তবুও আমরা ছাত্রলীগ খারাপ!

ইয়াসিন আরাফাত বাপ্পি

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম : সকালে ক্যাম্পাসে গিয়ে সংসদে বসে পত্রিকা পড়ছিলাম। হঠাৎ করে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক বুদ্ধ পরিষদের এক ছোট ভাই কল করে বলল তাদের পরিষদের মিথিলা বড়ুয়া নামের এক ছোটবোনের নাকি একটা পরীক্ষা না দেওয়ার কারনে “ইয়ার লস” আসছে তাই অনেক কান্নাকাটি করছে, আপনি একটু কথা বলে দেখেন তারসাথে।

এরপর সংসদ থেকে বের হয়ে দেখি পলিটেকনিক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রোমান দাদার সাথে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছে এবং এই মেয়েটাই সে মেয়ে মিথিলা।

রোমান দাদা থেকে জানতে পারলাম মেয়েটি পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকার কারনে ইয়ার লস হয়েছে এবং এই বিষয়ে ইন্সটিটিউট প্রশাসনের কিছুই করার নেই।

কিছুক্ষণ পর পলিটেকনিক ছাত্রলীগের সুযোগ্য সভাপতি মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদ ভাই ও ক্রীড়া সম্পাদক ফখরুল ভাইও আমাদের সাথে যুক্ত হলেন এবং মিজান ভাই সম্পূর্ণ ব্যাপারটি শুনে বিভিন্ন শিক্ষকের সাথে কথা বলে তিনিও জানালেন আসলে কিছুই করার নেই এখন আর।

এরপরই শুরু হল মেয়েটির কান্নাকাটি। আমরা সবাই মিলে বারবার সবাই মিলে অনুরোধ করা সেত্ত্বও মেয়েটি কান্না না থামিয়ে বলছিল, ‘আমার বাবা যদি জানতে পারে আমার ইয়ার লস হয়েছে তাহলে আমাকে মেরে ফেলবে।’

আমরা আবারও তাকে বললাম যে আমরা তোমার বাবার সাথে কথা বলবো আর ওনাকে সবকিছু বুঝিয়ে বলবো।

কিন্তু কে শুনে কার কথা। মেয়েটি কেঁদেই চলল এবং এক পর্যায়ে সে আমাদের চোখের সামনেই অজ্ঞান হয়ে পরে গেল। তারপর শুরু হল তাকে নিয়ে আমাদের দৌড়াদৌড়ি। অনেক মেয়েদের ডাকলাম তাকে তোলার জন্য কিন্তু খুব একটা সাড়া পাচ্ছিলাম না। এরপর মেয়েদের কমন রুমের সামনে গিয়ে ডাক দেওয়ার পর বেরিয়ে আসলো সদ্য গঠিত “বেগম ফজিলাতুন্নেসা বিগ্রেড” এর সদস্য আকিতা, নিতু, দোলন ও তাদের বান্ধবীরা। তারা পড়ে মিথিলা বড়ুয়াকে সবাই মিলে ধরে কোলে নিয়ে নিয়ে গেল অধ্যক্ষ স্যারের কনফারেন্স রুমে। সেখানে এসে হাজির হলেন মানব দরদি নগর যুবলীগ নেতা মিল্টন বড়ুয়া দাদা।

তিনি মেয়েদের উদ্দেশ্যে বললেন, মিথিলার হাতের ও পায়ের তালুতে মেসেজ করার জন্য এবং অন্য একজনকে বললেন মুখে পানির ছিটকে দেওয়ার জন্য আর আমাকে বললেন একগ্লাস লেবুর শরবত বানাতে। এর মধ্যে মেয়েটি করে চোখ খুলতে শুরু করল। নিজ হাতে লেবু কেটে শরবত বানিয়ে মেয়েটিকে দিলাম খাওয়ার জন্য। একটু করে খাওয়ার পর সে বলল কিছুটা ভাল লাগছে ।

