শনিবার, ১৯ মার্চ ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
খেলাডেস্ক : শেষ ৬ বলে ১ রান দরকার। প্রথম বলেই হাঁকাতে গেলেন ক্রিস জর্ডান। ডিপ স্কয়ার লেগে জেপি ডুমিনির দুর্দান্ত ক্যাচ। পরের বলটি ডেভিড উইলি ঠেলে দিয়েই পড়িমরি ছুটলেন, অন্যপ্রান্তে পৌঁছুতে পারলেন না। আউট! পরের বলে কোনো রান নিতে পারলেন না মঈন আলী! ৩ বলে প্রয়োজন ১ রান, হাতে ২ উইকেট। ওয়াংখেড়েতে রুদ্ধশ্বাস এক নাটকের অপেক্ষা! তাতে জল ঢেলে দিয়ে মঈন আলী পরের বলটি থেকে নিলেন ১ রান। ২ বল বাকি থাকতেই ইংল্যান্ডের জয়।
রেকর্ডটি দক্ষিণ আফ্রিকারই ছিল। সেটি যে তাদের হাতছাড়া হচ্ছে না জানা গিয়েছিল প্রথম ইনিংসের পরই। টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রান করেও হারের রেকর্ডটি তাই আর নতুন করে লিখতে হয়নি প্রোটিয়াদের, সান্ত্বনা এটুকুই। সেদিন ২৩১ করেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আজ ২২৯ রানের পাহাড় গড়েও তাদের হারতে হলো ইংল্যান্ডের কাছে।
২৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। প্রথম দুই ওভারেই ৪৪ রান। ২.৫ ওভারেই ৫০! ৬ ওভারের পাওয়ার প্লের শেষে তা দাঁড়াল ৮৯। কিন্তু ততক্ষণে উইকেট পড়ে গেছে ৩টি। একে একে ফিরে গেছেন জেসন রয়, অ্যালেক্স হেলস ও বেন স্টোকস। একটু পরে ফিরে যান অধিনায়ক মরগানও। হাল ছেড়েই দিতে পারত ইংল্যান্ড। কিন্তু ইংল্যান্ডের যে আছেন একজন জো রুট। জস বাটলারকে সঙ্গী করে ৬ ওভারে ৭৫ রানের এক জুটিতেই ম্যাচটি এনে তোলেন হাতের কাছে। ১৫.৪ ওভারে বাটলার যখন ২১ করে আউট হলেন, জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার মাত্র ৪৪ রান।
রুট সেটিকে নিয়ে এলেন একেবারেই হাতের নাগালে। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের দর্শক বানিয়ে জয়কে এনে ফেললেন ১২ বলে ১১ রানের দূরত্বে। প্রথম ইনিংসের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ২২৯ রানের দুর্লঙ্ঘ্য পাহাড়কে তখন কী সহজই না দেখাচ্ছিল। এই অবস্থায় ভাগ্যের একটু রসিকতা। আউট হয়ে গেলেন রুট। কিন্তু জর্ডান ও মঈন আলী মিলিয়ে ফেললেন সমীকরণটা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখে ফেলল সবচেয়ে বেশি রান টপকে জয়।

