প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টায় চালক ও সহকারী আটক

Sunday,06 May 2018

ctgbarta24.com

চট্রগ্রাম : নগরীর ১০ নং রুটের একটি চলন্ত বাসে বেসরকারী প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে বাস চালক সহকারীরা।

শনিবার (০৫ মে)  দুপুর একটার দিকে এনিয়ে তুলকালাম ঘটনা ঘটে নগরীর ওয়াসার মোড়ে। বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা সেখানে বাসের চালক রাসেল (৩৪) ও তার সহকারী হানিফ (২৬) কে গণপিটুনী দিয়ে চকবাজার থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু হয়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বাসা থেকে বের হয় সকাল ১০টার দিকে। তখন তুমুল বৃষ্টি ছিল। রাস্তায় তেমন গাড়িও ছিল না। একটি বাস দেখে ওই শিক্ষার্থী দ্রুত সেটাতে উঠে পড়ে। উঠার পরই দেখতে পান, সেখানে চালক ও তার সহকারী ছাড়া মাত্র চারজন যাত্রী আছেন, যাদের সবাই পুরুষ। শুরু থেকেই তাদের বিভিন্ন ধরনের উত্যক্তের মুখে পড়েন ওই ছাত্রী। এই অবস্থায় নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং মোড়ে মেয়েটি বাস থেকে নেমে যেতে চাইলে সহকারী হানিফ শরীরে হাত দিয়ে তাকে বাধা দেয়। তার গায়ের কাপড় টেনে খোলার চেষ্টা করে। বাসে থাকা অন্যরা তখন হাসাহাসি করছিল। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী সহকারীকে ঘুষি মেরে চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে নেমে যান। পরে বিশ^বিদ্যালয়ের পৌঁছে মেয়েটি তার সহপাঠীদের ঘটনাটি বলেন। ফলে বিশ^বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী নগরীর ওয়াসা মোড়ে গিয়ে বাসটি শনাক্ত করে চালক ও সহকারীকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। মেয়েটি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থী। নগরীর কোতয়ালী থানার হাজারী লেনে তাদের ক্যা¤পাস। ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রী বিষন্ন হয়ে পড়েছেন। বারবার কথা বলার চেষ্টা করেও তিনি রাজি হননি।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মো. নূরুল হুদা বলেন, শিক্ষার্থীরা বাসের চালক ও হেলপারকে আমাদের কাছে দিয়েছে। গণপিটুনীর কারণে চালক হেলপার দুজন আহত হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এখনও মামলা হয় নি। তবে চালক ও হেলপার তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, শিক্ষার্থীরা না চিনে তাদের ধরে এনেছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি। তবে যৌন হয়রানির অভিযোগ সঠিক বলে মনে হচ্ছে।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাইমুর রহমান বলেন, ঘটনার শিকার আমাদের সহপাঠী বাসটি শনাক্ত করেছেন। সে আমাদের চিনিয়ে দিয়েছে বলেই আমরা দুজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি। সে বাস চিনলে ড্রাইভার-হেলপার চিনবে না, এটা তো হতে পারে না।

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.