রোববার, ১৩ মার্চ ২০১৬
নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রাম : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃতির অভিযোগে আদালতে দায়ের করা চারটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দর-পতেঙ্গা আসনের সরকার দলীয় সাংসদ এম এ লতিফ। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে লতিফকে সব মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে এ সংক্রান্ত আদেশটি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সিএমপিকে দেয়া হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য দেননি সিএমপির কোনও কর্মকর্তা। শুধুমাত্র সাংসদ লতিফের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ তদন্তনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। চলতি সপ্তাহের মধ্যে চার মামলা থেকেই সাংসদ লতিফ, দোষ স্বীকার করে নেয়া বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতিকারী হায়দার প্রিন্টার্সের ডিজাইনার কবির হোসেন ও চট্টগ্রাম চেম্বার কর্মকর্তা রাজীব দাশকেও মামলা থেকে অব্যাহত দেয়া হচ্ছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
যদিও এরআগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বিকৃতির দায়ে সাংসদ এম এ লতিফকে হত্যার হুমকি দিয়ে লালদীঘির ময়দানে সমাবেশ করে তাকে গ্রেপ্তারে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তার এই দাবি পূরণ না হলেও হত্যার হুমকি পেয়ে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় জিডিও করেন সাংসদ লতিফ।
তবে এরই মধ্যে লালদীঘির মাঠে একটি জানাজার নামাজে একই কাতারে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে র্যাবের একটি অনুষ্ঠানের একই মঞ্চে বক্তব্য প্রদান ও হাতও মিলিয়েছিলেন লতিফ ও মহিউদ্দিন। ঠিক এর পনের দিনের মাথায় গত ১ মার্চ লালদীঘির মাঠে সমাবেশ করে কিছুটা নমনীয় হন মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি ওই সমাবেশে হত্যার বদলে লতিফের মাথায় লাঠির আঘাত করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি লতিফকে গ্রেপ্তারে ফের এক মাসের আল্টিমেটাম দেন মহিউদ্দিন। এছাড়া লতিফের বিরুদ্ধে নানা সভা-সমাবেশ পালন করে আসছিলেন নগর যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে লতিফকে অব্যাহতি দিতে এ ধরণের একটি নির্দেশ এসেছে।
এরআগে ১৭ ফেব্রুয়ারি সাংসদ এম এ লতিফের পক্ষে অবস্থান নিয়ে চট্টগ্রামের সরকার দলীয় সাত সাংসদ গণমাধ্যমে যৌথ বিবৃতি পাঠিয়ে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। বিবৃতিদাতারা হলেন, চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য ও নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ডা. আফছারুল আমীন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-০৬), শামসুল হক চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১২), মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪), মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৬), দিদারুল আলম (চট্টগ্রাম-০৪) ও মাহফুজুর রহমান (চট্টগ্রাম-০৩)।
উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদ আলমের আদালতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করার অভিযোগে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফের বিরুদ্ধে যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি এক হাজার কোটি টাকার মানহানির একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নগর গোয়েন্দা পুুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
একই দিনে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম নূরুল আলম মোহাম্মদ নিপুর আদালতে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম জিল্লুর সাংসদ এম এ লতিফের বিরুদ্ধে অপর একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। তিনদিন পর গত ৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহকারি পুলিশ সুপার মর্যাদার একজন কর্মকর্তা দিয়ে তদন্ত করে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদ আলমের আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ তথ্য প্রযুক্তি আইনের পৃথক ধারায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের (সংশোধিত) তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে সাংসদ লতিফ ছাড়াও আরো তিনজনকে আসামি করেন তিনি। তারা হলেন, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম চৌধুরী ছোট ভাই আমজাদ, চেম্বার কর্মককর্তা রাজীব দাশ ও হায়াদার প্রিন্টার্সের ডিজাইনার কবির হোসেন। এই মামলা বাদি নিজেও সহ পাঁচজনকে স্বাক্ষী করেছেন। মামলাটিও পাঁচলাইশ থানার ওসিকে তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছিলেন।
অন্যদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা একেএম বেলায়েত হোসেন বাদি হয়ে দণ্ডবিধির ১২৪/এ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের যে অভিযোগ দায়ের করেছেন সেটি শুধুমাত্র সাংসদ লতিফকেই আসামি করা হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগটি আদালত আমলে নিয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কোতোয়ালী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সূত্রে জানা যায়, তবে এই চারটি মামলায় এখনো পর্যন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা। চলতি সপ্তাহের যে কোনও সময়ে সাংসদ লতিফকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে যাচ্ছে। এই ধরণের একটি নির্দেশনা সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর হয়ে সিএমপিতে এসেছে। চট্টগ্রামের প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার পাশাপাশি সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, বন্দর কেন্দ্রিক কয়েকজন ব্যবসায়ী ও উল্লেখিত সাত সাংসদ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে সাংসদ লতিফের পক্ষে জোর তদবির করেন। একারণেই বিষয়টিকে শুধুমাত্র ডিজাইনারের ভুল ও অতিমাত্রায় রাজনীতি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে এই ইস্যুতে আর কোনও কিছুই দেখতে আগ্রহী নন সরকারের শীর্ষ মহল।
তবে কোনও ধরণের নির্দেশনার বিষয়ে সরাসরি কোন কথা না বলে সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল বাংলামেইলকে বলেন, ‘তদন্ত শেষে প্রতিবেদন শিগগিরই দাখিল করা হবে।’
যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর-দক্ষিণ) বাবুল আক্তার বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।’
ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম জিল্লুর দায়ের করা সাংসদ এম এ লতিফের বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলার তদারক কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বশির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তদন্ত শেষে যথা সময়েই তা আদালতে দাখিল করা হবে।’
যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবির দায়ে করা তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে।’
মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা এ কে এম বেলায়েত হোসেনের দায়ের করা দণ্ডবিধির ১২৪/এ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগটির তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে। যে কোনও সময়ে তা আদালতে জমা দেয়া হবে।’
এমপি লতিফের শাস্তির দাবিতে সমাবেশ করবেন মহিউদ্দিন চৌধুরী
বাঁচতে চাইলে চট্টগ্রামে পা দিবেন না লতিফকে মহিউদ্দিন
লতিফের পক্ষ অবলম্বন করে নিজেকে জাতির পিতার বিপক্ষে দাঁড় করাবেন না
লতিফকে ঝাড়ু পেটা করে বন্দর নগরী ছাড়া করা হবে
ইয়াবা ব্যবসার সিন্ডিকেটের নায়ক হলো ওই কুলাঙ্গার লতিফ: মহিউদ্দিন চৌধুরী
মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে লতিফের ১৬ থানায় জিডি
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রত্যাহার লতিফের, ভুলের দায় শিকার গ্রাফিক্স ডিজাইনারের

