শনিবার, ১৯ মার্চ ২০১৬
রাজনীতিডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
‘বাংলাদেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র পেয়েছে তার মালিকানা এখন জনগণের কাছে নেই। আমরা জনগণের হাতে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে চাই’ বলেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া|
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বক্তব্যে খালেদা জিয়া বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসন ও পুলিশসহ রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে। সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনে যোগ্যতার মাপকাঠি হবে মেধা, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে মানুষ উপলব্ধি করেছে যে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা একনায়কতন্ত্রের জন্ম দেয়। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র কমিয়ে ভারসাম্য আনা হবে।’
তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপষ করবে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দলীয় মানসিকতা থেকে বের হয়ে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে।’
নেতৃত্বে নয়, রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে?
খালেদা জিয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে। এই অবস্থার অবসানকল্পে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা হবে।’
সংসদ নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সংসদের উচ্চকক্ষে জায়গা দেওয়া হবে। সব স্তরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপির ভিশন ২০৩০ এর কর্মপরিকল্পনা এখন খসড়া পর্যায়ে। চূড়ান্ত হলে এর বিস্তৃত রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। এর আলোকে ভবিষ্যতে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।
প্রতিহিংসা, প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে বিএনপি নতুন ধারার রাজনীতি ও সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলে জানান খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, এ জন্য নতুন ধরনের সমঝোতা চুক্তিতে উপনীত হতে বিএনপি উদ্যোগ নেবে।
তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী ও জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে বিএনপি সব সময়ই সোচ্চার। ভবিষ্যতে ক্ষমতা গেলে আমরা সন্ত্রাস দমনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাবো।’
এর আগে সকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
ছয় বছর পর বিএনপির এই কাউন্সিল ঘিরে সকাল থেকেই ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে উৎসবমুখর পরিবেশে জড়ো হন নেতা-কর্মীরা।

