ব্রেকিং নিউজ

অভিবাসীদের মানুষের মর্যাদা দিন: থাই সরকারকে জাতিসংঘ

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০১৫

সিটিজিবার্তা২৪ ডেস্ক।। 

file (9)

ঢাকা ঃ জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি সাগরে ভেসে থাকা অভিবাসীদের সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অভিবাসীদেরও ‘মানুষের মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার’ রয়েছে। তাই নৌকায় থাকা অভিবাসীদের পর্যাপ্ত সুবিধা দিতে হবে।

সোমবার সকালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চ্যান-ও-চা’র সঙ্গে ফোনে কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এসময় তিনি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিষয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানান। থাই সেনাবাহিনীর উপ মুখপাত্র ওয়াইরাচন সুকনথাপ বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।এর আগে শুক্রবার জাতিসংঘ মহাসচিব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

থাই প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবকে জানিয়েছেন, তার সরকার অভিবাসী সংকটের বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ওয়াইরাচন বলেন, ‘গত সপ্তাহে থাই কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের একটি দল খুঁজে পায়। অভিবাসীরা অন্যদেশে যেতে চাওয়ায় তাদের নৌকার ইঞ্জিন মেরামত করে দেওয়া হয়। তাদের তেল, খাবার, পানি ও ওষুধও দেওয়া হয়েছে।’

সাগরে ভেসে থাকা মানুষদের নিজদেশে ঢুকতে না দেওয়ায় জাতিসংঘের নিন্দার মুখে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিন দেশ মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড। সাগরপথে মানবপাচার বন্ধের কার্যকর উপায় নিয়ে আলোচনা করবে তারা। কুয়ালালামপুরে আগামী বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই বৈঠক হতে পারে।

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী সচ্ছল জীবনের আশায় গত অক্টোবর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসী নৌকায় চড়ে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অনেকেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলেও কয়েকহাজার এখনও সাগরে ভাসছে। ওই এলাকার কোনও দেশই তাদের গ্রহণে রাজি হচ্ছে না।

মূলত অবৈধপথে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুদের সংখ্যা বেড়ে গেলে কয়েক মাস ধরে এই সংকটের শুরু হয়। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনেকের কবর থাইল্যান্ডের একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধারের পর দেশটি অভিবাসী সমস্যা মোকাবেলায় কঠোর হয়। এরপর মালয়েশিয়াগামী অবৈধ কোনও অভিবাসীকে ঢুকতে না দিতে কঠোর অবস্থান নেয় থাই সরকার। অবৈধ অভিবাসীদের বহনকারী নৌকা বা ট্রলারগুলো তখন ইন্দোনেশিয়া অভিমুখে রওনা হলে দেশটিও তাদেরও উপকূলে ভিড়তে না দেওয়ার ফলে সাগরে ভাসতে থাকে তারা।

গত এক সপ্তাহে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় তিন হাজার অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও সাগরের বুকে ভাসছে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। উদ্ধার হওয়া মানুষগুলোর কাছ থেকে জানা যাচ্ছে নিপীড়ন, অনাহার আর মৃত্যুর রোমহর্ষক সব ঘটনা।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ভিভিয়ান তান বলেছেন, এসব মানুষকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা না থাকা খুবই খারাপ সংকেত। দেশগুলো এসব মানুষ আশ্রয় না দেওয়ায় ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এসব মানুষ মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে। তাদের সাহায্য করার সময় ফুরিয়ে আসছে। আমরা আশা করছি আরও অনেক নৌকা খুঁজে পাওয়া যাবে। তাদেরকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এমনটা হতে দেখা যাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম বলছে, সময় যত যাচ্ছে এসব মানুষের অবস্থা ততই খারাপ হচ্ছে। থাইল্যান্ডে আইওএমের মিশন প্রধান জেফারি ল্যাবোভিচ বলেন, আমাদের হিসাবে এখনও পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ সাগরে আটকা পড়ে রয়েছে।

এদিকে আসিয়ানের বর্তমান চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফাহ আমান সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসার আগে তিনি এ সংকট নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আশা করছেন। তবে মিয়ানমার এখনও মালয়েশিয়ার কোনও আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত সপ্তাহে কংগ্রেসে বলেছেন, ওয়াশিংটন মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক কাটছাঁট না করলেও দেশটির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবে।

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের মানবেতর পরিস্থিতিতে নিয়ে ওয়াশিংটন ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র এরিক শুলজ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাগরে আটকে পড়া মানুষদের বাঁচানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।