রোববার, ২০ মার্চ ২০১৬
আবদুর রহমান : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে টেকনাফে চারটি ইউনিয়নে ৩৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ শেষে এসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে। এ হিসেবে টেকনাফ অর্ধেকের বেশি কেন্দ্রেই ঝুঁকিপূর্ণ। ওইসব কেন্দ্রের শঙ্কিত রয়েছে ভোটার ও প্রার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ মার্চ বাহারছড়া, টেকনাফ সদর, সাবরাং ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্টিত হবে। এই চার ইউনিয়নে নিবার্চনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মূল প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে পুলিশ।
এর মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন ও সাবরাং ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশি কেন্দ্রে সংঘর্ষের আশঙ্কায় শীর্ষে রয়েছে। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ১০ জন করে পুলিশ সদস্য চেয়েছেন থানা পুলিশ। ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়েছে। তাছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি করার কথা জানিয়েছেন পুলিশ।
ঝুকিঁপুর্ণ কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- সাবরাং ইউনিয়নে আল হোসাইনিয়া এবতেদিয়া মাদ্রসা, কাটাবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজি নবী হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় নোয়া পাড়া, শাহপরীর দ্বীপ মাঝার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহপরীর দ্বীপ উত্তর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহপরীর দ্বীপ হাজি বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নে লম্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লেঙ্গুরবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পল্লান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহেষখালীয়া পাড়া কাশেমুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা, কচুবনিয়া নুরানী মাদ্রাসা, বড় হাবিব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বাহাছড়া ইউনিয়নে শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তর শীলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ শীলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেন্টমার্টিন ওয়াবাদা ভবন ও কোণার পাড়া, মাঝার পাড়া।
প্রার্থীরাও ভোটের দিনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সাবরাং ইউনিয়নের বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সোলতান আহমদ, সাবরাং আ.লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী নুর হোসেন ভোটের দিন সকাল ১০টায় ভোট শেষ হবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার দলীয় প্রার্থীরা ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালেট পেপার ছিনতাই নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। এছাড়া অন্য মার্কায় ভোট দিলেও জয়ী ঘোষণা হবে নৌকার প্রার্থীরা। এসব কথার অডিও রেকর্ড আমাদের হাতে আছে বলে জানায় এসব প্রার্থীরা। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীরা কোন ধরনের আচরন বিধি না মানলেও স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। যদি ভোটের দিনও দেখার ভান করে না দেখার কারণে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে তারজন্য দায়ী থাকবেন স্থানীয় প্রশাসন। এলাকার ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে কক্সবাজার জেলার থেকে ভারী অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীপক্ষের লোকজন মাঠে নেমেছে অভিযোগ করেন তারা। প্রশাসন চাইলে আমরা তাদের অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করতে পারব।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পল্লান পাড়ার বাসিন্দা মো.আবদুল্লাহ ও সাহাব উদ্দিন জানান, ‘প্রকাশ্যে যেভাবে হামলা ও হুমকি ধমকি শুরু হয়েছে, আমরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারব কি না সন্দেহ রয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশ ও বিজিবি না থাকলে ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেন না। সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী আবু ফয়েজ জানান, শাহপরীর দ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ। একজন প্রার্থী এখন থেকেই ভোটারদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।
টেকনাফ উপজেলা নিবার্চন কর্মকর্তা ও রিটানিং কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, এ উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন রয়েছে এর মধ্যে আগামী ২২ মার্চ চার ইউনিয়নে নিবার্চন হতে আর মাত্র ২ দিন বাকি রয়েছে এতে দলীয় মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ভূমিকা পালন করবে এবং বাকি দুই ইউনিয়নে ২৭ মার্চ নিবার্চন অনুষ্টিত হবে ।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মজিদ জানান, টেকনাফ উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৩৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এইসব কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে পুলিশের ৯ জন করে সদস্য বরাদ্দের জন্য পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জানানো হয়েছে। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, টেকনাফ ৪টি ইউনিয়নে মোট ৩৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ৪টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৭৬ হাজার ৭৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৮ হাজার জন এবং নারী ভোটার ৩৮ হাজার ৭৭৭ জন। ২২ মার্চ টেকনাফ উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে মধ্যে ৪ টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

