পবিত্র রমজান মাসেও পিছু ছাড়ছে না টেকনাফের নিম্ন আয়ের মানুষের দূর্ভোগ!
জেড করিম জিয়া। ১২ জুন ২০১৬
কক্সবাজার: জেলার টেকনাফ উপজেলায় টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে কর্মক্ষেত্রে যেতে না পেরে একপ্রকার অনাহারে কাটছে এসব নিম্ন আয়ের মানুষের। পাশাপাশি গৃহিনীরা সেহেরী ও ইফতার বানাতে গিয়ে পড়ছেন চরম বেকায়দায়। টানা ভারী বর্ষনের পানিতে তাদের রান্না ঘরের চুলা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দূরে কোথাও উচু জায়গায় গিয়ে প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে নিত্যদিনের রান্নাবান্না প্রস্তুত করতে হয়।
সারা বছর যেনতেন ভাবে তাদের আহার জোগাড় করলেও রমজান মাস এবং আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে পরিবারের জন্য নতুন কাপড় নেওয়ায় আশায় দ্বিগুন পরিশ্রম করতে তাদের দ্বিধা নেই। কিন্তু এ সিয়াম সাধনার মাসে নিজের সাধ্য অনুযায়ী একটু ভাল খাবার আশা করলেও বাধা হয়ে দাড়িয়েছে প্রকৃতির নিষ্টুর আচরনে কয়েক দিনের প্রবাল টানা বর্ষণ।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেলে, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি সামান্য উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে ঘনীভূত হয়ে উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় নিুচাপে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এবং ঝড়-বৃষ্টি আরো কয়েকদিন থাকতে পারে।
এমনিতে প্রতিমাসে পূর্ণিমা ও অমাবস্যার জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত থাকে কক্সবাজার জেলার সর্বদক্ষিণের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের নিম্নাঞ্চল, তার উপর যোগ হয়েছে এ কয়দিনের টানা বর্ষণ! এতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়ে পানি বন্দী হয়ে আছে লক্ষাধিক মানুষ।
সরেজমিনে উক্ত প্লাবিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এ প্রবল বর্ষণের ফলে সবচেয়ে দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে এলাকার গৃহিনীরা।
পবিত্র রমজান মাসে ততাদেরকে সেহেরী ও ইফতার বানাতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে চরম বেকায়দায়। বৃষ্টির পানিতে তাদের রান্নার চুলা কয়েকদিন ধরে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দূরে কোথাও উচু জায়গায় গিয়ে বৃষ্টিকে উপেক্ষা প্রতিদিনের রান্না প্রস্তুত করতে হয়। তারা জানান, এ রমজান মাসে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না আমাদের এ র্দূদশা কথা।
এ পানির কারণে রমজান মাসেও ঘর-বাড়ী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হচেছ আমাদের। টানা বর্ষণের ফলে দিন মজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে ন। এমনিতে নিম্নাঞ্চলের মানুষকে আর কত দিন এভাবে জীবন যাপন করতে হবে এ প্রশ্ন সসর্বসাধারণের!!
গত কয়েক দিনের ধরে টানা বর্ষণে পানি বৃদ্ধি পেয়ে টেকনাফ উপজেলার পৌরসভার, সদর, নাফনদী বাঁধের ভাঙ্গন এলাকা দিয়ে পানি প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চলের ঘর-বাড়ি, চিংড়ী ঘের ও ফসলী জমি শিক্ষা প্রতিষ্টান তলিয়ে গেছে। ভাঙ্গা বাঁধে দিয়ে নতুন করে পানি প্রবেশ করে টেকনাফ পৌরসভার সাইড পাড়া, চৌধুরী পাড়া, উত্তর-মধ্যম ও দক্ষিণ জালিয়া পাড়া, খানকার পাড়া, সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়া, মৌলভী পাড়া, সাবরাং ইউনিয়নের মগপাড়া, লেজির পাড়া, আছারবনিয়া, নয়াপাড়া, শাহপরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া, দক্ষিণ পাড়া, পশ্চিম পাড়া। সংশ্লিষ্ট বাঁধের স্থানে নতুন করে ভাঙ্গন ধরেছে। টানা বর্ষণ পূর্ণিমার জোয়ারের কারনে স্বাভাবিক জীবন চলার ব্যাঘাত সৃষ্টির পাশাপাশি এলাকাবাসীর দূর্ভোগ চরমে পৌছে।
টেকনাফ উত্তর জালিয়াপাড়ার দিন মজুর হাকিম আলী বলেন, পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভাল কিছু খাওয়ার কিনতে না পারলেও কোন রকম ক্ষুধা মিঠিয়েছি। ভেবেছিলাম রমজানের মধ্য সময়ে এসে জিনিসপত্রের দাম মোটামুটি সাধ্যের ভিতরে আসবে। কিন্তু এ টানা বর্ষনের ফলে একদিকে আয় রোজগার বন্ধ, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের উপর যেন আগুন লেগেছে। এভাবে চলতে থাকলে কিভাবে ছেলে মেয়েদের নিয়ে ঈদ পালন করবে।
এলাকার দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া-টেকনাফে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি সিটিজিবার্তা২৪ডটকম কে বলেন, পবিত্র রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে নিম্ন আয় ও গরীব দুঃস্থদের মাঝে চাল, ছোলা, ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি, সেমাই, কাপড় ও নগদ অর্থ বিতরণ আসছি। যেহেতু কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণে চলছে, তাই আমার সংসদীয় আসনের লোকজনকে ত্রাণ বিতরণের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছি।

