আহমেদ নওশাদ, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
শনিবার, ২৭ আগস্ট ২০১৬
সিলেট: ফুটবল উন্মাদনা কী, গোটা বাংলাদেশ সেটা যেন টের পেয়েছিল ২০১৪ সালের আগস্টে। সেবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষিক্ত হয়েছিল সিলেট।
বাংলাদেশ-নেপাল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ গড়িয়েছিল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে। এরপর কী ঘটেছিল, সেটা সবারই জানা। তবু মনে করিয়ে দিতে গেলে বলতে হয়, ওই ম্যাচে সিলেটের হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী জনতার বাঁধভাঙা ঢল নেমেছিল স্টেডিয়ামে।
দর্শকস্রোতে ভেঙেছিল স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা বেষ্টনী! সেই বেষ্টনী ভেঙে একেবারে মাঠের মধ্যেই ঢুকে পড়েছিলেন দর্শকরা! সে এক রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত ছিল! খেলা হওয়া-না হওয়া নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। কিন্তু প্রায় অর্ধলক্ষ দর্শকের হতাশ করতে চায়নি বাংলাদেশ বা নেপাল। তাই মাঠে গড়িয়েছিল ফুটবল। শান্তিপূর্ণভাবেই, দর্শকদের কোনোরকম উচ্ছৃঙ্খলতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল ওই ম্যাচ।
সিলেটের ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনার সেই চিত্র দেখে থ বনে গিয়েছিল গোটা বাংলাদেশ। খুশির ঝিলিক দেখা দিয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের চোখেমুখে। মূলত এরপর থেকেই নিয়মিতভাবে সিলেটে অনুষ্ঠিত হতে থাকে গুরুত্বপূর্ণ সব ফুটবল ম্যাচ। সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচও হয়েছে সিলেটে। যে টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়নের বরমাল্য পড়েছে বাংলাদেশ।
সিলেটে বর্তমানে দ্বিতীয় বিভাগীয় কমিশনার কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে আজ শনিবার সন্ধ্যায় মুখোমুখি হয় সিলেট জেলা দল ও সুনামগঞ্জ জেলা দল। ফাইনালে যাওয়ার এই লড়াই দেখতে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিল প্রায় ১০ হাজার দর্শকের উন্মাদনা।
বিভাগীয় কমিশনার কাপের মতো সাধারণ এক ফুটবল টুর্নামেন্টে এতো দর্শকের উপস্থিতি যেন সিলেটে ফুটবলের অনন্য জনপ্রিয়তার কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি, সিলেট জেলা শাখার সহ-সভাপতি মান্না চৌধুরীর সঙ্গে। দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে তিনিও আপ্লুত।
মান্না চৌধুরী বলেন, সিলেটে ফুটবলের যে জনপ্রিয়তা, তা প্রশ্নাতীত। ক্রমেই ফুটবলের তীর্থস্থান হয়ে ওঠছে সিলেট। বর্তমানে ঢাকায়ও বড় বড় টুর্নামেন্টে দর্শক সমাগম হয় না। কিন্তু বিভাগীয় কমিশনার কাপের মতো সাধারণ এক ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রায় ১০ হাজার দর্শক খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত হয়েছেন, এটা অসাধারণ ব্যাপার।
মান্না চৌধুরী সিলেটের ফুটবলকে আরো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও সিলেট জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থানীয় ফুটবলের লিগ নিয়মিত আয়োজন করার তাগিদও দেন তিনি।





