২০১৫ : বিস্ফোরক ব্যাটিং রেকর্ডের বছর

৩১ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৯:১৯

খেলা ডেস্ক  ।।

২০১৫ : বিস্ফোরক ব্যাটিং রেকর্ডের বছর

২০১৫ সালে ক্রিকেট বিশ্বের মনোযোগ কেড়েছিল বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় উত্থান। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, ঘরের মাটিতে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে সিরিজ জয়, মুস্তাফিজুর রহমানের আলো ছড়ানো অভিষেক- সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন এক যুগেরই যেন সূচনা হয়েছে। এর বাইরে ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের রেকর্ড আর অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ধুমধারাক্কা ব্যাটিংয়ের প্রভাব যে ধীরে ধীরে ওয়ানডে ক্রিকেটেও পড়ছে, তা এ বছরের শুরুতে খুব ভালোমতো বুঝিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে দলের অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। ১৮ জানুয়ারি জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনি গড়েছেন দ্রুততম অর্ধশতক ও শতকের নতুন রেকর্ড। অথচ ২০১৪ সালের শুরুতেই ৩৬ বলে শতক করে রেকর্ডবুকে নাম লিখিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের কোরি অ্যান্ডারসন। আর এক বছর পর ডি ভিলিয়ার্স শতক করেছেন মাত্র ৩১ বলে। অর্ধশতক পূর্ণ করতে খেলেছেন মাত্র ১৬টি বল। তবে ডি ভিলিয়ার্সের এই রেকর্ডও কতদিন টিকে থাকবে, তা বলা মুশকিল। বছরের শেষভাগে এই রেকর্ডও প্রায় ভেঙেই ফেলেছিলেন নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল। ২৮ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩০ বলে ৯৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন এই কিউই ওপেনার।

ওয়ানডেতে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল বিশ্বকাপেও। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে ডাবল সেঞ্চুরি করার অনন্য রেকর্ড গড়েন ক্রিস গেইল। ১৪৭ বলে ২১৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই মারমুখী ওপেনার। গড়েছিলেন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ইনিংসের নতুন রেকর্ড। সেটিও অবশ্য খুব বেশিদিন টেকেনি। কোয়ার্টার ফাইনালে সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ২৩৭ রান করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের ওপেনার মার্টিন গাপটিল।

বিশ্বকাপে দলীয় সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ডও দেখা গেছে ২০১৫ সালে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া করেছিল ৪১৭ রান। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে চারশর বেশি রান দেখা গেছে আরো দুইবার। দুইটিই করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪১১ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪০৮ রান।

২০১৫ সাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ক্রিকেটারের বিদায়ের জন্যও। কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, মাইকেল ক্লার্ক, মিচেল জনসন, ব্রাড হাডিন, ড্যানিয়েল ভেট্টরিরা ইতিমধ্যেই বিদায় নিয়ে ফেলেছেন ক্রিকেট থেকে। অবসরের ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামও।

বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন কিছু খেলোয়াড়ের আগমনও সাড়া জাগিয়েছে ২০১৫ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা ও বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানরা আগামীতে অনেক বড় তারকা হয়ে উঠবেন বলে আশা অনেকের। ২০১৫ সালে আবার প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরেছেন স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির।

২০১৫ সালে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন অস্ট্রেলিয়ার নতুন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। ১৩টি টেস্ট খেলে ১৪৭৪ রান করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এ বছর আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও উঠেছে স্মিথের হাতে। ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন মার্টিন গাপটিল। ৩২ ম্যাচ খেলে ১৪৮৯ রান করেছেন এই কিউই ওপেনার। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি রান অবশ্য নিউজিল্যান্ডের আরেক ব্যাটসম্যান কেইন উইলিয়ামসনের। ২০১৫ সালে সব মিলিয়ে তিনি করেছেন ২৬৯২ রান।

২০১৫ সালে উইকেট নেওয়ার দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন ভারতের রবীচন্দ্রন অশ্বিন ও মিচেল স্টার্ক। টেস্টে অশ্বিন নিয়েছেন সবচেয়ে বেশি ৬২টি উইকেট। স্টার্ক ওয়ানডেতে নিয়েছেন ৪১ উইকেট।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image