BREAKING NEWS
Search

মাল্টিভার্স এবং প্যারালাল ওয়ার্ল্ড

14971869_10154688308694450_1340268357_n

কানাডা কিনবা আমেরিকায় আমার মনে হয় সব চেয়ে বিরক্তিকর হচ্ছে কোন অটো হেল্প লাইনে ফোন করা। আমার সমস্ত সমস্যা নাম নিয়ে। অন্তত ১০ বার করে বলা লাগে। তার পরেও বুগেনা। তবে আমারও কায়দা আছে। শুরুতেই হেল্প, হেল্প, হেল্প করতে থাকি। মিনিট দুই একের মাথায় কোন হিউম্যান হেল্পে ট্রান্সফার করে দেয়। কিছু কিছু সময় অবশ্য এই ফর্মুলা কোন কাজেই আসেনা। অফিসে বসেই আমার নামটা বলতে থাকি আর কলিগ গুলো খ্যাক খ্যাক হেসে, nail that auto shit, I know you can do it। তখন আমি আমার ইবে থেকে কেনা “Got To Hell” বাটন ওদের দিকে ফিরিয়ে প্রেস করতে থাকি। এই সময় গুলোতে এতো অসহায় লাগে। মনে হয় যদি আসলেই কোন প্যারালাল ওয়ার্ল্ড বলে কিছু থাকত, হয়তো এই সার্ভিসটা একটু অন্য রকম হতো। কি অন্যরকম কে জানে কিন্তু আশা করতে দোষ কি?

আমি নিজে প্যারালাল ওয়ার্ল্ডে বিশ্বাসী। আমরা কতটুকুই বা জেনেছি এতো জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নতি করে? কেউ কি কোথাও নিশ্চিত হতে পেরেছে যে ওয়ার্ল্ড মাত্র একটাই আছে? আমার জানা নেই। আমাদের আজকের লেখার বিষয় মাল্টিভার্স এবং প্যারালাল ওয়ার্ল্ড। এটা একটা অনুরোধের লেখা। এই অনুরোধটা এসেছে আমার প্রিয় এবং শ্রদ্ধেয় একজন মানুষের কাছ থেকে অনেকদিন আগে। অবশ্যই উনি বুঝবেন তাই ওনার কাছেও অনুরোধ – যদি কোন অংশ নুন্যতম খারাপ লাগে আমাকে ইনবক্সে জানান প্লিজ, আমি ডিলিট করে দিব।

৷৷ ইনফ্লেশন থিউরী ৷৷

এর আগে আমরা বিগ ব্যাং কি জিনিষ এটা নিয়ে একটু জেনেছিলাম। এই বিগ ব্যাং এর ঠিক ব্যাং হবার মুহূর্ত এবং ইউনিভার্সটা হয়ে যাবার সময়ের মাঝে একটা সময় আছে, যেটাকে বলে ইনফ্লেশন টাইম। এই টাইমটাকে নিয়ে যেই থিউরী সেটাকে বলে ইনফ্লেশন থিউরী। এটা একটু জানা প্রয়োজন আজকের জন্য।

ইনফ্লেশন থিউরীটা ইন্টারেষ্টিং আছে। আন ইমাজিনেবল এনার্জী একটা ছোট্ট পয়েন্টে (বিগ ব্যাং এর পয়েন্ট) কল্পনা করে এটার সাথে টাইমের একটা রিলেশন ডেরাইভ করা যায়। এই ইকুয়েশন থেকে যদি গ্রাভিটির ভ্যালু বের করেন, সহজ ভাবে বললে, দেখা যাবে যে গ্রাভিটির ভ্যালু অনেক বেশী এবং নেগেটিভ আসছে। এটার মানে হলো, সাধারণত কোন একটা অবজেক্টের ক্ষেত্রে গ্রাভিটি যখন পসিটিভ তখন সে সব কিছুকে তার নিজের দিকে টানে কিন্তু যখন নেগেটিভ তখন সব কিছু ওই অবজেক্টটা বাইরের দিকে ঠেলে দিতে চেষ্টা করে। তাই নেগেটিভ আসার কারনে এই গ্রাভিটির ভ্যালু বিগ ব্যাং এর পরের মুহূর্তে এতই প্রচণ্ড দেখাল যে সায়েন্টিষ্টরা নিশ্চিত হলেন এবং জানলেন কীভাবে এক মুহুরতেই একটা ছোট্ট স্পেস বড় হয়ে এই বিশাল বেবি ইউনিভারসটা ক্রিয়েট করেছিল। এই মুহুরতের পরেই আসলে ম্যাটার, গ্রহ, গালাক্স্যী এগুলো ফর্ম করতে শুরু করে।

