চট্টগ্রামে যুক্ত হচ্ছে আরো নতুন ৮ থানা এবং ৩টি বিভাগ

চট্টগ্রামে যুক্ত হচ্ছে আরো ৮ থানা ও নতুন ৩ বিভাগ

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম : চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) গত এক বছর আগে চারটি থানা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারলেও এবার আরেকটি নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগের চারটির সাথে এখন নতুন আরো চারটি থানা যোগ করে মোট আটটি থানা বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে সিএমপি। সেইসাথে নতুন আরো তিনটি বিভাগ সৃষ্টি করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সিএমপি। এর মধ্যে দুটি হচ্ছে ক্রাইম বিভাগ এবং একটি প্রটোকল ও প্রটেকশন বিভাগ।

সিএমপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগের প্রস্তাবটি জেলা পুলিশের আপত্তির কারণে আটকে গিয়েছিল। এবার নতুন পুলিশ সুপার যোগ দেয়ায় জেলা পুলিশ ‍বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারবে বলে আশাবাদী সিএমপি কর্মকর্তারা। এছাড়া নতুনভাবে আটটি থানা এবং তিনটি বিভাগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দপ্তরের সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছেন সিএমপি কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার (পিপিএম) সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর জনসংখ্যা প্রায় ৭০ লক্ষ। এক হাজার ৩০ জনের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুরক্ষিত করতে হলে পুলিশের সংখ্যা আরও চার থেকে পাঁচ হাজার বাড়ানো প্রয়োজন। এই বিবেচনায় আমরা নগরীর সঙ্গে জেলার কিছু এলাকা যুক্ত করে নতুন আটটি থানা এবং তিনটি বিভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে যাচ্ছি।

২০১৫ সালের অক্টোবরে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল চারটি নতুন থানা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এগুলো হচ্ছে কুয়াইশ, ফতেয়াবাদ, ভাটিয়ারি এবং শিকলবাহা। ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর জেলার বিভিন্ন এলাকা নতুন থানায় যুক্ত করা নিয়ে মতামত জানতে সিএমপি জেলা পুলিশ সুপারকে একটি চিঠি দিয়েছিল।

সূত্রমতে, চলতি বছরের ৮ জুন ওই চিঠির জবাবে তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলা পুলিশ নিজেরাই থানা সম্প্রসারণে আগ্রহী হওয়ায় সিএমপির প্রস্তাবে তাদের আপত্তি আছে। এর ফলে চার থানা বাড়ানোর বিষয়ে সিএমপির উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

কিন্তু সম্প্রতি হাফিজ আক্তারের পদোন্নতিজনিত বদলি এবং নতুন পুলিশ সুপার নূর ই আলম মিনা যোগ দেয়ার পর সিএমপি থানা বাড়ানোর বিষয়টিকে আবারও সামনে আনতে চাইছে। সেইসাথে আরও তিনটি বিভাগ সৃষ্টি করে জনবল বাড়ানোর কৌশলও নিয়েছে বলে জানিয়েছে সিএমপি সূত্র।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (ভূসম্পদ ও ইমারত) রহুল আমিন ছিদ্দিকী বলেন, কুয়াইশ, ফতেয়াবাদ, ভাটিয়ারি এবং শিকলবাহার প্রস্তাবের সঙ্গে শাহ মীরপুর ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থানা গঠনের প্রস্তাব যুক্ত হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলী থানা ও জেলার পটিয়া থানার অংশ নিয়ে গঠিত হবে শাহ মীরপুর থানা। এছাড়া চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র একটি থানা গঠনের বিষয়টি প্রস্তাবনায় থাকছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ‍এলাকা নিয়ে একটি থানা এবং পটিয়ার কিছু অংশ নিয়ে আরও একটি থানা গঠনের পরিকল্পনা হলেও বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে আছে।

প্রস্তাবিত কুয়াইশ থানার এলাকাগুলো হচ্ছে নগরীর চান্দগাঁও থানার কিছু অংশ এবং হাটহাজারীর ফতেপুর, চিকনদণ্ডী, দক্ষিণ মাদার্শা, শিকারপুর, বুড়িশ্চর, উত্তর মাদার্শা ও দক্ষিণ-মধ্যম মাদার্শার কিছু অংশ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাহাড়তলী। মূল চান্দগাঁও থানা থেকে প্রস্তাবিত কুয়াইশ থানার দূরত্ব ৮ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ৪ লাখ ৭০ জন।আয়তন ৪৩ বর্গকিলোমিটার। নতুন থানার অধীনে একটি ফাঁড়ি ও দুইটি পুলিশ বক্স থাকবে। থানার মূল যোগাযোগ সড়ক পথ।

