বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
সিটিজি বাতর্া ২৪ ডেস্ক:
৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রাক্তন মেজর জেনারেল জালাল উদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
প্রায় দেড় হাজার বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নামে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
চলতি বছরের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এবার তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধানী টিম গঠন করল দুদক।
বুধবার কমিশনের পক্ষ থেকে এই টিম গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। দুদকের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- দুদকের সহকারী পরিচালক দেবব্রত মণ্ডল ও উপসহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান।
এর আগে ভুক্তভোগীরা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে কমিশনের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান তা আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন।
দুদকে প্রাপ্ত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের অনুকূলে টাকা রাখলে কেউ কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং প্রতি মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে লাভের টাকা পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, আসল টাকা ফেরত চাওয়ার ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে। মেজর জেনারেল (অব.) জালাল উদ্দীন আহমেদের এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে বিভিন্ন আমানতকারী ওই অর্থ জমা রাখেন।
অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তার কথায় অনেকেই শেষ সম্বল পেনশনের পুরো টাকাও আমানত রাখতে দ্বিধা করেননি। প্রতি লাখে দুই হাজার টাকা লাভে জালাল উদ্দীন আহমেদের কাছে গ্রাহকরা আমানত রাখেন। এভাবে তিনি এক হাজার ৪৫১ জন বিনিয়োগকারীর মোট ৮২ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেন।
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তার ছেলে ও মেয়ের কাছে আমানতকারীদের ওই অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়।
অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, ২০১২ সালের জুন মাসে কিছুসংখ্যক গ্রাহক তাদের জামানত ফেরত চাইলে জালাল উদ্দীন আহমেদ তা দিতে গড়িমসি করেন। ডিসেম্বরে তিনি অডিটের কথা বলে ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি জামানত ফেরত দেবেন বলে জানান। ওই দিনেও তিনি জামানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হন। ২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল বিনিয়োগকারীরা টাকা ফেরত না পেয়ে জালাল উদ্দীন আহমেদের বাড়ির (রোড নং ০৮, প্লট নং ৪৩/ই, ৩২ ক্যান্ট. বাজার, ঢাকা সেনানিবাসের পাশে) সামনে একত্র হন।
ওই পরিস্থিতিতে তিনি গোয়েন্দা সংস্থা, মিলিটারি পুলিশ, লজিস্টিক এরিয়া কমান্ডার, স্টেশন কমান্ডার, প্রভোস্ট মার্শাল ঢাকা-এর উপস্থিতিতে ২০১৩ সালের ১ থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত টাকা পরিশোধ করবেন বলে মুচলেকা দেন। তবে ওই তারিখেও তিনি টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হন।
পরবর্তী সময়ে জালাল উদ্দীন আহমেদ ট্রাস্ট ব্যাংকের একটি যৌথ অ্যাকাউন্ট (জালাল উদ্দীন আহমেদ ও আমানতকারী) থেকে পাঁচ কোটি টাকা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার নামে দুটি চেক দেন। কিন্তু তার ওই অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা ছিল না।
জালাল উদ্দীন আহমেদের পাসপোর্ট ক্যান্টনমেন্ট নির্বাহী অফিসার জব্দ করেন। পরবর্তী সময়ে ক্যান্টনমেন্ট নির্বাহী অফিসার বোর্ড মিটিং ডাকলে আমানতকারীরা ও জালাল উদ্দীন আহমেদের মধ্যে চার কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপরও তিনি সময়মতো টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হন।
২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কোনো প্রকার টাকা ফেরত না দিয়েই আত্মগোপনে চলে যান জালাল উদ্দীন। তখন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে টাকা উদ্ধারের বিভিন্ন চেষ্টা করা হলেও তিনি আত্মগোপনে থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
ওই প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্ট অফিসার হিসেবে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) নুরুল আজম মণ্ডল, ম্যানেজার হিসেবে কর্পোরাল (অব.) সামসুল আলম, লোন অফিসার হিসেবে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার (অব.) জাকির হোসেন, সিইও নাজমুল হোসেন (বেসামরিক), অফিস সহকারী হিসেবে লেফটেন্যান্ট কর্পোরাল (অব.) হালিম, কর্পোরাল (অব.) হানিফ মো. এরশাদ (বেসামরিক), মো. মনির হোসেন (বেসামরিক), মো. নয়ন (বেসামরিক), মো. মাসুম (বেসামরিক), এএফএনএস নার্স নাজমা (বর্তমানে ময়মনসিংহ সিএমএইচে কর্মরত), কর্পোরাল মো. আশরাফ (অব.), ভুয়া মেজর মো. তোফাজ্জল হোসেন, তার ছেলে তালা আহমেদ, মেয়ে রাদিয়া আহমেদ, শামীম (বেসামরিক) ও কুদ্দুসকে (বেসামরিক) নিয়ে জালাল উদ্দীন ও তার স্ত্রী কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের কাজ পরিচালনা করে আসছেন।
মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের আমানতকারীদের মধ্যে মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, শিরিন আক্তার, মো. মুছা, মো. আনিছুর রহমান, মো. আবুল হোসেন সরদার, কাজল হক, মাহবুবা বেগম, মো. আবুল বাশার, দেলোয়ারা বেগম ও মো. রুহুল আমিনের মোট এক কোটি আট লাখ ৭৪ হাজার টাকা জমা রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
জালাল উদ্দীন আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ২০০৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি এবং তার স্ত্রী আলেয়া ফাতেমা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে সমবায় ব্যবসা শুরু করেন। ২০০৫ সালের ১৭ জুলাই এ সমবায়টি নিবন্ধিত হয় এবং রাজধানীর বনানীর ব্লক সি, সড়ক নং-১৭, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট নং- ৪এফ-২’তে এর যাত্রা শুরু। সূত্র রাইজিং বিডি
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper
