সোমবার,২১ ডিসেম্বর ২০১৫
আতিক মাসুদ,সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
মেসি-সুয়ারেজের গোলে দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন রিভারপ্লেটকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জিতল বার্সেলোনা ।
রোববার জাপানের ইয়োকোহামায় নিশান স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হয় ম্যাচটি।
ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিট দুই দলই সমান তালে লড়তে থাকে। ছোট আক্রমণে কাতালানরা বেশ কয়েকবার রিভারপ্লেটের রক্ষণদূর্গ ভেদ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ৩১ মিনিটে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে মেসি দুর্দান্ত শট নিলেও তা জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।
দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার মেসি। ৩৬তম মিনিটে দানি আলভেসের ক্রস নেইমার হেড করলে বল পান মেসি,তার বাঁ পায়ের জাদুতে পরে যা গোলে পরিনত হয়।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে স্কোরে আর কোনো পরিবর্তন না হলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সা। বিরতির পর আরও দুটো গোল করে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। দু’টি গোলই করেন সুয়ারেজ।
বিরতির পর ম্যাচের ৪৯ মিনিটে বার্সার হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন আগের ম্যাচে হ্যাট্রিক করা সুয়ারেজ । সার্জিও বুসকেটসের মাঝমাঠ থেকে তুলে মারা বল নিয়ে রিভারপ্লেটের সীমানায় ঢুকে পড়েন সুয়ারেজ। প্রতিপক্ষের জাল লক্ষ্য করে সুয়ারেজ শট নিলে গোলরক্ষকের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ায়। ফলে, ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বার্সা।
৫৫তম মিনিটে নিজের জাদু দেখান ইনজুরির কারনে সেমিফাইনাল খেলতে না পারা নেইমার ।মাঝমাঠের কাছে বল পেয়ে দুই জনকে কাটিয়ে এবং পরে আরেক জনকে গতিতে পরাস্ত করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন দুর্দান্ত নেইমার। কিন্তু শেষটা ভালো হয় নি, চতুর্থ জনকে ফাঁকি দিতে গিয়ে পড়ে যান তিনি।
৬১ মিনিটের মাথায় একটি জোরালো আক্রমণ করে রিভারপ্লেট। তবে, কোনাকুনি সে আক্রমণটি সফল হতে দেননি ব্রাজিলিয়ান রাইটব্যাক দানি আলভেজ। ৬৪ মিনিটেও ভালো ফিনিশারের অভাবে গোলের সুযোগ নষ্ট করে রিভারপ্লেট।
৬৮ মিনিটের মাথায় নেইমারের বাড়িয়ে দেওয়া পাসে নিজের দ্বিতীয় আর দলের তৃতীয় গোল করেন সুয়ারেজ। নেইমারের ক্রসে লাফিয়ে উঠে হেড করে রিভারপ্লেটের জালে বল জড়িয়ে দেন সুয়ারেজ। ফলে, ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় এনরিকের শিষ্যরা।
৭৬ মিনিটে গোলের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে রিভারপ্লেট। আলারিওর অসাধারণ একটি হেড রুখে দেন বার্সার চিলিয়ান গোলরক্ষক ব্রাভো। সঙ্গে গোলের লজ্জা থেকে বাঁচিয়ে দেন বার্সাকেও।
৮৮ মিনিটে নেইমার বল নিয়ে দুর্দান্ত গতিতে প্রতিপক্ষের সীমানায় প্রবেশ করলেও নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারলে বল চলে যায় বারোভেরোর নিয়ন্ত্রণে।
ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে গত মৌসুমের ট্রেবল জয়ী বার্সা।
এর আগে চীনের দল গুয়াংজো এভারগ্রান্দেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বার্সা। সে ম্যাচে তলপেটের ব্যথার কারণে খেরা হয়নি মেসির আর কুঁচকির চোটের জন্য খেলেননি নেইমার। তবে, অসাধারণ এক হ্যাটট্রিক করে দলকে ফাইনালে তোলেন সুয়ারেস।
২০০৯ ও ২০১১ এর পর এ নিয়ে তৃতীয়বারেরমত ক্লাব বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তোলে বার্সা। এইতিহাসের প্রথম ক্লাব হিসেবে তিনবার ক্লাব বিশ্বকাপ জেতা হলো কাতালানদের। তৃতীয়বারের মতো ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপায় হাত বোলালেন মেসি, দানি আলভেস, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জেরার্ড পিকে ও সার্জিও বুসকেটস।












