সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম
Update: 25:06:2016 01:14:49 AM Saturday।। News Published: 30:03:2016 03:32:10 PM
চট্টগ্রাম: এসে দেখি, ছেলের লাশ… ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ পড়ুয়া ছাত্র নাসিম আহমেদ সোহেল আর নেই। গতোকাল বিকেলবেলার আগেই প্রতিপক্ষদের উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্রের কোঁপে প্রচুর রক্তকরণ তাকে পাঠিয়ে দিয়েছে না ফেরার দেশে। কেন সোহেল এর উপরে হামলা?
সোহেল হত্যাকারীদের রাজনৈতিক বিবেচনা না করে দ্রুত গ্রেফতার করুন, পুলিশকে যুবলীগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তানদের পড়ালেখা শিখতে পাঠিয়ে আজ বুকের মানিকের লাশ দেখতে হচ্ছে আমাদের বলছিলেন সন্তান হারানো শোকে কাতর সোহেলের পিতা, আমাদের সন্তানেরা বিদ্যাপিটের শ্রেনী কক্ষের ভেতরেও নিরাপদে থাকতে পারেনা? বুক ফাটা কান্না জড়িত কন্ঠে আদরের ছোট ছেলেটার মৃতদেহের সামনে দাঁড়িয়ে বলছিলেন সোহেলের বাবা আবু তাহের।
মহিউদ্দিন-নাছিরের ‘বাকযুদ্ধে’, উদ্বিগ্ন আওয়ামীলীগ নেতারা
চোখ দুটো বন্ধ, অল্প ফাঁকের ঠোঁট দুটোজুড়ে ভীষণ নীরবতা, প্রবর্ত্তক মোড়ে স্টেচারের ওপর পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে সোহেল। তার নীরব-নিথর দেহ ঘিরে বন্ধু-সহপাঠিদের হাহাকার-আহাজারি। এমন সময়ে আসলেন ইমতিয়াজ আহমেদ সোহেলের বাবা আবু তাহের। ষাটোর্ধ্ব মানুষটিকে তখন আর ধরে রাখা যাচ্ছিল না। বুকফাটা কান্না। সমানে ছেলের মুখ-কপালে ঘুরছিল তার হাত। জড়িয়ে ধরে রাখতে চাইলেন ছেলেকে।
আটত্রিশ দিন পেরিয়ে গেলেও খুনি সোহান অধরা, ওসি আজিজের প্রত্যাহার চায় ছাত্রলীগ
সকালেই সুস্থ্য সবল ছেলেকে ক্যাম্পাসে পাঠিয়েছেন বাবা আবু তাহের। আর এখন? কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেখছেন ছেলের লাশ। এই শোক কীভাবে সইবেন বাবা?
তাই গণমাধ্যমের সামনে বলেন, ‘আমি ঘটনা জানার পর পরেই দৌড়দৌড়ি করে এসে শুনি ছেলে আর নেই, দেখি আমার ছেলের লাশ।’
‘আমার ছেলে প্রিমিয়ারে পড়তো। কারা তাকে মারছে, কেনো মারছে আমি কিছুই জানি না।’ আর কথা বলতে পারলেন না আবু তাহের।
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এমবিএ’র ছাত্র ছিলেন সোহেল।বাবা আবু তাহের সেনাবাহীনির অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তবে বহুদিন ধরে পরিবার নিয়ে তারা নগরীর শেরশাহ এলাকায় বাড়ী করে থাকছেন। সোহেলরা দুই ভাই দুই বোন। সোহেল সবার ছোট।
অপরাজনীতিও সোহেল হত্যাকারীদেরকে বাঁচাতে পারবে না
সোহেল আহমেদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি নগর ছাত্রলীগের কার্যাকরি কমিটির সদস্য ছিলেন। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।
দুপুর ১টার দিকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার শ্রেণিকক্ষে ঢুকে সোহেলকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করা হয়। বিশেষ করে মাথায় মারাত্মকভাবে জখম হন তিনি। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। তাকে দ্রুত নগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে আনা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের ক্যাজুয়েলটি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক বলেন, ‘চমেক হাসপাতালে আনার আগেই সোহেলের মৃত্যু হয়।’
ছাত্রলীগ নেতা ‘সোহেল হত্যাকান্ড পরিকল্পিত’
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজ সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম কে বলেন, ‘সোহেলের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের কোঁপ দেখা গেছে। বিশেষ করে মাথায়। মাথার ঠিক মাঝখানে গভীর ক্ষত দেখেছি। এরফলে প্রচুর রক্তকরণ হয়েছে। যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।’






২ thoughts on “এসে দেখি, ছেলের লাশ…”