ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি
সোমবার, ২১ মার্চ ২০১৬ ২১:৪৫ ঘন্টা
সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম
মাহাবুবুল করিম : ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রায়োগ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে কোনো কেন্দ্রে ভোট কারচুপি ও সহিংসতা হলে ওই কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়ী হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ।
ইসি আরো বলেন, ‘আগামীকাল মঙ্গলবার (২২মার্চ) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ৭৩২ ইউপি নির্বাচনী এলাকায় ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। ব্যালটসহ যাবতীয় মালামাল পৌঁছানো হয়েছে। প্রতিটি ভোটার যাতে স্বতঃস্ফূর্ত ও নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনাসরের বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত থাকবে। ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য প্রতি কেন্দ্রে ২০ জন ফোর্স থাকবে। র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবেও থাকবে। এছাড়া তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য একজন করে বিচারিক ও চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।’
‘ইউপি নির্বাচনে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজারের মতো ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। তবে এ সংখ্যা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’
আজ সোমবার (২১ মার্চ) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এ তথ্যগুলো জানান।
‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে’ উদ্দেশ্য করে সিইসি বলেন,
‘ভোট চলাকালীন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কোনো সদস্য অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব করলে আমরা তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। কোনো কেন্দ্রে ভোট কারচুপি ও সহিংসতা হলে ওই কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়ী থাকবে। তাই আপনারা (নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা) আপনাদের সর্বশক্তি দিয়ে সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন।’
তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী, তার সমর্থক, ভোটার ও অন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। সকলেই যাতে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে নির্বাচনী অনিয়মের কারণে সাতজনকে এক মাস করে কারাদণ্ড, ৬০ জনকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একজন এমপির বিরুদ্ধে মামলা ও একজনকে শোকজ করা হয়েছে। আরো কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি নির্বাচনী এলাকায় আমাদের অনুরোধে যাননি।’
সিইসি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ দায়িত্ব পালনে অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সহিংসতা হলে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বরতদের দায়ী করা হবে। কেন্দ্রে রাতে নিবিড় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে আগের রাতে সিল মারা হলে, অনিয়ম করে ভোটকেন্দ্রে সিল মারা হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও দায়িত্বরত কর্মকর্তা দায়ী হবে। ইতিমধ্যে কয়েকজন ওসি ও ইউএনওকে বদলি ও সতর্ক করা হয়েছে। তাই আপনাদের (সংবাদকর্মী) প্রতি অনুরোধ, সতর্ক থেকে এ ধরনের বেআইনি কার্যক্রম প্রতিহত করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া যাচ্ছে, যেন বহিরাগতরা নির্বাচনী এলাকায় না থাকে সে ব্যবস্থা নিন। এছাড়া অবৈধ অস্ত্রধারী, হাঙ্গামাকারী ও প্রতিবন্ধকতাকারীকে যেন গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেন। ভোটাগ্রহণ কর্মকর্তা ও মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব না করে যেন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেন, এ আহ্বান থাকছে।’
২০১১ সালের চেয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়েছে, বিষয়টির কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আপনারা যে তথ্য দিচ্ছেন- তাতে সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড বাড়ছে। আসলে আমাদের দেশে সংহিসতার সংস্কৃতি সৃষ্টি হয়ে গেছে। এই কালচার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তবে এটি একদিনে ভালো হবে না। এটা যেন না হয়, সেজন্য আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রতিটি স্তরে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া আছে।’
তিনি সাংবাদিকদের উপদেশ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমিত নিয়ে প্রবেশ করবেন। তবে গোপন কক্ষে প্রবেশ ও ছবি নেয়া যাবে না। আপনার সঠিক তথ্য প্রকাশ করে সুষ্ঠু নির্বাচনে সহায়তা করবেন।’

