বুধবার, ২৩ মার্চ ২০১৬
নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রাম: ১৯৮৯ সালে বিবদমান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মহিউদ্দিন গ্রুপ ছেড়ে বাবু-নাছির গ্রুপে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা সীমান্ত তালুকদার। দীর্ঘসময় পর আবার মহিউদ্দিনের সঙ্গেই ভিড়লেন সীমান্ত। আজ দীর্ঘ ২৮ বছর পর সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পাশে বসে রাজনৈতিক কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছেন একসময়ের ডাকসাইটে ছাত্রলীগ নেতা সীমান্ত তালুকদার।
বুধবার (২৩ মার্চ) নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ আয়োজিত শিশু উৎসবের বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক বক্তব্য প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সীমান্ত তালুকদার। মঞ্চে পাশে বসা মহিউদ্দিনের সঙ্গে তাকে মাঝে মাঝে খোশগল্পে মেতে উঠতে দেখা গেছে। অনুষ্ঠান শেষে মহিউদ্দিন নিজেই সীমান্ত তালুকদারকে হাত ধরে গাড়িতে তুলে নেন। পরে তারা প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ফ্যাকাল্টিতে যান।সেখানে সীমান্ত তালুকদারকে ভাত খাওয়ান মহিউদ্দিন।
জানতে চাইলে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “কারও সঙ্গে আমার বিরোধ নেই। কেউ আমার বিপক্ষে কিছু বললেও আমি প্রতিবাদ করিনা। সবার জন্য খোলা আমার দরজা সবসময়।”
সীমান্ত তালুকদার বলেন, ‘আমি একসময় মহিউদ্দিন ভাইয়ের গ্রুপ করতাম। পরে বাবু ভাই-নাছির ভাইয়ের গ্রুপে গিয়েছিলাম। এখন আমি কোন গ্রুপের রাজনীতি করিনা। মহিউদ্দিন ভাইয়ের মত এত বড় মাপের একজন নেতার পাশে বসেছি, আমার খুব খুশি লাগছে। এখন আমার উপলব্দি হচ্ছে, মহিউদ্দিন ভাই আসলেই একজন প্রকৃত রাজনীতিক। তার মাথায় রাজনীতি ছাড়া আসলেই আর কিছু নেই। নেতা যখনই ডাকবেন আমি অবশ্যই সাড়া দেব।’
আশির দশকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় সীমান্ত তালুকদারের। ১৯৮৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ৮৯ সালে তিনি কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। এরপর ৯০ সালে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক হন। ১৯৯৮ সালে বাহাদুর বেপারি আর অজয় কর খোকনের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটিতে তিনি সহ-প্রচার সম্পাদকের পদ পান। ২০০১ সালে লিয়াকত শিকদার ও নজরুল ইসলাম বাবুর কমিটিতে তাকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়। এরপর ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নেন স্বৈরাচার এরশাদ ও খালেদা জিয়া বিরোধী অসহযোগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া চট্টগ্রামের সামনের সারির ছাত্রলীগ নেতা সীমান্ত তালুকদার।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বনাম আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ও আ জ ম নাছির উদ্দিন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসীদের ঠেকাতে পেশীশক্তিভিত্তিক রাজনীতি নিয়ে মতবিরোধের জের ধরে সীমান্ত তালুকদার মহিউদ্দিন গ্রুপ ছেড়ে যোগ দেন বাবু-নাছির গ্রুপে। এরপর গত ২৮ বছর ধরে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে আর কোন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে ছিলেন না সীমান্ত।
জানতে চাইলে সীমান্ত তালুকদার বলেন, মহিউদ্দিন ভাইয়ের তখন আর্থিক সীমাবদ্ধতা ছিল। শিবিরের অস্ত্র-ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি প্রতিরোধের জন্য আমাদের যে পৃষ্ঠপোষকতা দরকার ছিল সেটা তিনি দিতে পারছিলেন না। আবার পেশীশক্তিভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে শিবিরকে মোকাবেলারও বিরোধী ছিলেন তিনি। এজন্য মতাদর্শগত বিরোধ থেকে আমি বাবু-নাছির গ্রুপে যোগ দিয়েছিলাম।