তাই এই থিউরী বিগ ব্যাং কে নাকচ করে দেয়নি কিনবা এর অপজিট ও না। বরং এই থিউরী বিগ ব্যাং কে আরও ভ্যালিডিটি দিয়েছে, বিগ ব্যাং হবার পরের মুহূর্ত কেন এবং কি ঘটলো সেটার একসপ্লানেশন দিয়েছে কিন্তু সায়েন্স এর একটা জটিল দরজা ওপেন করেছে। সেটা হলো প্যারালাল ওয়ার্ল্ড এর কনসেপ্ট। এই প্যারালাল ওয়ার্ল্ড টার্মটা আসলে সায়েন্স ফিকশনেও অনেক ইউস হয় আর এই কনসেপ্ট নিয়ে যেই থিউরী সেটাকে বলে মাল্টিভার্স থিউরী। ইনফ্লেশন থিউরী আসলে মাল্টিভার্স কনসেপ্টটা বাইরে নিয়ে এসেছে এবং এটাই মুলত মাল্টিভার্স বা প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের জন্ম দিয়েছে বলতে পারেন।

৷৷ আবছা ধারনা ৷৷

ব্যাপারটা অনেকটা এই রকম যে, বিগ ব্যাং এর ঠিক পরের মুহূর্তে ওই ছোট্ট কনাটা থেকে এনার্জী এভাবে এক্সপ্লোড হওয়াটাকে আপনি বলতে পারেন এনার্জী ডিসচার্জ হওয়া। মাল্টিভার্স নিয়ে যারা রিসার্চ করেন, ওনারা বললেন যে, এই যে এনার্জী ডিসচার্জ হলো, এটা আসলে ইনফ্লেশনের পর শুধু একবার হয়নি, এটা আগেও হয়েছে আর পরেও হচ্ছে এবং আজীবন এভাবেই হতে থাকবে। কারন এই ইনফ্লেশনের সময়টা পার হবার পরে এটা থামবে কেন? এটা তো আরও অন্য স্পেসে ঘটতেই পারে কারন এনার্জীর পরিমান তো ইনফাইনাইট ছিল ওই বিগ ব্যাং এর কণাটায়। তাছাড়া আরও একটা বড় ব্যাপার যেটা এই থিউরী বলে যে ইনফাইনাইট পসিবিলিটি। তার অর্থ, মনে করেন আপনি মাঞ্জা দিয়ে বাইরে বের হচ্ছেন বান্ধবির সাথে দেখা করতে। হয়তো এই ওয়ার্ল্ডে আপনি গিয়ে দেখা করলেন, অন্য ওয়ার্ল্ডে আপনি পথের মাঝেই আর একজনকে দেখে থেমে গেলেন লুল এর মতো, অন্যখানে হয়তো আপনাকে ধরে প্যাঁদানি দেয়া হল এই টাইপ। আসলে কোন একটা কাজের আউটকাম তো ইনফাইনাইট সংখ্যক হতে পারে। এটা এই থিউরী সাপোর্ট করে। কারন এক একটা ইউনিভার্স ভিন্ন ভিন্ন ইনিশিয়াল কন্ডিশন থেকে ক্রিয়েট করে তাই এই আইডিয়া এপ্লিক্যাবল। মেইন ষ্ট্রিমের সায়েন্টিষ্টরা এটা মানতে চান না কারন এই থিউরীর ফিলোসফিক্যাল এবং এক্সপেরিমেন্টাল ইমপ্লিকেশন। একটু ভাবেন, এটা আপনি কিভাবে প্রমান করবেন? থিউরী ডেরাইভ করতে পারেন কাগজের পাতায় কিন্তু কোন থিউরীর প্রতিই খুব বেশী মনযোগ কেউ দিবেনা যতক্ষণ না আপনি এটা এক্সপেরিমেন্টালী প্রুভ করতে পারছেন। তবে এক্সপেরিমেন্টালী প্রমান না হলেও কিছু লজিক আছে যেটা পরে লিখেছি। এটাই মূলত মাল্টিভার্স থিউরীর একটা আবছা ধারনা বলতে পারেন।

