বুধবার, ২৩ মার্চ ২০১৬
কক্সবাজারে এতদিনের নির্বাচনী হুমকি-ধমকি এখন কোথায় গেল? ভোট ছিঁড়ে নেব, ভোট কেন্দ্রে যেতে দেয়া হবে না, ওপেন টেবিলে সীল মারতে হবে, সকাল ১০ টায় ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সে আরো কত সব হুমকি-ধমকি আর গুজবের পর গুজব। কিন্তু কোথায় গেল এসব ছিঁড়ে ফেলা আর ওপেন টেবিলে সীল মারার কাজটি ?
গতোকাল মঙ্গলবার (২২মার্চ) নির্বাচন অনুষ্টিত হবার পর থেকে এখন এরকম প্রশ্নই উঠেছে।
কক্সবাজারের তিনটি উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বচনী মাঠে গত কিছুদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই এসব হুমকি-ধমকি প্রদানের অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছিল। বাস্তবে নির্বাচনী মাঠের অপপ্রচারে যাই ঘটেনি তাই প্রচার হচ্ছে সবচেয়ে বেশী। এমনকি স্বদলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী সহ সরকার বিরোধী দলগুলোর প্রার্থীরাও এতদিন ধরে সরকার দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এধরনের হুমকির কথা বরাবরই করে আসছিলেন।
কিন্তু সর্বশেষ জেলার বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে ১৫ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে সরকার দলীয় মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন মাত্র ৭ জন। সেই সাথে সরকার দলীয় বহিষ্কৃত ৪ জন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীও জিতেছেন। এমনকি তিনজন বিএনপি এবং একজন জামায়াত নেতাও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এতদিন ধরে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছিল নানাভাবে সেইসব বাস্তবে নির্বাচনী মাঠে তেমন প্রতিফলিত হয়নি।
তাহলে এতদিনের হুমকি-ধমকি এখন কোথায় গেল ? যদি ব্যালটে ওপেন সীল মারার কথা বাস্তব হত তাহলে সাবরাং ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী সোনা আলী, মাতারবাড়ীর এনামুল হক রুহুল, সেন্টমার্টিনদ্বীপে মুজিবুর রহমান, টেকনাফ সদরের নুরুল আলম, কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুংয়ের ইয়াহিয়া খান সহ জাঁদরেল স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা কোথায় ছিলেন?
তারা ব্যালটে ওপেন সীল মেরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন না কেন ?
তবে কুতুবদিয়া দ্বীপের কয়েকটি ভোট কেন্দ্র নিয়ে বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। আলী আকবর ডেইল এবং বড়ঘোপ ইউনিয়নের বিএনপি এবং একজন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের অভিযোগে নির্বাচন থেকে সরে যাবার ঘোষণা দেন। কক্সবাজার জেলায় এই দু’টি ইউনিয়ন ছাড়া অন্য কোন ইউনিয়নে তেমন বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি এবং কোন অভিযোগও উত্থাপিত হয়নি।

