ব্রেকিং নিউজ

মে’র শেষ সপ্তাহে মাধ্যমিকের ফলাফল

মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০১৫

সিটিজিবার্তা২৪.কম ডেস্ক

ssc-result

ঢাকা ঃ নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকাশ হতে যাচ্ছে হরতাল-অবরোধে বিঘ্নিত এবারের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

অবরোধ-হরতালের বাধার মধ্যে কোনো পরীক্ষাই নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব না হলেও, জুনের প্রথম সপ্তাহে অর্থাৎ পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল ঘোষণার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে পরীক্ষা চলাকালীনই খাতা মূল্যায়ন শুরু হওয়ায় এ মাসের শেষ সপ্তাহেই ফলাফল প্রকাশ করবে মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে যেদিন সময় দেবেন, সেদিনই ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে ওই সূত্রটি জানায়। একই সঙ্গে জুন মাসের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জুলাইয়ের এক তারিখ ক্লাশ শুরু হবে বলেও জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত চন্দ্র চন্দ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘অবরোধ হরতালের কারণে পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শেষ করা না গেলেও এর ফল প্রকাশে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করবো। সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।’

ফলাফল ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো যাবে না। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এবং জুন মাসের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পহেলা জুলাই থেকে ক্লাশ শুরু হবে।’

এদিকে বিরোধী জোটের টানা হরতাল-অবরোধের মধ্যে দুই মাস ধরে চলার পর গত ৩ এপ্রিল শেষ হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। সূচি অনুযায়ী এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল গত ১১ মার্চ। আর ২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হরতালের কারণে তা পিছিয়ে দেয়া হয়। পেছানো পরীক্ষা শুরু হয় ৬ ফেব্রুয়ারি। এ বছর এসএসসির ১৬ দিনের ৩৬৮টি পরীক্ষা পেছানো হয়। পরীক্ষাগুলো নেয়া হয় ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার। অবরোধের মধ্যেই আতঙ্ক, ভয়, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা নিয়ে ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৬৬ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। যার কারণে পরীক্ষার ফল যথা সময়ে প্রকাশ নিয়ে শঙ্কায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, ‘একটি রাজনৈতিক জোটের বিবেকবর্জিত অব্যাহত হরতাল-অবরোধের কারণে এসএসসির রুটিন অনুযায়ী একটি পরীক্ষাও নেয়া সম্ভব হয়নি। অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। আতঙ্কের মধ্যে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। আর এটা কাটিয়ে উঠতে তাদের ৩০-৪০ বছর লাগবে, জাতিকে এর খেসারত দিতে হবে।’

রাজধানীর ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরীক্ষার্থী সুস্মিতা সাহা বলেন, ‘আমার পরীক্ষার প্রস্তুতি খুব ভালো ছিল। কিন্তু বারবার পরীক্ষা পেছানোয় সেই প্রস্তুতি নষ্ট হয়ে যায়। কোনো বিষয় পড়া শুরু করলেই সেদিনই আবার হরতাল দেয়া হতো। আবারো পরীক্ষা পিছিয়ে যেতো। ফলে ফলাফল নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।’

কয়েকজন অভিভাবক জানান, দুই মাসে পরীক্ষা শেষ হলো। বারবার পরীক্ষা পেছানোয় সন্তানের ভালো ফলাফল নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। শুক্র ও শনিবার টানা পরীক্ষা হওয়ায় অনেকের পরীক্ষা খারাপ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এবার আটটি বোর্ডের অধীনে মাধ্যমিকে ১১ লাখ ১২ হাজার ৫৯১, মাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮০ এবং এসএসসি ভোকেশনালে (কারিগরি) এক লাখ ১০ হাজার ২৯৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩৯ ছাত্র এবং ৭ লাখ ১৫ হাজার ৯২৭ ছাত্রী। বিদেশে আটটি কেন্দ্রসহ এবার ৩ হাজার ১১৬টি কেন্দ্রে ২৭ হাজার ৮০৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়।