রোববার, ৬ মার্চ ২০১৬ ০১:০৫ ঘন্টা
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
জেনিফার আলম : এস.এম.কামরুল হাসান পি.পি.এম – কোন সুপার কমিক বা সুপার হিরোদের নামের পাশে এই নাম বড় বড্ড বেশী সেকেলে, তার চাইতে বড় কথা এই নাম খুব বেশী মানুষ জানেও নাহ এবং এই নামের মধ্যে কোন সুপারম্যান এর নাম নিশানা নেই। গুটি কয়েক মানুষ তাকে চিনেন এবং তাদের চোখে তিনি সত্যিকার অর্থেই সুপার হিরো এবং বাস্তবে সুপার হিরো নেই বলে যে কথা প্রচলিত আছে, এই লেখার শেষে আপনি আপনার নিজের দেশের একজন সত্যিকার এর সুপার হিরো কে চিনতে পারবেন।
২০০৭ সালে ভয়ংকর জেএমবি অপারেশন ও অস্ত্র উদ্ধার করে পিপিএম পদক লাভ করেন সাহসিকতার জন্য, ১৯/৪/২০০১সালে সার্জেন্ট হিসাবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন এবং এর পর থেকে এখন পর্যন্ত সম্মানের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন,কিন্তু আজকের লেখা একজন পুলিশ পদক লাভকারী একজন মানুষের নাহ, সত্যিকার এর সুপারহিরোর্।
পুলিশে চাকরি করে যা সামান্য বেতন পান তা দিয়ে তিনি রাস্তার অভাবী মানুষগুলো কে সাহায্য করেন এবং তাদের কে যথাসাধ্য সেবা করেন। আমরা যখন নিত্য নতুন খাবার, জামা কাপড় কিনা নিয়ে ব্যাস্ত থাকি, তখন এই মানুষটি রাস্তার মানুষ গুলো কে বুকে টেনে নিয়ে নিজের শেষ কপর্দকটুকু দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যাস্ত থাকেন।তার ভাষায় – আমার ধারনা আমার বিশ্বাস এরাই বাংলাদেশ ,এদের মুখে হাঁসি ফোটাতে পারলেই হাঁসবে বাংলাদেশ। কিন্তু এই হাসি ফোটাতে চাই এক বিশাল মন আর অর্থের, আর এই অর্থের যোগান দিতে যেয়ে নিজের বেতনের পুরোটুকুই বের হয়ে যায়।
পুলিশের চাকরী আমাদের দেশের অন্যতম কঠিন এবং বিপজ্জনক পেশা, তার চাকরি জীবন নিয়ে তার মুখে শুনলাম ডিউটির সময়ের কথা – প্রচন্ড রোদ গরম, তবুও রাস্তায় দাড়াতে হবে ,না হয় ভদ্রজনেরা উল্টা পাল্টা গাড়ি চালিয়ে বন্ধ করে দিবেন ,সাধারন মানুষের চলাচলের পথ।তার মাঝে ধুলাবালি আর উচ্চশব্দ তো বাদ দিলাম ।এই হলো আমাদের চাকরি বা কাজ।আর একটু পান থেকে চুন খসলেই এসি গাড়ির গ্লাস নামিয়ে দুই চার কথা শুনিয়ে দিবেন। কিছুই বলা যাবেনা কারন চাকরি বলে কথা । কতজন দৈনিক কতবার চাকরি খেয়ে ফেলে অথবা পোষ্টিং করে দেয় তার হিসাব না হয় বাদ দিলাম । সিগন্যাল চলছে কোন ভদ্রজন রাস্তা পার হবেন দেরি হলো কেন,এইটাও অপরাধ কারন আমি কেন তাকে আগে পার করলাম না, যাওয়ার সময় বলে যাবেন কি করে চাকরি করেন দেখছি! ভাগ্য ভালো আমাদের সিনিয়র স্যারেরা ভদ্রজনদের সব কথা শুনে যাচাই বাছাই করেন।তবে এমন সব ভদ্রজন মাঝে মাঝে এমন করে বলেন যা শুনলে আপনার ও বিশ্বাসের টনক নরে যাবে।তবুও দিন যায় মাস যায় বছর যায় ১৬ টি বছর পার করলাম একই পদে,কত জেলা ঘুরলাম,নগর ঘুরলাম ,মহানগর ঘুরলাম কত যানজট ছুটালাম কিন্ত নিজের জীবনের জট ছাড়াতে পারলাম কই।
জীবনের জট ছাড়াতে পারছেন নাহ এই কথা মুখে বল্লেও এই মানুষটি দিন রাত অমানুষিক পরিশ্রমেরে শেষে নিরন্তন হাসি ছড়িয়ে যাচ্ছেন সেইসব মানুষদের মুখে, যাদের কে দেখলে আমরা মুখ কুচকাই, দূরে সরিয়ে দেই, আর সেই সব মানুষকে পরম মমতায় বুকে টেনে নেন তিনি,সাধ্যমত চেষ্টা করেন সাহায্য করার্।তার ভাষায় – আমি দরিদ্র মানুষ, সামান্য চাকরি করি কিন্তু এরই মাঝে যখন এদের জন্য কিছু করতে পারি তখন যে কি আনন্দ পাই তা বলে বুঝাতে পারবো না।আমার ধারনা আমার বিশ্বাস এরাই বাংলাদেশ ,এদের মুখে হাঁসি ফোটাতে পারলেই হাসবে বাংলাদেশ ..
