তিন মঙ্গলের নতুন ইতিহাস

বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

india_52602 সিটিজি বাতর্া নিউজ ডেস্ক:মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করল ভারতের মঙ্গলযান। একবছরেরও কম সময়ে লালগ্রহের কক্ষপথে মঙ্গলবার রাত থেকেই প্রবেশ করা শুরু করে বুধবার সফলভাবে পুরোপরি প্রবেশ করে এটি। তাই এ যেন ‘তিন মঙ্গলের নতুন ইতিহাস’।


প্রথমবারের চেষ্টাতেই মঙ্গলের মাটিতে পা দিয়ে রেকর্ড গড়ল ইসরোর মঙ্গল মিশন। দেশবাসীকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার থেকেই মঙ্গলযান ছবি পাঠানো শুরু করবে ।

এ পর্যন্ত ৫১টি অভিযান হয়েছে মঙ্গলে। যার মধ্যে সফল হয়েছে মাত্র ২১টি। আমেরিকা, রাশিয়া, ইউরোপিয়ান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা মঙ্গলে সফল অভিযান করতে পেরেছে। তবে প্রথমবারে কেউই সফল হয়নি। একমাত্র ভারতই পারল।

গত ৫ নভেম্বর শ্রীহরিকোটা থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিল মঙ্গলযানের।

প্রায় ৩০০ দিন ঘুমিয়ে থাকার পর সোমবার পরীক্ষামূলকভাবে বিজ্ঞানীরা চালু করেন এটি।

অ্যাপোজি মোটর বা ল্যাম। এখন পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত গণনা মেনেই চলছে মঙ্গলযান। যানের গতি কমানোর জন্য বুধবার সকালে চালু করা হয় ল্যাম। কারণ, যানের গতি বেশি থাকলে মঙ্গলের মাধ্যাকর্ষণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। গতি কমিয়ে ঠিক ভাবে মঙ্গলযানকে কক্ষে স্থাপন করা হয়।

ইসরোর চ্যালেঞ্জ, কক্ষপথে স্থাপনের সময় মঙ্গলযানের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ২২ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ৪.৪ কিলোমিটার করা হয়।

মঙ্গলের উপবৃত্তাকার কক্ষপথের আওতায় তলে আসার পাঁচ মিনিট পর চালু করা হয় ল্যাম। ল্যাম ছাড়াও আটটি থ্রাস্টার চালু করা হয়।

ল্যাম চালু হওয়ার ঠিক আগে মঙ্গলযানের অভিমুখ শেষবারের জন্য বদল করা হয়। গতি কমতে থাকায় মঙ্গলের মাধ্যাকর্ষণের টানে লাল গ্রহের কক্ষে ঢুকে পড়ে মঙ্গলযান। সকাল ৭.১৭মিনিট থেকে ২৪ সেকেন্ড পর্যন্ত চালু ছিল ল্যাম।  

যতক্ষণ ল্যাম ও থ্রাস্টার চালু  থাকবে, ততক্ষণ  পৃথিবীর  সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে মঙ্গলযানের। যানের গতি নির্ধারিত বেগে পৌঁছলে বন্ধ হয়ে যাবে ইঞ্জিন। সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছনোর পর ফের মঙ্গলযানের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হবে ইসরোর। প্রথম দিনেই মার্স কালার ক্যামেরা চালু করে ছবি পাঠাবে মঙ্গলযান।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে পিএসএলভি সি টোয়েন্টি ফাইভে চেপে মঙ্গলের পথে রওনা দিয়েছিল ভারতের মঙ্গলযান। তারপর থেকে আশা আর আশঙ্কার দোলাচলে প্রতিটা মুহূর্ত কেটেছে ইসরোর বিজ্ঞানীদের। তবে সব প্রতিকুলতাকে ছাপিয়ে লালগ্রহের কক্ষে পৌঁছে গেল মঙ্গলযান। মহাকাশ গবেষণায় এই সাফল্য সৃষ্টি করল নতুন ইতিহাস। যাকে বলা যেতে পারে ‘মঙ্গলে মঙ্গলে মঙ্গলযান’।

সূত্র: জি নিউজ, বিবিসি, আল-জাজিরা

About Mahabubul KARIM