আলোচিত সাত খুন মামলায়
সোমবার, ১৪ মার্চ ২০১৫ ১৫:১০ ঘন্টা
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
নারায়ণগঞ্জ: আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের কারণে আলোচিত সাত খুন মামলার একটির বাদী নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটিকে আসামিপক্ষের জেরা ফের পিছিয়েছে। তবে নতুন দুই সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সোমবার (১৪ মার্চ) বিউটির অসমাপ্ত জেরার দিন ধার্য থাকলেও তা পিছিয়ে ২১ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।
পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সোমবার তারেক সাঈদ, এম এম রানা ও নূর হোসেনের পক্ষে একটি মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটিকে জেরার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তারেক সাঈদের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে রিটের প্রেক্ষিতে সময়ের আবেদন জানান। আদালত আগামী ২১ মার্চ পরবর্তী ধার্য্য তারিখ নির্ধারণ করেন।
তিনি আরো বলেন, সোমবার দু‘জন নতুন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হলেন- নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের গাড়িচালক নিহত ইব্রাহিমের ভাই মো. ইউসুফ ও আলী নগর এলাকার পিয়ার জাহানের ছেলে মো. হোসেন। তারেক সাঈদ ও নূর হোসেনের আইনজীবীরা ছাড়া অন্য ৩৩ আসামির আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন।
আসামি তারেক সাঈদের আইনজীবী সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফুজ্জামান ও গোলাম কিবরিয়া আদালতকে বলেন, ৭ খুন মামলা বাতিল ও অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটের নিস্পত্তি এখনও হয় নাই। তাছাড়া চার্জশিটের পূর্ণাঙ্গ সার্টিফায়েড কপি এখনও আমাদের হস্তগত হয় নাই। তাই এখন বাদীকে জেরা করা যাচ্ছে না, সময়ের প্রয়োজন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রধান আসামি নূর হোসেন ও র্যাবের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা তারেক সাইদসহ গ্রেফতারকৃত ২৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন।
পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় দু’টি হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ এপ্রিল কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র্যাবের চাকরিচ্যুত ৩ কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এমএম রানাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয় পুলিশ।
গত ০৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দু’টি মামলায় নূর হোসেন ও র্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়।
এ মামলায় ভারতে আটক নূর হোসেন ও র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। বাকি ১২ জন পলাতক রয়েছেন।
হত্যার দায় স্বীকার করে র্যাবের ১৭ জনসহ ২২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং ঘটনার সাক্ষী হিসেবে র্যাব সদস্যসহ ১৭ জন জবানবন্দি দেন।