৷৷ এনালজী ৷৷

এটার একটা এনালজী দেয়ার চেষ্টা করি। মনে করেন আমার একটা, ওই যে, লোহার শিকের ভিতর ঢুকিয়ে চুলায় জ্বালাতে থাকে যেই মুরগি গুলো (সত্যি জানিনা কি বলে এই ডিসটাকে), ওটা একটা খেতে ইচ্ছে করেছে। তো আমি আল আমিন ভাই রেষ্টুরেন্ট অ্যান্ড কোং এও যেতে পারি অথবা নান্দুস (এটাই তো মনে হয় নাম, নাকি) এও যেতে পারি। এখন আল আমিন ভাই রেষ্টুরেন্টের মুরগিটাকে যদি একটা কামড় দেই, তাহলে হয়তো মুরগির ভিতরে থাকা মশল্লা পিচিক করে বাইরে পরবে। আমার চিন্তার কিছু নেই কারন এটার দাম কম কিন্তু ঠিক এই কান্ডটাই যদি নান্দুসে ঘটে, ধরেন দামের কথা চিন্তা করে আমি টেবিল থেকে চেটে তুলে খেয়ে ফেলব। তাই একটা ঘটনা আসলে কোন ষ্কেলে ঘটছে এটা ঘটনাটার ম্যাগনিচুড এবং ইমপ্যাক্ট ডিফাইন করে। এখন ভাবেন আমাদের শুরুর ইউনিভার্সটা। যেটা পুরোটাই একটা এনার্জীর কনা (মুরগি ভাবেন) ছিল। আর যেহেতু এই এনার্জী একবারেই ডিসচার্জ হচ্ছে না (আপনি তো আর এক কামড়ে মুরগি খেয়ে শেষ করতে পারবেন না, অনেক গুলো কামড় দিতে হবে), তাই সারাক্ষণই এটা আবারও একটা এনার্জী ডিসচার্জের মতো ব্যাপারের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। আর এই ডিসচার্জটা যেহেতু হচ্ছে কসমিক লেভেলে (নান্দুস লেভেলে),তাই এই প্রতিটা ডিসচার্জের সাথে সাথেই একটা একটা ইউনিভার্স ক্রিয়েট করছে এবং এটা ঘটছে প্রতি মুহুতেই। এভাবেই ইনফাইনাইট সংখ্যক প্যারালাল ওয়ার্ল্ড একই সাথে পাশাপাশি এক্সিষ্ট করছে এবং এটাই মূলত মাল্টিভার্স থিউরী। জানিনা বোঝানো গেলো কিনা।

৷৷ একটু টেকনিক্যাল ৷৷

যখন মাল্টিভার্স কনসেপ্টটা প্রপোস করা হলো, সায়েনটিষ্টরা ইনফ্লেশন থিউরী সহজ ভাবে নিলেও এই প্যারালাল ওয়ার্ল্ড কনসেপ্টটা ঠিক গ্রহন করলেন না। তখন হঠাৎ করেই স্ট্রিং থিউরী এবং ডার্ক এনার্জী আবিস্কার ওনাদের বসে যাওয়া নৌকায় বিশাল ধাক্কা দিলো। স্ট্রিং থিউরী নিয়ে কিছু বলছি না কারন এটা নিয়ে আলাদা লেখা দেবার ইচ্ছা আছে শুধু ডার্ক এনার্জী নিয়ে বলছি। ব্যাপারটা এই রকম। আপনি যদি আম গাছে একটা ঢিল ছোড়েন তাহলে ঢিলটা যেই ফোর্সে ছুড়েছিলেন আমের কাছে পৌছাতে পৌছাতে কিন্তু সেটার ফোর্স একটু কমে যাবে। কমে যাবে কারন গ্রাভিটি এই ঢিলটাকে পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে টেনে ধরছে এবং যতই উপরে যাচ্ছে এই টানের পরিমানটা ততই বেশী হবার জন্য ঢিলটা আষ্তে আষ্তে থেমে যাচ্ছে। এখন এটা এই ইউনিভার্সের ক্ষেত্রে চিন্তা করেন। সবাই তো সবাইকে নিজের দিকে টানার কথা। সবাই যদি সবাইকে নিজের দিকে টানে তাহলে ছড়িয়ে না গিয়ে সবার আরও একটা ছোট্ট জায়গাতে একত্রিত হওয়া উচিত কিন্তু ঘটছে উল্টোটা, আরও এক্সপান্ড করছে। উল্টোটা ঘটছে কারন অন্য কোন একটা এনার্জী এই ইউনিভার্সটাকে এক্সপান্ড করতে বাধ্য করছে। এই যে এনার্জীটা বাধ্য করছে এটা আমরা চোখে দেখতে পারিনা বলেই এটাকে বলে ডার্ক এনার্জী। ডার্ক এনার্জী আবিস্কারের পর বোঝা গেলো যে স্পেস মোটেও এম্পটী না, এখানে যেমন হিগস বোসন ছড়ানো আছে তেমন ডার্ক এনার্জীও এই এম্পটী স্পেসে ছড়ানো আছে।

