বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০১৭
প্রেস রিলিজ-
সম্প্রতি সময়ে বেশ কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে র্যাব-৩ জানতে পারে যে, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র নিজেদের
ওয়াসার পরিদর্শন টিম পরিচয় দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ওয়াসার গ্রাহকদের বাসা বাড়ীতে প্রবেশ করে পানির মিটার
এবং লাইনের অসংগতি চিহ্নিত করে পানির লাইন বিচ্ছিন্নকরণ এবং জেল জরিমানা করার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায়
করছে। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে র্যাব গোয়েন্দা অনুসন্ধান শুরু করে।
গোয়েন্দা অনুসন্ধানের মাধ্যমে র্যাব জানতে পারে যাত্রাবাড়ী থানাধীন রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্রটি অপরাধ সংঘটনের জন্য একত্রিত হয়েছে। তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে র্যাব-৩, সিপিএসসি এর একটি আভিযানিক দল ২২/০৮/২০১৭ তারিখ ১৩৩০ ঘটিকার সময় অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। মোঃ লিটন শিকদার (৪২), পিতা-মৃত ধলু শিকদার, সাং- কাঠালবাড়ীর চর, থানা-শিবচর, জেলা-মাদারীপুর বর্তমানে রশিদবাগ, থানা-যাত্রাবাড়ী, ডিএমপি, ঢাকা, ২। মোঃ রফিকুল ইসলাম (২৫), পিতা- মৃত হানিফ মাস্টার, সাং-বাসা নং-৯৮/১ পশ্চিম জুরাইন, শ্যামপুর, ঢাকা, ৩। মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া (৩৫), পিতা-আব্দুল হাওলাদার, সাং- চালিতাবুনিয়া, থানা-বামনা, জেলা-বরগুনা, বর্তমানে বাসা নং-১১৭/এ দক্ষিণ কমলাপুর, মতিঝিল, ডিএমপি, ঢাকা, ৪। মোঃ দুলাল হোসেন (৩৭), পিতা-মৃত আলমগীর হোসেন, সাং-পশ্চিম সফিপুর, থানা-বামনা, জেলা-বরগুনা, বর্তমানে জহিরের বাড়ী, বাশেরপুল, থানা-ডেমরা, ঢাকাকে গ্রেফতার করে। তাদের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অপর সহযোগী ৫। বিপ্লব মিয়া (৩০), পিতারুহুল আমিন, সাং-টেপির বাড়ী, থানা-শ্রীপুর, জেলা-গাজীপুরদেরকে রাজধানীর দারুসসালাম এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
আসামী ৬। রুহুল আমিন, পিতা-আব্দুল মতিন শেখ, সাং-টেপির বাড়ী, থানা-শ্রীপুর, জেলা-গাজীপুর পলাতক রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের হেফাজত হতে ওয়াসার সীল ০৩টি, স্ট্যাম প্যাড ০১টি, লোহার হাতুড়ি ০১টি, টর্চ লাইট ০১টি, হ্যাকসু ব্লেড ০১টি, ওয়াসা লেখা কভার ফাইল ০১টি, সীল স্বাক্ষরযুক্ত ওয়াসার হোল্ডিং জরিপ তালিকা, ওয়াসার গ্রাহকদের বকেয়া প্রত্যয়নপত্র, ব্যাগ ০১টি, ০১টি ওয়াসার মনোগ্রামযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী এমদাদুল হক, কার্ড নং ১৬১ নামীয় আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।
আসামী বিপ্লব মিরপুর ওয়াসা অফিসের ইন্সপেক্টর জনাব মোঃ জহির উদ্দিনের সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ
করে আসছে। আসামী বিপ্লব ইন্সপেক্টর জনাব মোঃ জহির উদ্দিনের দায়িত্বধীন এলাকায় তার পক্ষে গ্রাহকদের মিটার রিডিং নেয়া এবং বিল দেয়ার কাজ করে। এই সুযোগে আসামী বিপ্লব উক্ত অফিস হতে, কাওরান বাজার এবং যাত্রাবাড়ী ওয়াসা অফিস হতে ওয়াসার গ্রাহকদের হোল্ডিং জরিপ তালিকা, ওয়াসার গ্রাহকদের বকেয়া প্রত্যয়নপত্র ফরমগুলো সংগ্রহ করে তা তার বাবা
আসামী রুহুল আমিনকে সরবরাহ করে। রুহুল আমিন গ্রেফতারকৃত আসামীদের সহযোগী এবং চক্রের অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করে।
আসামীরা হোল্ডিং জরিপ তালিকা অনুযায়ী গ্রাহকদের বাসা বাড়ীতে যায়। আসামী মোঃ লিটন শিকদার নিজেকে ওয়াসার উপ- সহকারী প্রকৌশলী এমদাদুল হক হিসেবে পরিচয় দেয়। আসামী মোঃ রফিকুল ইসলাম ওয়াসার সেনেটারী মিস্ত্রী এবং আসামী মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া ও আসামী মোঃ দুলাল হোসেন নিজেদেরকে ওয়াসার কর্মচারী পরিচয় দেয়। তারা নিজেদের ওয়াসার পরিদর্শন টিম পরিচয় দিয়ে গ্রাহকদের পানির মিটার ও লাইনের অসংগতি চিহ্নিত করে পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করণ, জেল জরিমানাকরণসহ ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং প্রতারনার মাধ্যমে অর্থ আদায় করে থাকে। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায় দীর্ঘদিন যাবৎ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের ওয়াসার পরিদর্শন টিম পরিচয় দিয়ে এভাবে প্রতারণা করে আসছে।
আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আবদুল করিম
সিনিয়র এএসপি
স্টাফ অফিসার(প্রিন্ট এন্ড মিডিয়া)







