BREAKING NEWS
Search

ছাত্র রাজনীতির এইকাল সেইকাল

বুধবার,১৪ জুন ২০১৭

সাল ২০০১. নির্বাচন পরবর্তী ছাত্র রাজনীতিতে পদার্পণ. তখন আমরা বিরোধীদল. তেমন কোন নেতার সহযোগীতা পেতাম না, সাহস করে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতাম, অনেক সময় লুকিয়ে লুকিয়ে. এক জায়গায় বেশি সময় গ্রুপ ভেদে দাড়ালে কখনো পুলিশ, কখনো ছাত্রদল বা ছাত্রশিবির ক্যাডার লাঞ্ছিত করতো, হামলা চালাতো. অনেক সময় পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত হত না. কেননা আমরা বিরোধীদল, খুব সহজেই মামলা হয়ে যেত. অতএব, কৌশলগত পন্থানুসরণ করেছি প্রায়. সকালে ঘর থেকে বের হতে যে টাকা মিলত, তা দিয়ে সারাদিন চলা অসম্ভব ছিল! আর্থিক ভাবেও তেমন কেউ সাহায্য করতো না. সকালে বন্ধুদের সাথে নিয়ে ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতাম, দুপুরে প্রায় সময় নগর ছাত্রলীগের কর্মসূচী থাকতো, বহর নিয়ে যোগ দিতাম. আর মাঝখানে দুপুরের ভাত?

অসম্ভব ছিল. এতো টাকা কই পাবো! তাই সর্বোচ্চ ২ টাকা দামের একটি সিংগারা খেয়ে ক্ষুধা মিটাতে হত. লালদিঘীর মাঠ, শহীদ মিনার, মুসলিম হল, দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন ইত্যাদি আশপাশ জায়গায় প্রায়সময় নগর কর্মসূচী থাকত. এখান থেকে নিজ এলাকার দূরত্ব অন্তত ২/৩ কি.মি. কর্মসূচী শেষে সন্ধ্যা নাগাদ পায়ে হেটে এলাকায় ফিরেছি অজস্র বার. এতেই ক্ষান্ত হতাম না, অলিগলি ছুটেছি কর্মী বাহিনী তৈরি করতে. সহযোদ্ধাদের অনেক চাহিদা মিটাতে পারতাম না, আবার অনেকে সংঘ ছেড়ে চলে যেতো, তবুও কোন অবস্থায় মনোবল ভাঙেনি! পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারসেল এসব নির্যাতন নিত্য দিনের ঘটনা ছিল. হামলা-মামলা, জেল-জুলুম এর জন্য সার্বক্ষণিক মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হত. আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে দীর্ঘ পাঁচ বছর পেরিয়ে ১/১১. রাজনীতির ভবিষ্যৎ আরো অনিশ্চিত পথে. শীর্ষ নেতারা একে একে গ্রেপ্তার হতে লাগলো. ছোট বড় সবাই পলাতক।

জানা ছিল না এ পরিস্থিতি থেকে জাতি কবে মুক্ত হবে. দেশ ও রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোন পথে? এমতাবস্থায় প্রিয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার মুক্তির সংগ্রাম শুরু হল তাও বিচ্ছিন্ন ভাবে. দিকনির্দেশক নেই, খন্ড খন্ড মিছিল, অতর্কিত মানববন্ধন, আস্তে আস্তে সারাদেশে জোরালো বিক্ষোভ শুরু হতে লাগল. দীর্ঘ দেড় বছরের অধিক সময় পেরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে লাগলো, প্রিয় নেত্রী সহ একে একে শীর্ষ নেতারা মুক্ত হল। অন্ধকার রাত্রি পেরিয়ে জনতার বিপুল ব্যালট বিপ্লবে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায়. আস্তে আস্তে স্বপ্ন গুলো সত্য হওয়া শুরু করল. মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কেন এতো কথা? একজন ছাত্রনেতা সৃষ্টির পেছনে দীর্ঘ ত্যাগ ও শ্রমের ইতিহাস জড়িয়ে থাকে, যা সবাই বোঝেনা, সম্মান দিতে জানেনা! একটা সময় ছিল ব্যক্তির নামে কোন ব্যানার পোস্টার চিকা হত না।

যেটুকু দেখেছি সন্ত্রাসীদের হামলায় কোন নেতাকর্মী নিহত হলে বা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কারাবন্দী হলে, কেবল সেই ক্ষেত্রে একজন ছাত্রনেতার নাম ব্যবহার হত. এমনকি, আজকের সুসময়ে আমাদের নেতারা শীর্ষ সব অবস্থানে, বদলে গেছে ভাগ্য. বদলাইনি সেসব কর্মীদের জীবন চিত্র, যাদের নাম রক্তাক্ত ইতিহাস হয়ে আছে. অনেক ক্ষেত্রে নিজ দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে আমরা এখনো অবহেলার শিকার হয়, সুন্দর আচরণ পর্যন্ত কপালে জোটে না. এহেন পরিস্থিতিতে অনুভব হবে আমরা এখনো সেই বিরোধীদল কর্মী. মনের ব্যাথা বুকে ছাপা দিয়ে হাসিমুখে চলতে হয়, বুঝার কেউ থাকেনা, উনারা ক্ষমতার চেয়ারে বলে কথা! সেই তুলনায় আজকের প্রজন্মের সহযোদ্ধা ভাইয়েরা ভাল আছেন. কেননা এখন পুলিশ মিছিলে বাধা হয়ে দাঁড়ায়না, ঘুমের মধ্যে আসামী হয়না, রাস্তায় চলাচলে হামলার শিকার হয়না, অভিভাবক শূন্যতা নেই, খুব সহজেই মিলে উচ্চ পরিচয়. শিক্ষা শান্তি প্রগতি মূলমন্ত্রে সু-শৃংখল আদর্শিক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রত্যাশা করি সবসময়।

জয় বাংলা….

লেখক : ফারুক ইসলাম (সহ-সভাপতি)
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image