মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০১৫
জেলা সংবাদদাতা, সিটিজিবার্তা২৪.কম
পাবনা ঃ দীর্ঘদিন ধরে স্কুলভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও শ্রেণীকক্ষের অভাবে ওই ভবনেই ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছিলেন শিক্ষকরা। কিন্তু সম্প্রতি কয়েক দফার ভূমিকম্পে বিদ্যালয় ভবনে ফাটল ও প্লাস্টার খসে পড়ে। এতে ভবনটি যেকোনো সময় ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় কর্তৃপক্ষ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন। আর এরপর থেকেই শ্রেণীকক্ষের অভাবে পাবনার আটঘরিয়ার হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে খোলা আকাশের নিচে রোদ আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে জেলার আটঘরিয়া উপজেলার এই হাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। আর স্থাপনের পর থেকেই এই পুরাতন ভবনটিতে ক’দিন আগেও ক্লাস নেয়া হচ্ছিল। অথচ ১৯৯৪ সালে এই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৫-৯৬ অর্থ বছরে চার কক্ষ বিশিষ্ট এই ভবন নির্মাণ করা হয়। চলতি বছরেই কয়েকদফা ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। আর এই ভূকম্পনেই ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও প্লাস্টার খসে পড়তে থাকে। এসময় প্লাস্টার খসে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। এ অবস্থায় উপজেলা প্রকৌশলী ভবনটি পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে পরিত্যক্ত ঘোষনা করেন। পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে ভবনের অভাবে খোলা আকাশের নিচে রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাঠ দান করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা খাতুন সংবাদদাতাকে বলেন, ‘ভবন ধ্বসে পড়বে এ আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসছে না। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ে পড়ালেখার জন্যে পাঠিয়ে দিচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রোদ বৃষ্টিতে পাঠদান করতে নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আকাশ মেঘলা হলেই ছুটি দিতে হচ্ছে।’
আটঘরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলুর রহমান বিদ্যালয়টির দুরবস্থার কথা স্বীকার করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিদ্যালয়টির ভবন ভূ-কম্পনে ফেটে ও প্লাস্টার খসে পড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল হিসেবে চিহ্নিত করার পর তা পরিত্যক্ত ঘোষাণা করা হয়েছে। আপাতত গাছ তলায় শিক্ষার্থীদের পাঠ দানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দ পেলেই কার্যক্রম শুরু হবে।’
বর্ষা মওসুমের আগেই পাঠদানের জন্য বিকল্প ভবন তৈরি করা না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠ দানের যেমন ব্যাহত হবে, তেমনি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা একেবারেই কমে যাবে বলে ধারণা করছে শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তাই যতদ্রুত সম্ভব বিদ্যালয়টির সংস্কার অথবা পুনঃনির্মাণের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর।
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper

