‘পৌরসভা নির্বাচন গ্রহনযোগ্য করতে চাইলে সেনাবাহিনী মোতায়নের কোন বিকল্প নেই’

বুধবার,২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

CTG-BNP-600x356সিটিজিবার্তা২৪ডটকম : বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেছেন, যেভাবে পৌরসভা নির্বাচনের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী দলীয় সন্ত্রাসীরা বিএনপি প্রার্থীদের উপর হামলা করছে, প্রচারনায় বাধা দান করা হচ্ছে তা নজির বিহীন। এ কারনে পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু, অর্থবহ ও গ্রহনযোগ্য করতে চাইলে সেনাবাহিনী মোতায়নের কোন বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার তার চট্টেশ্বরী রোডস্থ বাসভবনে বিএনপি ও ২০দলীয় ঐক্যজোট নেতাদের সাথে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, বিগত কয়েকদিনে বারৈয়ারহাট পৌরসভা বিএনপি’র দুই নেতা লাঞ্চিত হন। ২০শে ডিসেম্বর লাঞ্চিত হন বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী মঈনুদ্দীন লিটন এর স্ত্রী, হামলার শিকার হন প্রার্থীর ভাই সহ ৫জন কর্মী। প্রচারনার সময় সন্ত্রাসীরা মাইক ভাংচুর করে। মীরসরাই পৌরসভায় বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী জেডএম রফিকুল ইসলাম পারভেজের নির্বাচনী প্রচারনায় ব্যাবহৃত ২টি গাড়ীতে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়, ১টি সিএনজি  অটোরিকসা ভাংচুর করে। এভাবে তারা এক ভয়ানক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

মীরসরাই বারৈয়ারহাট বিএনপি দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নুরুল আমিন এর উপর হামলা চালায়, গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এমনকি তার টাকা ও মোবাইল ফোন ও ছিনিয়ে নেয়া হয়। অন্যদিকে আর এক বিএনপি প্রার্থীর সমন্বয়কারী হাজী জালালউদ্দিনকে লাঞ্চিত করে জোরপূর্বক তাকে বাসে তুলে দিয়ে এলাকা ত্যাগে বাধ্য করা হয়।

একই ভাবে সীতাকুণ্ড, পটিয়া, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় বিএনপি প্রার্থীদের এ ধরনের  পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রত্রিকায় এসব সংবাদ ফলাও করে প্রচার করা হলেও নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। অথচ আইনশৃঙ্গলা বাহিনীর মাঠ জরীপে দেখা যায় যে চট্টগ্রামের ১০টি পৌরসভার মধ্যে ৪টি মারাত্বক ঝুঁকিপূর্ন। এসব পৌরসভার মোট ১৩৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১৪টিকেই ঝুঁকিপূর্ন তালিকায় রাখা হয়েছে। একদিকে বিএনপি প্রার্থীদের প্রচার প্রচারনায় সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় বাধা দান করা হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার বিশেষ অভিযানের নামে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ব্যাপক হারে ধরপাকড় করা হচ্ছে।

এমন এক ভয়ংকর ও অস্বাভাবিক ভীতিকর পরিস্থিতিতে কোনভাবে একটি সুষ্ঠ, কার্য্যকর ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। বিগত সংসদ নির্বাচন স্টাইলে এ যদি নির্বাচন করা হলে তা পৌরসভা নির্বাচনের নামে একটি প্রহসনের নাটকে পরিনত হবে। তাই গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে চট্টগ্রামরে ১০টি পৌরসভাসহ সারাদেশের সেনা মোতায়ন করা অতীব জরুরী।

প্রধান বক্তার বক্তৃতায় সাবেক মন্ত্রী ও দক্ষিন জেলা বিএনপি’র সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ধরপাকড়, হুমকি ধমকি ও সকল বাধা বিপত্তি সত্বেও দলীয় প্রার্থীর বিজয়ে ইস্পাত কঠিন শপথে কাজ করার আহবান জানান।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র-সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, দক্ষিন জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, মহানগর বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপি নেতা নুরুল আমিন, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, রাঙ্গুনীয়া বিএনপি’র আহবায়ক শওকত আলী নুর, পৌর-বিএনপি’র আহবায়ক মাহবুব সাফা, প্রথম যুগ্ম আহবায়ক অধ্যপক মহসিন, মেয়র প্রার্থী হেলাল উদ্দিন শাহ, চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, বিএনপি নেতা এড. কামাল উদ্দিন, বাঁশখালী উপজেলা সভাপতি আলমগীর কবির, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন দিপ্তী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, নগর ছাত্রদল এর সাধারন সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, নগর বিএনপি নেতা জসিমউদ্দিন মিন্টু, এস.এম আব্বাস, কেন্দ্রীয় জাসাসের সহ প্রচার সম্পাদক মামুনুর রশীদ শিপন, নাছির উদ্দিন, ছাত্র নেতা পারভেজ মোশারফ, আনসুর আলী, মো. হেলাল, মো. উসমান, সুজিত তালুকদার, মো. আলী সাকী, চবি জাসাসের সাবেক সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলাম টুটুল, ছাত্রদল নেতা মান্নান উদ্দিন, শামসুজ্জামান বাপ্পী, সাজিদুল ইসলাম ফয়সাল, দিদার, নাজিম উদ্দিন, আনোয়ার, মামুন, মোবাশ্বের প্রমুখ।

সুত্র ঃ বাংলামেইল

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image