সাত ঘন্টা অভিযানের পর অপহৃত শিশু উদ্ধার, তিন অপহরণকারী গ্রেফতার

Sunday, 05 Nov 2017

Ctgbarta24.com

গুলশান ক্রাইম পুলিশ ও গোয়েন্দ পুলিশ উত্তর বিভাগ এর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতার ও অপহৃত শিশুকে অক্ষত উদ্ধার করেছে।

গত ০৩ নভেম্বর রাত অনুমান ৭.০০ ঘটিকায় মোঃ মোমিন আহম্মেদ ও তার স্ত্রী নাজমুন আক্তার শিশু সন্তান তাওসিফুর রাহিম (৬) সহ পুলিশ প্লাজাতে যান। শপিং এর শেষ পর্যায়ে আনুমানিক রাত ৯.০০ ঘটিকায় হঠাৎ করে শিশুর পিতা মাতা তাকে না পেয়ে খুঁজতে থাকে। এরই মধ্যে অপহরণকারী রুবেল রানা ও তার সহযোগীরা উক্ত শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে শপিং মলের নিচে নিয়ে আসে। এরপর তাকে কোলে করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার হাতির ঝিল সংলগ্ন মধ্য কুনি পাড়ায় ঘনবসতিপূর্ণ একটি ভবনের ৩য় তলায় একটি কক্ষে মুক্তি পণের জন্য অপর অপহরণকারীদের হেফাজতে রেখে মূল অপহরণকারী রুবেল রানা তার সহযোগীদের নিয়ে তেজগাঁও, বনানী, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, রামপুরা ও বনানী থানা এলাকার বিভিন্নস্থানে রাতব্যাপী অপহৃত শিশুর জীবনের বিনিময়ে মুক্তিপণের ১০(দশ) লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে।

পরে ভোর আনুমানিক ৪.০০ টার দিকে র‌্যাংগজ ভবন ফ্লাই ওভার এর নিচে মুক্তিপণের টাকার জন্য আসে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গুলশান ক্রাইম পুলিশ ছদ্মবেশে কেউ মোটরসাইকেল যোগে, কেউ পায়ে হেটে, কেউ সিএনজিতে চড়ে, কেউ প্রাইভেট কারের ড্রাইভার সেজে তেজগাঁও-বিজয়সরণি ক্রসিং এর আশে পাশে অবস্থান নেয়। গুলশান তেজগা চেকপোষ্ট বাড়ানো হয়। এদিকে তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তেজগাঁও-বিজয়সরণি ফ্লাই ওভার এর পূর্ব-দক্ষিণ পাশে পশ্চিম মুখী রাস্তায় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ধীরে ধীরে অগ্রসর হন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই উপর্যুপরি গুলি বর্ষণ করতে করতে অপরহণকারী দলটির প্রাইভেটকারযোগে (মেরুন রং এর) পালিয়ে যেতে থাকে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ০৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি বর্ষণ করে। এক পর্যায়ে অপহরণকারী দলের একজন গাড়ী থেকে নিচে পড়ে যায়। তাকে গ্রেফতার করা মাত্রই সে তার ডান পায়ের গোড়ালিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানায়। জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় তার নিজ ভাড়া বাসা মধ্য কুনি পাড়ার হাতির ঝিল সংলগ্ন একটি ঘনবসতিপূর্ণ বাড়ীর ৩য় তলায় অপহৃত শিশুটি অপর অপহরণকারীদের হেফাজতে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা ও ক্রাইম পুলিশ উক্ত বাড়ীটিতে উপস্থিত হয় এবং অপর দুই জন অপহরণকারীকে গ্রেফতার পূর্বক অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করে।

ডিসি, ডিবি (উত্তর) জনাব শেখ নাজমুল আলম, বিপিএম, পিপিএম (বার) এর নির্দেশনায়, ডিসি গুলশান, মোস্তাক আহম্মেদ ও এডিসি ডিবি জনাব মোঃ শাহজাহানের নেতৃত্বে গুলশান জোনাল টিমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুল আলম রাসেল, ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম সাকলায়েন এবং গুলশান বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ, অফিসার ফোর্সের সহযোগিতায় ৭ (সাত) ঘন্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে অপহরণকারী দলের ৩জন সহ অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। উক্ত অভিযান পরিচালনার সময় সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জনাব গোলাম সাকলায়েন গুরুতর আহত হন।

আটক ৩জন ও পলাতক অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্তে গুলশান থানার মামলা নং-০২ তারিখ-০৪/১১/২০১৭ ইং ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৮/৩০ রুজু হয়েছে। তাছাড়াও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সরকারীকাজে বাধাদান ও পুলিশকে লক্ষ্যকরে গুলি ছোঁড়ার অপরাধে মামলা নং-০২,তাং- ০৪/১১/২০১৭ ঞযব অৎসং অপঃ ১৮৭৮ এর ধারা ১৯-অ অপর একটি মামলা রুজু হয়েছে।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image