দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন রনতরীর মহড়া

শনিবার, ৫ মার্চ, ২০১৬

দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন রনতরীর মহড়া

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম , চট্টগ্রাম : দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বন্দ্ব চলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের। সাগটির মালিকানার দাবিদার চীন কখনোই এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি মেনে নেয়নি। এ অবস্থার মধ্যেই দক্ষিণ চীন সাগরে গত ১ মার্চ থেকে জঙ্গি বিমানবাহী রণতরী দিয়ে মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

অবশ্য এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি চীন। তবে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তারা। সিএনএন জানিয়েছে, ফিলিপাইন এবং তাইওয়ানের মধ্যবর্তী লুজন প্রণালী হয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে প্রবেশ করে যুদ্ধবিমানবাহী মার্কিন রণতরীগুলো।

শুক্রবার মার্কিন নৌবাহিনীর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশটির নিমিতজ শ্রেণির যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জন এস স্টেনিস’, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস চ্যাং হুন এবং ইউএসএস স্টকডেলসহ আরো বেশকিছু যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরের পূর্বাংশে ১ মার্চ থেকে মহড়া দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

চীনা নৌবাহিনীর রণতরীর একেবারে কাছাকাছি মহড়াটি চালানো হচ্ছে বলেও মার্কিন নৌবাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। মহড়ার অধিনায়ক মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন গ্রেগ হাফম্যান স্টেনিস জানান, তার নৌদলটির কাছেই চীনা রণতরীগুলো তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন রনতরীর মহড়া

তিনি বলেন, ‘আমাদের চারপাশে চীনা রণতরী ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর আগে বিষয়টিকে আমরা এতটা স্বাভাবিকভাবে দেখতাম না।’ ২০০৭ সালেও একবার হাফম্যানকে দক্ষিণ চীন সাগরের মহড়ায় পাঠানো হয়েছিল। তাদের মহড়ায় চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র কারোরই কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন সাগরে পার্সেলস ও স্পার্টলিস দ্বীপমালার পুরোটা কিংবা অংশ বিশেষের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে চীন, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই। এ নিয়ে চীন ও ভিয়েতনামের মধ্যে কয়েকবার সংঘর্ষও হয়েছে। ফিলিপাইনও ছোট-খাটো সংঘর্ষে জড়িয়েছে চীন, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে।

পার্সেলস ও স্পার্টলিস ছাড়াও সেখানে রয়েছে আরো বারোটিরও বেশি দ্বীপ। সেগুলোতে মানুষ বাস করে না। ফসল ফলে না। পাথর ও বালির বিস্তীর্ণ প্রান্তর ছাড়াও আছে রীফ। সব সময়ই বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থেকেছে পার্সেলস ও স্পার্টলিস দ্বীপমালা। আর এই বিরোধ চলছে দশকের পর দশক ধরে।

আপনার মতামত দিন....

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.