যেহেতু এই আননউন জিনিষটা পাওয়া গেলো, মাল্টিভার্স থিউরী নিয়ে যারা কাজ করতেন তারাও এবার ঝাপিয়ে পড়লেন। ওনারা বের করলেন ইউনিভার্স যেই স্পীডে এক্সপান্ড করছে এটার জন্য কি পরিমান ডার্ক এনার্জীর দরকার হবে। দেখা গেলো এই ডার্ক এনার্জীর পরিমান যদি ১ হয় তাহলে এখন আমরা যেই ইউনিভার্স দেখছি এটার এক্সিষ্ট করার কথা এবং এক্সপানশন স্পীড মিলে যায়। কিন্তু থিউরিটিক্যালী এটার ভ্যালু আসলো ১০^-২০ অথবা পয়েন্ট এর পরে ১২০টা শুন্য এর পরে একটা ১ দিলে যতটুকু হয় ঠিক ততটুকু। (আমি এই ১ এবং ১০^-২০ এর জন্য কোন ইউনিট উল্লেখের ঝামেলায় গেলাম না, কিন্তু ভ্যালু দুটো এই রকমই) তাহলে কি আপনি বুঝতে পারছেন কতো বড় একটা গোলামাল আছে থিউরী এবং যেটা অবজারভেশন করে দেখা গেছে তার ভিতরে। আর এই থিউরীটাও হচ্ছে আইন্সটাইন এর জেনারাল রিলেটিভিটী থিউরী যেটা এখনও পর্যন্ত ভুল প্রমানিত হয়নি। এটা এখন পর্যন্ত আমি যতদূর জানি ফিজিক্‌স এর একটা আনসলভড প্রব্লেম।তো এই যে একটা মিসম্যাচ এটার ব্যাখ্যা ওনারা দিলেন যে বাকি ডার্ক এনার্জী গুলো আসলে আরও কিছু ডাইমেনশনের ভিতর দিয়ে অন্য ইউনিভার্সের চলে যাচ্ছে। অর্থাৎ বাকি ডার্ক এনার্জী অন্য যে আরও অসংখ্য ইউনিভার্স আছে তাদের জন্য ব্যয় হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন আমরা এতো ডাইমেনশন থাকলে সেটা দেখতে পারছি না। এটার জন্য ওনারা নীচের ব্যাখ্যাটা দিলেন যেটা খুবই যুক্তিযুক্ত।