কিন্তু কিছুক্ষণ পরই শুরু তার শরীরে খিছুনি ও শ্বাস কষ্ট। মিল্টন দাদা তাড়াতাড়ি অধ্যক্ষ মহোদয়ের গাড়িটি বের করতে বললেন এবং আমাকে আর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক বন্ধু তানভীরকে বললেন মেয়েটিকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল যাওয়ার জন্য। আমাদের সাথে আসল বেগম ফজিলাতুন্নেসা বিগ্রেডের ৮জন সদস্য। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছিল গাড়ির প্রচন্ড চাপ। আমি আর তারভীর এক রকম ট্র্যাফিক পুলিশের মত চিল্লায় চল্লায় জ্যাম পেড়িয়ে পৌছালাম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে।

এরপর টিকেট সংগ্রহ করে একটা স্ট্রেসারে করে তাড়াতাড়ি ২য় তলায় নিয়ে গিয়ে ECG করালাম আবার সে রিপোর্ট ডাক্টারকে দেখালাম তিনি রিপোর্ট দেখে বললেন ৩য় তালায় মেডিসিন বিভাগে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

বেগম ফজিলাতুন্নেসা বিগ্রেডের মেয়েদেরকে স্ট্রেসার নিয়ে ৩য় তলায় পাঠিয়ে আমি আর তানভীর গেলাম আবারও টিকেট কাউন্টারে ভর্তি করানোর টিকেট নিতে।

কেবিনে ভর্তি করানোর কিছুক্ষণ পর আসলেন মিথিলার বাবা, মা ও স্বামী। তারা এসেও শুরু করলো কান্নাকাটি তাদেরকে শান্ত করে আবার নতুন করে ডাক্তার দেখালাম মিথিলা বড়ুয়াকে। ডাক্তার আশ্বস্ত করলো ভয়ের কিছু নেই কালকের মধ্যে সুস্থ হয়ে যাবে।

ঘড়িতে দেখলাম বিকাল ৩.২৬ মিনিট। আমাদের সাথে নিয়ে আসা বোন গুলোর বাসায় যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে। তাই মিথিলা বড়ুয়ার বাবা মা থেকে বিদায় নিয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। মাঝপথে একটু থেকে ছোটবোন গুলো নিয়ে হালকা নাস্তা করলাম। পরিশেষে তাদেরকেও ক্যাম্পাসে পৌছে দিয়ে আমাদের শান্তি।

ক্যাম্পাসে এতবড় ঘটনায় এগিয়ে আসেননি কোন শিক্ষক কিংবা সাধারণ শিক্ষার্থী। এগিয়ে এসেছিলাম আমরা যারা মুজিবীয় আদর্শে বিশ্বাসী তারা। যাদেরকে আপনারা সারা জীবন খারাপ বলে আসেছেন। যাদের পান থেকে চুন খসলে আপনাদের পত্রিকার ১ম পাতাতে দুইগ্রুপের সংঘর্ষ বলে নিউজ করেছেন।

কিন্তু ইতিহাস ভালোভাবে দেখেন, সমাজের বলেন কিংবা দেশের বিপদে সব সময় এগিয়ে এসেছিল এই খারাপ ছেলেগুলো। যদিও এই ছাত্রলীগ করা ছেলেগুলোর ভালোকাজ গুলো কখনো আপনাদের চোখে পরেনা। তখন আপনাদের চোখে টিনের চশমা পড়া থাকে।

আমাদেরকে কৌশলে আমাদের সবার চোখে খারাপ করে রেখেছেন আপনারা। আমাদের সেটা নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই যদিও। আমরা আ.জ.ম নাছির উদ্দিন ভাইয়ের সৈনিক। আমরা এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী ভাইয়ের অনুসারী। আমরা ভালো কাজের মাধ্যমে আপনাদের চোখে খারাপ হয়ে থাকতে কোন অসুবিধে নেই। আমরা এরকম খারাপ থাকতে চাই সব সময়।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.