্তু সেটা যখন বলেও, তার ভিতরেও একটা ফাইন লাইন থাকে। একটা রেসপেক্টের জায়গা থেকেই এরা প্রচণ্ড ভাবেই একজন আর একজনের কথাকে তুলোধুনো করে। অন্য সব কিছু বাদ দিয়ে আমি এদের কাছ থেকে মাত্র এই দুটো গুণই না হয় শিখলাম।
লেখক: মোঃ আরিফুজ্জামান (সুমন) পেশায় একজন প্রকৌশলী এবং অবসর সময়ে ফিজিক্যাল কসমোলজী নিয়ে পড়তে ভালবাসেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশু এবং গর্ভবতী মায়েদের অধিকার আদায়ে যুক্ত থাকতে পছন্দ করেন।







