শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
ডেস্ক সংবাদ : জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী পৌরসভায় দলের কোনো নেতা মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। এবার চট্টগ্রামের যে ১০টি পৌরসভায় নির্বাচন হচ্ছে, তার মধ্যে শুধু সীতাকুণ্ডে জামায়াতের এক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাবেক নায়েবে আমির শাহজাহান চৌধুরী সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও এই আসনের সাংসদ নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির শামসুল ইসলাম। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে সাতকানিয়ায় জামায়াত-সমর্থিত মো. জসিম উদ্দিন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
তবে এবার পৌরসভা নির্বাচনে সাতকানিয়ায় জামায়াতের কোনো নেতা প্রার্থী হননি। উপজেলা জামায়াতের এক নেতার বরাত জাণা যায় পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে জামায়াতের কোনো নেতা নির্বাচন করতে চাচ্ছেন না। সাতকানিয়ায় জামায়াত-শিবিরের শত শত নেতা-কর্মীর নামে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন।
সীতাকুণ্ডে পৌর জামায়াতের আমির তৌহিদুল হক মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা রয়েছে। অনেক দিন ধরেই তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে আসছেন না। তাঁর ছোট ভাই তরিকতুল হক চৌধুরী পৌরসভার একটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। সরকারবিরোধী আন্দোলনে সীতাকুণ্ডে নাশকতার ঘটনায় করা মামলায় জামায়াত-শিবিরের বেশির ভাগ নেতা-কর্মীর ভাই বা নিকটাত্মীয় সরকারি দলের সমর্থক বা নেতা-কর্মী।
গত উপজেলা নির্বাচনে বাঁশখালীর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমির জহিরুল ইসলাম। সরকারি দলের সাংসদ ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে বলে এলাকায় প্রচার আছে। কিন্তু এই পৌরসভায় জামায়াত এবার কোনো প্রার্থী দেয়নি।
প্রার্থী না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমরা নির্বাচন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, মিরসরাই, রাউজান, বারইয়ারহাট পৌরসভায় জামায়াত মেয়র পদে প্রার্থী দেবে শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দলের কেউ প্রার্থী হননি।
এ বছরের শুরুতে এবং ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনে এসব এলাকায় বেশ কিছু নাশকতার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের আসামি করে মামলা হয়েছে। দলের নেতা-কর্মীদের অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে সাংগঠনিকভাবে প্রার্থী দেওয়ার মতো অবস্থা এই মুহূর্তে দলটির নেই বলে জামায়াতের নেতারা জানান।




