রবিবার,১১ জুন ২০১৭
চট্রগ্রাম : চাকতাইয়ে পবিত্র রমজানে নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লীরা ময়লা পানি অতিক্রম করে মসজিদে প্রবেশ করছেন, ময়লা পানিতে নিজে এবং মসজিদ দুটোই নোংরা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম শহরে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে পানির সমস্যায় ভুগছেন না। তবে আমাদের এলাকায় পানির সমস্যা সমাধানযোগ্য। কিন্তু যারা এগিয়ে আসবেন সিদ্ধান্ত নিবেন, দেখভাল করবেন, সমাধান করবেন, যাদের দেখার কথা, তারা কোথায় ? স্থানীয় জন প্রতিনিধির সাড়া শব্দ নেই, ঘুমন্ত ! স্থানীয় সরকারের দৃষ্টিতে নেই, এ আসনের সংসদ সদস্যের আমলে নেই, উনাকে কখনো দেখিনি বললেও বড় বেশী ভুল হবে না। নিমজ্জিত স্থানে সমাজ কমিটির অফিস কিন্তু বড় কর্তাদের তেমন কোন উদ্যোগ নেই। যে যার মতো নালা-নর্দমা, রাস্তা, ফুটপাত দখল করে আছে। যার ফলশ্রুতিতে প্রতিবন্ধকতা আরো বেশী দৃশ্যমান। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি ঠিকভাবে সরতে পারে না। স্থানীয়ভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে, তদুপরি রাস্তার প্রশস্থতা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। মানুষের মানবিক মূল্যবোধ ও সচেতনতা ক্রমশঃ রাশ পাচ্ছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আমরা সীমানার ওয়াল, ঘরের শোভা বর্ধনের কার্নিশটা রাস্তায় বের করে দিচ্ছি। আমাদের রাস্তাগুলো নতুন মসজিদ সামনের রাস্তার ন্যায় প্রশস্থ হলে এলাকায় টুকটাক জ্যামও থাকতোনা। মাদক, রাহাজানি, বস্তির মধ্যে অনৈতিক কাজ এলাকাকে কালো মেঘের মতো আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। আমার সামান্য অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি কোন মহল্লা, পাড়ায় বা এলাকায় যদি সমাজ উন্নয়ন কমিটি, আইন শৃংখলা কমিটি, কমিউনিটি পুলিশ এমন সংস্থায় যারা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে, এলাকার ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা পালন করে এবং স্থানীয় জনগনের সাথে জড়িত তাদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। আর তা না হলে ব্যক্তি বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে কর্তৃত্ব ঠিকিয়ে রাখতে কম যোগ্যতা সম্পন্ন লোক দিয়ে কাজ করানো হয়, তাহলে সেই সমাজে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়।
তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের জলাবদ্ধতা। কি বৃষ্টি আর অনাবৃষ্টি সমানে লেগেই থাকে, জোয়ার হলে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। তার মধ্যে অন্যতম নয়া মসজিদ এলাকা। চট্টগ্রামের অভিভাবক মাননীয় মেয়র মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করছি এই অবহেলিত চাকতাইকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে। চাকতাই খালের মুখে সুইচ গেইট স্থাপন করার আবেদন করছি। এই জলবদ্ধতার জন্য দীর্ঘমেয়াদী হোক বা স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করা অতীব জরুরী। তা নাহলে আর বেশী দূর নয় চর চাকতাই নামকরণ জল চাকতাই তে পরিণত হবে। তখন সাম্পান চাকতাই ঘাটে নয় এলাকার রাস্তায় দেখা যাবে।
লেখক : আরশাদুর রহমান
সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী।



