নিউজডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল ২০১৬
আর মাত্র দুই ঘণ্টা পরেই শুরু বাংলা নববর্ষ। পূর্ব আকাশে উঠবে পহেলা বৈশাখের সূর্য। এই বিশেষ দিনটিকে উদযাপন করতে শহুরে বাঙালি সংস্কৃতিতে যোগ হয়েছে পান্তা-ইলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হবে মাটির সানকিতে করে বৈশাখের প্রথম সকালে পান্তা ইলিশ খাওয়ার এখন বর্ষবরণের প্রধান রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আর এই শহুরে মধ্যবিত্ত আবেগকেই পুঁজি করে অস্বাবিক ব্যবসা করছে ইলিশ ব্যবসায়ীরা। রীতি রক্ষার অজুহাতে মানুষ ছুটছে বাজারে ইলিশ কিনতে আর মওকা পেয়ে পকেট কাটছে তারা। চড়া দামে ইলিশ বিক্রি করে আয় করছে কোটি কোটি টাকা। যেখানে কেউ কেউ সারা বছর ব্যবসা করেও কোটি টাকা আয় করতে পারে না।
বাঙালি সংস্কৃতির এই ইলিশ খাওয়ার রীতিকে পুঁজি করে যে ক’জন ব্যবসায়ী এক মওসুমে কোটি টাকা আয় করছেন তাদের মধ্যে একজন গদা বাবু। এই নামেই তাকে চেনে সবাই। তাই আর আসল নামটি জানার দরকার পড়ে না। তাকে দেখলে অতি সাধারণ একজন মাছ ব্যবসায়ী বলেও ঠাহর হবে। কিন্তু না, ঘাগু ব্যবসায়ী এই গদা বাবু। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশ বিক্রি করে কোটি টাকা আয় করার টার্গেট নিয়ে নেমেছেন তিনি। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মৎস্য আড়তে আলাপ হলো তার সঙ্গে।
গদা বাবু বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে ব্যবসা করি। দুর্নীতি তো করি না! কেউ দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় জমায়। কেউ সারা জীবন পরিশ্রম করেও কিছু করতে পারে না। আবার কেউ কলমের খোঁচায় কোটি কোটি টাকায় আয় করে। আর আমরা যারা ব্যবসা করি তাদের সারা বছর মন্দায় কাটাতে হয়। ব্যবসা সবসময় জমে না। ব্যবসা করতে হলে সময় সুযোগ বুঝে করতে হয়।
কথা চালিয়ে যান তিনি- দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে মাছের ব্যবসা করি। সারা বছর তো মাছই মারতে হয়। বছরে আয়-ব্যয় সব সমান। তবে কিছু সিজন আছে সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে ডাল-ভাতের জোগাড় হয়! এর মধ্যে বৈশাখ একটি। বৈশাখকে কেন্দ্র করে কম বেশি সকলে পান্তা ইলিশ পছন্দ করে। বৈশাখে পান্তা ইলিশ না হলে অনেক পরিবারে মান অভিমানও কম যায় না। তাই বাঙালির এ রীতিকে কেন্দ্র করে বৈশাখে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ বিক্রি হয়। তবে বৈশাখে চাহিদার চেয়ে ইলিশের জোগান অনেক কম। ফলে এসময় ভাও বুঝে কোটি টাকা পর্যন্ত আয় হয়।
গদা বাবু জানান, বৈশাখ উপলক্ষে এবার এক কোটি টাকার ইলিশ মাছ সংগ্রহ করে রেখেছেন হিমাগারে। এসব মাছ বৈশাখের প্রথম দিন সকাল পর্যন্ত বিক্রি হবে। তিনি বলেন, আমাদের হিমাগারে যেসব মাছ আছে সেগুলোর ওজন এক কেজি থেকে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম পর্যন্ত। প্রতিকেজি ইলিশ মাছ পাইকারি ১৮০০ টাকা। তবে কেউ খুচরা কিনলেও একই দাম নেয়া হয়।
তিনি জানান, মার্চ মাসের প্রথম দিন থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নদীগুলোতে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আছে। এখন বাজারে যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে তা আগেই ধরে সংরক্ষণ করা। গদা বলেন, আমরা বেশির ভাগ ইলিশ বছরের শুরু থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সংগ্রহ করেছি। ভিন্ন স্থান থেকে বাছাই করে এক কেজি থেকে ১ কেজি ৭০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের পদ্মার ইলিশ সংগ্রহ করেছি। কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বৈশাখ মাসে ব্যবসা হবে। কারণ নববর্ষ উপলক্ষে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশ বাজারে নেই। তাছাড়া দামও চড়া। আর এই বাজারে প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি করছি ১৮০০ টাকায়।
গদা বাবু বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। রাত পোহালেই বৈশাখ শুরু। গত এক সপ্তাহ ধরেই আমাদের স্টকে থাকা ইলিশ বিক্রি করছি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের খুচরা ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে মাছ কেনে। এছাড়া আমাদের কাছ থেকেই মাছ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বড় বড় হোটেলে সাপ্লাই দেয়। গত সোমবারই চালানের (মূলধন) চেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়েছে। এখন কোটি টাকা আয়ের টার্গেট। সকালের বেচাকেনা শেষে এই সিজনের বেচাবিক্রি কোটি টাকা ছাড়াবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস গদা বাবুর।
তবে গদা বাবু এভাবে মাছ গুদামজাত করে রেখে বেশি দামে বিক্রিকে বৈধ ব্যবসা বললেও ছবি তুলতে দিতে নারাজ। তিনি কোনোভাবেই ছবি তুলতে দিলেন না। পরে মাছ কেনার আগ্রহ দেখালে তিনি বড় একটি ইলিশ তুলে ধরলেন আর সেই সুযোগে তার অগোচরে মোবাইল ফোনে একটি ছবি তোলা গেল।
তথ্য সূত্র- বাংলামেইল

