সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রাম : বিদ্যুৎ খুঁটি সরানো নিয়ে পিডিবির গাফিলতির অবসান এবং ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ। প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ প্রকল্পের কাজ ২০১৭ সালের ৩০ জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং ঠিকাদারের সাথে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, তিনটি প্যাকেজে এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে সওজ। ৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার অংশের কাজ পেয়েছিল এম বিল্ডার্স। বাকি ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের পেয়েছিল অনোয়ার পপুলার নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ৮ দশমিক ৮ এর মধ্যে ৩ কিলোমিটার অংশের কাজ সময় মতো শেষ করতে না পারায় ২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল এম বিল্ডার্সের কার্যাদেশ বাতিল করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
দরপত্রের মাধ্যমে ওই তিন কিলোমিটার অংশের কাজ পান আওয়ামী নেতা মঞ্জুরুল আলম নামে এক ঠিকাদার। একইসঙ্গে প্রকল্পের ২৪টি কালভার্টের মধ্যে ১৮টির নির্মাণ কাজও পান তিনি। এর আগে আনোয়ার পপুলার এর পাওয়া ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের কার্যাদেশ বাতিল করে এ প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা জরিমানা করেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে পুনঃ দরপত্র আহবান করলে ৩৭ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ ওই অংশের (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ১ নম্বর গেইট থেকে হাটহাজারী সদর পর্যন্ত) কাজ পায় তাহের ব্রাদার্স লিমিটেড। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে এ অংশের কাজ অনুমোদন পেয়েছে। গতকাল রোববার সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম চট্টগ্রামের সর্বাধিক পাঠকের দৈনিক পত্রিকা সুপ্রভাত কে এ তথ্য জানান।
এ প্রসঙ্গে ঠিকাদার মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘মাননীয় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আন্তরিকতায় প্রকল্পের বাকি তিন দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের কাজ সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন পেয়েছে।’ দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পরও সময় মতো প্রকল্পের বাস্তবায়ন না হওয়ায় পিডিবির গাফিলতি ও ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করেন তিনি।
এক প্রশ্নের উত্তরে মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘সময় মতো কাজ শেষ করতে আমাদের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম এবং প্রস’তি রয়েছে। কিন’ টাকা পরিশোধের পরও প্রকল্প এলাকায় এখনও অধিকাংশ বিদ্যুৎ খুঁটি সরায়নি পিডিবি। কিছু এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসন না হওয়ায় নির্মাণকাজে বিঘ্ন ঘটছে। এরপরও ১৮টি কালভার্ট নির্মাণকাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে।’
বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণে পিডিবির চরম গাফিলতি করছে বলে অভিযোগ করে সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ১ নম্বর গেইট থেকে হাটহাজারী সদর পর্যন্ত প্রকল্পের ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা নেই। অক্সিজেন মোড় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ১ নম্বর গেইট পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ৩ ধারার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে প্রকল্পের কাজ।
ষোলশহর বিদ্যুৎ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক কিছু বিদ্যুৎ খুঁটি অপসারণ কাজ এখনও বাকি থাকার স্বীকার করে বলেন, ‘বিদ্যুৎ খুঁটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ সঠিক নয়।’ গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, অক্সিজেন থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গেইট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে প্রশস্তকরণ, কার্পেটিং এবং ডিভাইডার, নালা নির্মাণ প্রায় শেষ হয়েছে। দ্রুত এগিয়ে চলছে কালভার্ট নির্মাণকাজ। ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর পরেও শেষ হয়নি এ প্রকল্পের কাজ। এরপর দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানো হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন’ গতবছর মার্চ মাসেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ফের তৃতীয় বারের মতো সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর।
চতুর্থবারের মতো সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০১৭ সালের ৩০ জুন। সড়কটিতে ডিভাইডার ছাড়া উভয় পাশে ২৪ ফুট করে ৪৮ ফুট প্রশস্ত করার কথা রয়েছে। উভয় পাশে ৪৮ ফুট প্রশস্ত করার জন্য এক দশমিক ৩৬ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা।
এর আগে প্রকল্পটি শুরুর দিকে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। পরে সংশোধিত ব্যয় ধরা হয় ২২৬ কোটি টাকা। ২০০৭ সালে ১২৯ কোটি ৫১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয় ধরে মূল প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) একনেকে পাস হয়। ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। কিন’ কাজ শুরু হয় ২০১১ সালের জানুয়ারিতে। সূত্র- সুপ্রভাত বাংলাদেশ