সূত্রমতে, ২০০২ সালে আ জ ম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে সীমান্ত তালুকদারের বিরোধ তৈরি হয়। এরপর থেকে নিজস্ব একটি বলয় সৃষ্টি করে অনেকটা একাই রাজনীতি করে যাচ্ছিলেন সীমান্ত তালুকদার। সর্বশেষ তিনি আওয়ামী লীগের উপ-কমিটিতে সহ-সম্পাদক পদ পান।
সীমান্ত তালুকদার আরো বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ইমু ও সাধারণ সম্পাদক রনি আদর্শিক, সৃষ্টিশীল, সৃজনশীল ছাত্র রাজনীতির একটি ধারা তৈরির চেষ্টা করছেন। এই কমিটি নিয়ে কোন বিরোধ নেই এবং সর্বজনগ্রহণযোগ্য। এজন্য ইমু-রনির ডাকে সাড়া দিয়ে আমি তাদের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি।সেখানে মহিউদ্দিন ভাই থাকবেন, আমি জানতাম না। কিন্তু যখন মহিউদ্দিন ভাই আসলেন, আমি খুশি হয়েছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বিবদমান রাজনীতিতে সীমান্ত তালুকদারকে পাশে রাখার কৌশল নিয়েছেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এজন্য তার নির্দেশেই নগর ছাত্রলীগের কর্মসূচীতে সীমান্তকে বিচারকের আসনে বসানো হয়। ভবিষ্যতে যে কোন কর্মসূচীতে সীমান্ত তালুকদারের ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে ব্যবহার করতে চান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে শিশু উৎসবের আয়োজন করে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ।উৎসবের উদ্বোধন করেন সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহম্মেদ ইমু এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি।
উৎসবে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ শীর্ষক উপস্থিত বক্তব্য, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।এতে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সীমান্ত তালুকদার, নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ ও মাহবুবুল হক সুমন এবং আবৃত্তিকার রাশেদ হাসান ও ফারুক তাহের।
এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য চর্চার মাধ্যমে ছাত্রলীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেবে। আমি চাই, ছাত্রলীগের আন্দোলন-সংগ্রামগুলো ছাত্রবান্ধব হোক। ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী যেন সংগঠনের আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয় সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। আদর্শচ্যুত নেতাকর্মী সংগঠন ও দেশের শত্রু ।
সীমান্ত তালুকদার বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ প্রমাণ করেছে তারাও সৃষ্টিশীল কাজ করতে পারে। তারা গৌরবময় ছাত্রলীগের ঐতিহ্যের ধারক। ইচ্ছে হচ্ছে আমি যেন আবারও ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে পুন:জন্ম নিই।
নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ বলেন, নগর ছাত্রলীগের কর্মসূচী দেখে মনে হয় আমরা যেন ছাত্রলীগের সোনালী যুগে ফিরে এসেছি। এই অবদান অবশ্যই ছাত্রলীগের নেতাদের আদর্শিক চিন্তা ও চেতনার প্রতিফলন।
সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুল হক সুমন বলেন, কারা বলে ছাত্রলীগ টেন্ডারবাজদের সংগঠন? যারা বলে তারা অনুপ্রবেশকারী। আমরা তোমাদের পরিচর্যা করতে পারিনি, এই ব্যর্থতা আমরা এড়াতে পারিনা।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুছ, নগর যুবলীগের সদস্য ইসতিয়াক চৌধুরী সাজিদ, শেখ মোহাম্মদ নাছের, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম প্রমুখ।
উৎস বাংলানিউজ


One thought on “দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবার মহিউদ্দিনের সঙ্গেই ভিড়লেন সীমান্ত”