ব্যাপারটা এই রকম যে, মনে করেন আপনি দূর থেকে একটা লোহার পাইপ দেখলেন। এখন আপনি যখন এটাকে দূর থেকে দেখবেন, আপনি পাইপটাকে জাস্ট একটা লম্বা লোহার রড ভাববেন যার একমাত্র দৈর্ঘ আছে কিন্তু কোন প্রস্থ বা উইড্ধ নেই। কারন আপনি একটা অনেক বড় অবজেক্ট এবং পাইপটা অনেক দূরে। এটা আপনি জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেই বুঝতে পারবেন। এখন আপনি নিজেকে পিপড়া (লাল বা কাল যা ইচ্ছা ভাবেন, এইটা তো আবার একটা বিশাল ঝামেলা কোন পিঁপড়া কোন ধর্মের) ভাবেন, এবং ভাবেন যে আপনি ওই পাইপটার ঠিক উপরে আছেন। কি দেখবেন? আপনি দেখবেন আপনি পাইপটার দৈর্ঘ বরাবর সামনে এবং পিছনে হাটাচলা করতে পারেন, এবং তার প্রস্থ বরাবর উপর এবং নীচ পাইপটাকে একটা রাউন্ড দিয়েও আসতে পারেন কারন এটা তো একটা গোলাকার পাইপ। একটু ভাবেন কি হল এখানে। আপনি দূর থেকে ভেবেছিলেন পাইপটা একটা ওয়ান-ডাইমেনশনাল অবজেক্ট(শুধু দৈর্ঘ আছে) কিন্তু আপনি যখন নিজেকে পাইপটার খুব কাছে নিয়ে নিজেকে অনেকগুন ছোট একটা অবজেক্ট করলেন, আপনি দেখলেন আসলে পাইপটা একটা টু-ডাইমেনশনাল অবজেক্ট (দৈর্ঘ এবং প্রস্থ আছে)। অর্থাৎ, অবজেক্ট একই থাকলো কিন্তু তার একটা এক্সট্রা ডাইমেনশনের দেখা পেলেন যখন আপনি অনেক ছোট লেভেলে নেমে গেলেন। তো মাল্টিভার্স এবং স্ট্রিং থিউরী নিয়ে যারা কাজ করছেন তারা ঠিক এই যুক্তিটাই দিলেন। ওনারা বললেন, আমরা অন্য ডাইমেনশন গুলো দেখিনা কারন আমরা ওই ছোট্ট মাইক্রোসকপিক লেভেল নামতে পারছি না। অন্য ডাইমেনশন গুলো আমাদের কাছে ভিসিবল হচ্ছেনা কিন্তু যদি আমরা ওই মাইক্রোসকপিক লেভেলে নামতে পারি তাহলে আমরা ওই হিডেন ডাইমেনশন গুলোর দেখা পাব। আর এই ডাইমেনশন গুলো কি করছে? এই হিডেন ডাইমেনশন গুলো দিয়ে ডার্ক এনার্জী অন্য ডাইমেনশন বের হয়ে গিয়ে অন্য ইউনিভার্স গুলোকে এক্সপান্ড করেতে হেল্প করছে এবং এই কারনেই আমাদের থিউরী (১০^-২০) এবং প্রাকটিক্যাল(১) ডার্ক এনার্জীর পরিমান এতো মিসম্যাচ হচ্ছে। শক্ত এক্সপ্লানেশন।

৷৷ প্যারালাল ওয়ার্ল্ড এবং প্রিয়জন ৷৷

এই প্যারালাল ওয়ার্ল্ড ব্যাপারটা আমার নিজেকেও মাঝে মাঝে একটু স্বস্তি দেয়। কোন প্রিয়জন যদি এই ওয়ার্ল্ড থেকে হারিয়ে যায় বা প্রচণ্ড কঠিন কোন চ্যালেন্জের মুখোমুখি হয়, হয়তো অন্য কোন ওয়ার্ল্ডে সে তার মতো করেই বড় হয়, হয়তো চ্যালেন্জটা থাকেনা। ওখানে সে হয়তো অন্য ভাবে খেলে, চুল বাধে, অন্য কোন মায়ের চুমু খায়। আর অন্য ওয়ার্ল্ড এর মায়ের যতই অক্ষমতা থাকুক না কেন, ভালোবাসাটা সে এই ওয়ার্ল্ডের মায়ের মতই দেয়। এটা কখনই ভিন্ন হয়না।

তবে যেহেতু আমি এই একটা ওয়ার্ল্ডই এক্সপেরিয়েন্স করি এবং অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে এখানে কিছু কিছু ক্ষত থাকে যা কোন ভাবেই শুকায়না, যতই পানি ঢালেন না কেন, এখানে এমনকি আগাছাও জন্মায় না। এটা একমাত্র যারা বয়ে বেড়ায় তারাই জানে। আমার মতো উনিও সেই মানুষদের একজন। আসুন আমরা চিৎকার করে কাদতে ইচ্ছা হলে কাদি কিন্তু প্রিয় মানুষটার জন্যই ভালো থাকি। দুনিয়া তছনছ হয়ে গেলে যাক কিন্তু আমাদের যেভাবেই হোক ভালো থাকতেই হয় শুধু তাদের জন্য। শুধু তাদের জন্য আমাদের সব কিছু হতে হয়। যার যা এবং যেমন ইচ্ছা ভাবে ভাবুক আমাদের – কিচ্ছু যায় আসেনা।

I am not your rolling wheels I am the highway.
I am not your carpet ride I am the sky.
– Song Title: I Am The Highway; Band: Audioslave; Artist: Chris Cornell; Year: 2004.

মোঃ আরিফুজ্জামান (সুমন) পেশায় একজন প্রকৌশলী এবং অবসর সময়ে ফিজিক্যাল কসমোলজী নিয়ে পড়তে ভালবাসেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশু এবং গর্ভবতী মায়েদের অধিকার আদায়ে যুক্ত থাকতে পছন্দ করেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image