গাফফার চৌধুরীর লেখার সব তত্ত্বের ওপর আমার আস্থাও নেই

মঙ্গলবার,২২ ডিসেম্বর ২০১৫

pirসিটিজিবার্তা২৪ডটকম : প্রবীণ সাংবাদিক, লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর সব মতের সাথে আমি একমত নই। তার লেখার সব তত্ত্বের ওপর আমার আস্থাও নেই। কিন্তু লন্ডনে তার জন্মদিনে সিলেটিদের ‘লাঙ্গল টু লন্ডন’ অর্ধ শিক্ষিত,অশিক্ষিত বলে, মন্তব্য করেছেন এ অভিযোগ এনে যে শোরগোল বা নিন্দা বিতর্ক হচ্ছে তা সমর্থন যোগ্য নয়।

তিনি তার বক্তব্যে সিলেট প্রবাসীরা যে আজকের বিলেতে বাঙালিরা বড় জায়গা করেছেন তাই বলেছেন। সিলেটিদের তিনি বড় করেছেন, ছোট করেননি। আমি বক্তব্য শোনেছি ভিডিওতে। সিলেট প্রবাসীরা তাকে কিভাবে সাহায্য করেছেন তাও বলেছেন। আমাদের পূর্বপুরুষরা অক্ষর না জানলেও সাত সাগর জাহাজে পাড়ি দিয়ে, দ্বিতীয়বিশ্বযুদ্ধের পর যে সংগ্রামের সূচনা করেছিলেন সেখান তার পথ ধরেই, ব্রিটেনের মূলধারায় আজকের বাংলাদেশি প্রবাসীরা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আজ বিলেতের সমাজ ও অর্থনীতির উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখছেন রানী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীরা তার স্বীকৃতি দিয়ে আসছেন। ব্রিটেনের পার্লামেন্টে আজ আমাদের সন্তানেরা কথা বলছে। মূলধারার রাজনীতিতে তারা যুক্ত হয়েছে অনেক আগেই।

গাফফার চৌধুরী অসত্য বা সিলেটিদের ছোট করতে কিছু বলেননি। আমাদের পূর্বপুরুষরা বলবান কৃষক ছিলেন। আমাদের অগ্রজরা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জয়ী হয়েছেন। আমাদের স্বাধিকার সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধুর আগরতলা মামলা, সুমহান মুক্তিযুদ্ব এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিশ্ব সভায় যে অনন্যসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন সেখানে বিলেত প্রবাসী সিলেটিদের আলোকিত নাম ইতিহাসে সোনার হরফে লেখা আছে। ব্যবসা, শিক্ষা, রাজনীতি, চিকিৎসা, মানবাধিকার সর্বত্র হৃদয়ে বাংলাদেশ নিয়ে দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন আমাদের সন্তানরা। কৃষি নির্ভর আমাদের অর্থনীতির পুর্বপুরুষরা রীতিমত যুদ্ধ করে যেখানে বসতি গড়েছিলেন। একদিকে প্রকৃতির বৈরিতা, ভাষাগত সংগ্রাম, থাকার কষ্ট সব মিলিয়ে সেখানকার শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তারা যুক্ত হয়েছিলেন। সেখানকারই শিল্পের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন হয়েছে তাদের হাত ধরেই।

সেকাল থেকে একাল পর্যন্ত উচ্চ শিক্ষার্থে বিলেত পড়তে যাওয়া দেশের সন্তানদের আগলে রেখেছেন সিলেটের মানুষ। বাড়িয়েছেন সহযোগিতার হাত। বর্ণবাদের কালো থাবার বিরুদ্ধে আমাদের অগ্রজরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে পুর্ব লন্ডনের দখলদারিত্ব নিয়েছেন। বাংলা নাম আর বাংলা সাইনবোর্ডের সেখানে ছড়াছড়ি। কেউ চাইলেই পৃথিবীর দেশে দেশে সিলেটিরা যেভাবে আত্মমর্যাদা নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন তার হাত ধরে একেক খ- করে পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তাদের পাঠানো রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতির বড় শক্তি। আমাদের দুঃসময়ে, দুর্যোগে তারা দাঁড়ান পাশে।

গাফফার চৌধুরীর বক্তব্যটা সবারই মন দিয়ে শোনা উচিত। উনার বয়স হয়েছে অনেক। একুশের লেখা গান তাকে দিয়েছে অমরত্ব। তার লেখায় সত্য মিথ্যা , তার কথাবার্তায় এদিক সেদিক হতে পারে। কমিউনিটিতে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু এটা সত্য, সিলেটের মানুষকে ছোট করে কিছু বলেননি।

সিলেটবাসীরা মানুষের প্রতি সম্মানবোধ আর অতিথিপরায়নতার ঐতিহ্য, মর্যাদার আসনকে এতোটায় উচ্চতায় রেখেছে যে, কেউ কিছু বললেই বা স্পর্শ করলেই চলে যাবে; এ কচুপাতার পানি নয়। সিলেটের মানুষ কেবল বাঙালি বা বাংলাদেশী নয়, তাদের নিজেদের ও ইতিহাস ঐতিহ্য, ভাষা এবং সংস্কৃতি রয়েছে।

পীর হাবিবুর রহমান

আস

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image