রুশ-মার্কিন সম্পর্ক উষ্ণ হবার কোন আশু সম্ভাবনা এখন আর নেই

Monday, 05 March 2018

ctgbarta24.com

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কয়েকদিন আগে তার দেশের নতুন পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার তুলে ধরে যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে অনেকেই বলছেন, এতে আভাস পাওয়া যায় – রুশ-মার্কিন সম্পর্ক উষ্ণ হবার কোন আশু সম্ভাবনা এখন আর নেই।

কিন্তু এসব অস্ত্র কি আসলেই বাস্তবে তৈরি হয়েছে বা তাদের হাতে আছে? নাকি এগুলো কল্পনা, বা নির্মাণাধীন প্রকল্প মাত্র?

বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা জোনাথন মার্কাস লিখছেন, পুতিন সম্ভবত এ আশা ছেড়েই দিয়েছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার কোন ঘনিষ্ঠ সমঝোতা গড়ে উঠবে।

যেভাবে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার আধুনিকায়নের কথা বলছে, তাতে অনেকেই স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের কথা মনে করে উদ্বিগ্ন বোধ করবেন।

আরো উদ্বেগের বিষয় যে, নতুন নতুন সামরিক প্রযুক্তির কথা এমন এক সময় বলা হচ্ছে যখন বর্তমান অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে।

মনে রাখতে হবে অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণের নানা চুক্তির পরও এখনো রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যে পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র আছে – তা দিয়ে গোটা পৃথিবীকে কয়েকবার ধ্বংস করা যাবে।

রাশিয়া আমেরিকানতুন পরমাণু অস্ত্রের কথা জানাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

বিশেষ করে ওয়াশিংটন ক্ষেপণাস্ত্র-রোধী যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা বলছে তা রাশিয়াকে চিন্তিত করে তুলেছে।যদিও অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞই বলছেন, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফলে রাশিয়ার সক্ষমতা কমে যাবে – এমনটা তারা মনে করেন না।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট পুতিন তার যে নতুন পারমাণবিক অস্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন, এগুলো তৈরিই হয়েছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র-রোধী ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেবার কথা মাথায় রেখে।

এর মধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র আছে যা মহাকাশ দিয়ে যাবেনা, বরং যাবে সমুদ্রের পানির তলা দিয়ে। এটা হচ্ছে এক ধরণের টর্পেডো – যার মাথায় পারমাণবিক বোমা বসানো থাকবে।

রাশিয়ার আরেকটি অস্ত্র হচ্ছে নতুন এক ধরণের আন্ত-মহাদেশীয় পারমাণবিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র -যা এত দ্রুত উড়বে, বা এমনভাবে উড়বে যাতে তাদের মাঝপথে ঠেকিয়ে দেয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

শুধু রাশিয়া নয়, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনও নাকি এরকম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য কাজ চালাচ্ছে।

কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, ভিডিও ডেমনস্ট্রেশনে যাই দেখানো হোক – এসব মিসাইল কি আদৌ বাস্তব রূপ নিয়েছে, বা কখন নেবে?

বিশেষজ্ঞদের কথা, পুতিন যাই বলুন, আসলে রাশিয়া এখনো এগুলো তৈরির পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এ ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হতে অনেক বছর লাগবে।

জোনাথন মার্কাস বলছেন, এখন আমরা যা শুনছি এটা মূলত বাগাড়ম্বর।

ট্রাম্প এর আড়ে বড়াই করে বলেছেন, আমেরিকার পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার সবার চেয়ে বড়। পুতিনও এখন ঠিক তাই করছেন, বলছেন – রাশিয়ার যে অস্ত্র আছে তা আর কারো নেই।

আপনার মতামত দিন....

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.