প্রস্তাবিত ফতেয়াবাদ থানার এলাকাগুলো হচ্ছে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং হাটহাজারীর ফতেপুর ইউনিয়নের ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অংশবিশেষ, চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ফতেয়াবাদ, দক্ষিণ মাদার্শা, শিকারপুর, বুড়িশ্চর ও চসিকের এক নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের অংশবিশেষ। মূল বায়েজিদ বোস্তামি থানা থেকে প্রস্তাবিত ফতেয়াবাদ থানার দূরত্ব ৭ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৮ জন। আয়তন ১৬ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটার। নতুন থানার অধীনে একটি ফাঁড়ি ও একটি পুলিশ বক্স থাকবে। থানার মূল যোগাযোগ সড়ক পথ।

প্রস্তাবিত ভাটিয়ারি থানার এলাকাগুলো হচ্ছে নগরীর আকবর শাহ থানার অংশবিশেষ এবং সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুর, ভাটিয়া ও সোনাইছড়ি ইউনিয়ন সম্পূর্ণ। মূল আকবর শাহ থানা থেকে প্রস্তাবিত ভাটিয়ারি থানার দূরত্ব ৯ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩২ জন। আয়তন ১০ বর্গকিলোমিটার। থানার মূল যোগাযোগ সড়ক ও রেলপথ।

প্রস্তাবিত শিকলবাহা থানার এলাকাগুলো হচ্ছে নগরীর কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা, বড়উঠান, বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড, বোয়ালখালী পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড, শাকপুরা ইউনিয়নের ১,২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড, পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড, কুসুমপুরা ইউনিয়নের ১, ২, ৪, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড, কোলাগাঁও ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড এবং জিরি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড। মূল কর্ণফুলী থানা থেকে প্রস্তাবিত শিকলবাহা থানার দূরত্ব ১০ কিলোমিটার।  জনসংখ্যা ৪ লাখ ৭০ হাজার জন। আয়তন ১৩৬ বর্গকিলোমিটার। নতুন থানার অধীনে তিনটি ফাঁড়ি ও একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প থাকবে। থানার মূল যোগাযোগ সড়ক ও নদী পথ।

সিএমপিতে আসছে নতুন তিন বিভাগ

বর্তমানে একজন করে উপ-কমিশনারের (ডিসি) নেতৃত্বে চারটি অপরাধ জোনে বিভক্ত সিএমপি। এগুলো উত্তর, দক্ষিণ, পশ্চিম এবং বন্দর জোন।  আগে শুধুমাত্র উত্তর ও বন্দর জোন ছিল। ২০১২ সালে দক্ষিণ ও পশ্চিম জোন বাড়ানো হয়। নতুন থানা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও দুটি অপরাধ বিভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর।

এছাড়া সিএমপিতে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) বিভাগ আছে একটি। একে ভাগ করে প্রটোকল এন্ড প্রটেকশন নামে আরও একটি বিভাগ করার প্রস্তাবও পাঠানো হচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তরে।

জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে বলেন, পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট কিংবা আমরা যেটাকে দাঙ্গা বিভাগ বলি সেই বিভাগের সঙ্গে আরেকটি নতুন বিভাগ করছি। বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম হচ্ছে দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী। ঢাকার পরেই চট্টগ্রামে এত বিদেশি অবস্থান করে। আর চট্টগ্রামে শিল্প, কল-কারখানাও বাড়ছে। এই অবস্থায় আরেকটি বিভাগ সৃষ্টি করে সেখানে নতুন জনবল আনার বিষয়টিকে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

১৯৭৮ সালে প্রায় ২০৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনে ৬টি থানা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সিএমপি। ২২ বছর পর ২০০০ সালের ২৭ মে সিএমপিতে আরও ৬টি থানা বাড়ানো হয়। এগুলো হচ্ছে, খুলশী, বায়েজিদ বোস্তামি, পতেঙ্গা, বাকলিয়া, হালিশহর ও কর্ণফুলী থানা।

এর ১৩ বছর পর ২০১৩ সালের ৩০ মে নতুন আরও চার থানা গঠন করা হয়। এগুলো হচ্ছে আকবর শাহ, সদরঘাট, চকবাজার ও ইপিজেড। বর্তমানে সিএমপির থানার সংখ্যা ১৬টি।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.