বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
মাহাবুবুল করিম
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম, চট্টগ্রাম : ১৩ তম এশিয়া কাপের উদ্ভোধনী ম্যাচে ভারতের কাছে ধরাশায়ী হলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। বুধবার বৃষ্টির শঙ্কা পেছনে ফেলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গড়ানো ম্যাচটিতে বাংলাদেশ হেরে যায় ৪৫ রানে। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ২০ ওভার খেললেও ৭ উইকেটে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১২১ রানে। আর তাতে হতাশার হার দিয়েই এশিয়া কাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশ।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে টাইগারদের শুরুটা ভালো হলেও তা আর ধরে রাখতে পারেনি। ২১ রানে সাকিব আল হাসানের ক্যাচ মিসে প্রাণ ফিরে পাওয়া রোহিত শর্মার ৫৫ বলে ৮৩ রানের ইনিংসে ভর করে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২১ রান করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ফলে ৪৫ রানে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।
মিরপুরের সবুঝ ঘাসে ঢাকা পিচ দেখে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ম্যাচের শুরুতেই আগুন ঝরাতে শুরু করলেন মাশরাফি-তাসকিন আহমেদ-মুস্তাফিজ-আল আমিন। খেলার শুরুতে দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ানকে বোল্ড করেন আল আমিন। আল আমিনের মাপা লেন্থের বলে ‘থ্রু দ্যা গেট’ হয়ে অফ স্ট্যাপ উপড়ে যায় ধাওয়ানের। এরপরই আঘাত হানেন টাইগার অধিনায়ক। ৪.৩ ওভারে মাশরাফির বলে মাহমুদউল্লার হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরেন কোহলি। তিনি ১২ বল খেলে ৮ রান করেছেন। অষ্টম ওভারে মাহমুদউল্লাহর হাতে বল তুলে দেন মাশরাফি। ওভারের পঞ্চম বলে সুরেশ রায়নাকে (১৩) বোল্ড করেন তিনি। ১২ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৬ রান।
তবে ১১তম ওভারে আউট হতে পারতেন রোহিত শর্মা। ১০.৩ ওভারে ব্যক্তিগত ২১ রানে তাসকিনের বলে সাকিবের হাতে ক্যাচ তুলেন রোহিত শর্মা। তবে সেটি তালুবন্দী করতে পারেননি বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। রোহিত শর্মার ক্যাচটি মিস করার পর বদলে যায় মোমেন্টাম।
২১ রানে প্রাণ ফিরে পাওয়া রোহিত পরের তিন বলেই দুটি চার আর একটি ছয় মেরে যেন জানিয়ে দিলেন ক্যাচ মিসের জন্য দারুণ পস্তাতে হবে বাংলাদেশ। যুবরাজ সিংকে সঙ্গে নিয়ে বিপর্যয় কিছুটা কাটিয়ে উঠেন রোহিত শর্মা। ১৪.৫ ওভারে ব্যক্তিগত ১৫ রানে (দলীয় ৯৭) আউট হন যুবরাজ। তবে এর আগে ৫৫ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন রোহিত শর্মা।
যুবরাজ আউটের পরও রানের গতি বাড়াতে থাকেন রোহিত শর্মা ও হার্দিক পান্ডে। শেষ পর্যন্ত রোহিতকে আউট করেন আল আমিন। কিন্তু ততক্ষণে ৫৫ বলে ৮৩ রান করে ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন তিনি। এর দুই বল পরে হার্দিক পান্ডেকেও আউট করেন আল আমিন। আউট হওয়ার আগে ১৮ বলে ৩১ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন হার্দিক। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান করে ভারত।
৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন আল আমিন। ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ১টি উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি। একটি করে উইকেট পেয়েছেন সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ। ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি মুস্তাফিজ।
ভারতের দেওয়া ১৬৭ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুতেই সাজঘরে ফিরেন দুই টাইগার ওপেনার মোহাম্মদ মিথুন ও সৌম্য সরকার। ২.২ ওভারে দলীয় ৯ রানে আশিষ নেহরার বলে বোল্ড হন মিথুন (১)। এরপর আঘান হানেন যশপ্রিত বুমরাহ। ৩.২ ওভারে দলীয় ১৫ রানে বুমরাহ’র বলে ধোনির হাতে ক্যাচ তুলেন দেন সৌম্য সরকার (১১)।
এরপর উইকেটে থিতু হলেও রানের জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে সাব্বির রহমান ও ইমরুল কায়েসকে। এই দুজন ৬.৩ ওভারের মাত্র ৩৫ রানের জুটি গড়েন। ৯.৫ ওভারে দলীয় ৫০ রানে অশ্বিনের বলে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরেন ইমরুল। আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে ১৪ রান করেছেন তিনি।
দলীয় ৭৩ রানে দুভার্গ্যজনক রানআউটের শিকার হন সাকিব আল হাসান (৩)। ১৪.১ ওভারে দলীয় ৮২ রানে হার্দিক পান্ডের বলে ধোনির হাতে ক্যাচ দেন সাব্বির রহমান। আউট হওয়ার আগে ৩২ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন সাব্বির। দলীয় ৮২ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে। দলীয় ১০০ রানে নেহরার বলে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। পরের বলে আউট হন মাশরাফি। ১৬.৪ ওভারে দলীয় ১০০ রানে সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১২১ রান করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
ভারতের পক্ষে তিনটি উইকেট নিয়েছে আশিষ নেহরা। একটি করে উইকেট নিয়েছে বুমরাহ, হার্দিক পান্ডে ও অশ্বিন।

