লতিফের পক্ষে বিবৃতিদাতা ৭ এমপির উদ্দেশে : এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম, নিউজ ডেস্ক, চট্টগ্রাম : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃতি নিয়ে সংসদ সদস্য এম এ লতিফের পক্ষে বিবৃতিদাতা ৭ এমপির উদ্দেশে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘তাদের সাহস থাকলে আমার সামনে এসে বলুক।’
লালদীঘি মাঠে এমএ লতিফের বিচারের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এম এ লতিফের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন চট্টগ্রামের ৭ সংসদ সদস্য। ৭ এমপির বিবৃতি প্রসঙ্গে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের সর্বপ্রচারিত দৈনিক এক পত্রিকার কাছে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
বিবৃতিতে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, ‘লালদীঘি মাঠে নাগরিক মঞ্চের সমাবেশে মহিউদ্দিন চৌধুরী এম এ লতিফকে উদ্দেশ করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা কোনোভাবেই একজন দায়িত্বশীল নেতার আচরণ হতে পারে না।’
৭ এমপির বিবৃতি দেওয়া প্রসঙ্গে মহিউদ্দিন চৌধুরী তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘তারা কে? তারা বলার কে? তাদের কোনো অধিকার আছে ? তাদের কথায় আমি মহিউদ্দিন চৌধুরী কান দিই না।’ ‘তাদের বিবৃতিতে কি হবে? তাদের মধ্যে কোনো ভাগ-ভাটোয়ারা হয়েছে কি-না কে জানে’, বলেন তিনি।
সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি জনগণের ক্ষোভের কথা বলেছি। জনগণ বিক্ষুব্ধ বিধায় আমি প্রতিবাদ করেছি। আর যা বলেছি প্রকাশ্যে দিবালোকে বলেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলা হয়েছে, আরও অনেকে মামলা করবে। এসব কুলাঙ্গার, হাইব্রিড, পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও শুধু প্রতিবাদ নয়, আইনের আশ্রয় নয়, আরও অনেক কিছু করার আছে।’
বিবৃতিদাতারা ছবি বিকৃতির ঘটনায় গ্রাফিক ডিজাইনারের বিরুদ্ধে অবস্থান না নেওয়ার অভিযোগ করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি কেনো ডিজাইনারের বিরুদ্ধে বলবো? তার (লতিফ) নির্দেশেই তো ডিজাইনার ছবি বিকৃতি করেছে। যা তার সংবাদ সম্মেলনে প্রমাণিত হয়েছে।’
লতিফকে উদ্দেশ করে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এমপি হয়েছে বলে পবিত্র হয়ে যায়নি। এরকম কুলাঙ্গার, হাইব্রিড নেতা অনেক দেখেছি। তার (লতিফ) সাহস থাকলে সাধারণ জনগণের মুখোমুখি হোক। তাকে (লতিফ) পাবলিকে পেলে হাড়গোড় ভেঙে ফেলবে।’
মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার বাপের বোন জামাই, ফুফু, চাচাতো ভাই আমার গোষ্ঠীর যেই হোক না কেনো তারা যদি আমার কথার প্রতিবাদ করে থাকে তারা তো সরাসরি আমাকে এসে বলতে পারে। তারা যেহেতু আমার দল করে আমাকে বলতে পারে।’
এমপি লতিফের পক্ষে বিবৃতিদাতারা হলেন- চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আফসারুল আমিন, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬), শামসুল হক চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১২), মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪), মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৬), দিদারুল আলম (চট্টগ্রাম-৪) ও মাহফুজুর রহমান(চট্টগ্রাম-৩)।
সাত সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত ১৫ ফেব্রুয়ারি লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগ থেকে দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এমএ লতিফের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃতির অভিযোগ এনে নাগরিক মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী যে বক্তব্য দিয়েছেন এটা কোনো সভ্য মানুষের বক্তব্য হতে পারে না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলীয় শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং দেশের প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের সমান।’
মহিউদ্দিন চৌধুরীকে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার দাবি জানান সংসদ সদস্যরা।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চট্টগ্রাম সফরকে ঘিরে সাংসদ এম এ লতিফের উদ্যোগে আগ্রাবাদ ও বিমানবন্দর সড়কে অসংখ্য ফেস্টুন লাগানো হয়। এসব ফেস্টুন ব্যবহার করা ছবিতে লতিফের অবয়বের ওপর বঙ্গবন্ধুর মুখমণ্ডল জুড়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে নগর আওয়ামী লীগে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে লতিফ সংবাদ সম্মেলন করে স্বীকার করেন বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করা হয়েছে। এ জন্য তিনি গ্রাফিক ডিজাইনারকে অভিযুক্ত করে ছবি বিকৃতির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। সূত্র- সুপ্রভাত বাংলাদেশ