কামরুল হাসানের জন্ম ১.১.১৯৭৫ সালে,চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানায়, বাবা আর্মিতে ছিলেন।
তিন ভাই দুই বোন এর মধ্যে মেঝ। বাবার পোষ্টিং এর কারনে বিভিন্ন জেলায় পরাশুনা করেছেন। চিটাগং জেলা হতে এস এস সি ১৯৯০ সালে , পাহারতলী কলেজ হতে ১৯৯২ সালে এইচ এস সি এবং ১৯৯৪ সালে বিএ পাশ করে পুলিশে যোগদান করেন। বর্তমানে ২সন্তানের জনক এই মানুষটি ২০১২ সালে বড় ধরনের রোড এ্যাকসিডেন্ট হয় করেন এবং তার ডান হাত অনেকটা অকেজো হয়ে যায়। তিনি এখনো ডান হাতে খেতে পারেন নাহ তবুও তিনি থেমে যাননি. তার স্ত্রী সংসার সামলানোর পাশাপাশি নিজে ছোটখাটো ব্যাবসা সামলান, এবং এই অর্থ দিয়েই মূলত তার সন্তানদের এবং পারিবারিক প্রয়োজনীয় খরচ মিটানো হয়। তবুও তার স্ত্রী তার এই জন সেবা মূলক কাজ গুলোতে সর্বাবস্থায় সমর্থন জানিয়ে এসেছেন।
এখন দুটি সংগঠন নিয়ে কাজ করছেন, একটা শুধু মাদক নিয়ে কাজ করে আর আরেকটা দুস্থ্যদের নিয়ে। নিরাপদ জীবন এবং মাদক বিরোধী শক্তি। ২০০১৫সালে শুরু করেছেন সংগঠন দুইটি। সমস্ত চট্টগ্রামে একমাস ব্যাপি মাদক, জংগী সন্ত্রাস, ইভটিজিং বিরোধী প্রচারনা চালিয়েছেন, মাইকিং করে এবং মানব বন্ধন করে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন। শুধু এই শীতে কম্বল দিয়েছেন ৭০০টি আর জ্যাকেট দিয়েছেন ৬৩০টি. আমাদের সুপারহিরো বলেন – আমি চাই মাদক মুক্ত বিশ্ব ,দারিদ্র মুক্ত বিশ্ব দেখে যেতে তার জন্য যা যা করতে হয় আমি করবো ইনশাল্লাহ। আমি নগন্য মানুষ আমি মানুষের পাশে থাকতে চাই, মানুষের কল্যানের জন্য আর আমি চেষ্টা করছি সমাজের সবগুলো মানুষ যেন যার যার অবস্থানে থেকে হাতটা বারায়। আমি নগন্য একজন পুলিশ আমার সাধ্য কত বলুন তবুও আশায় আছি
আশায় আছি বলে এই মানুষটা বসে থাকেন নি, নিরন্তন দেশ সেবার পাশাপাশি সমাজ সেবা করে যাচ্ছেন। আমি বা আপনি যা দেখে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি, তিনি কারও সাহায্যের আশায় বসে না থেকে ঝাপিয়ে পরেছেন নিজের সর্বস্য দিয়ে সাহায্য করেছেন। তিনি যদি সত্যিকারের সুপারহিরো না হন তবে এই দুনিয়ার বুক থেকে সুপারহিরো শব্দটি মূল্যহীন হয়ে যায়।











