নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তস২৪ডটকম
শুক্রবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৬
রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ছাত্রলীগের ৭ ক্যাডারকে আটকের পর তাদের ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পিংকু হোস্টেল থেকে পুলিশ তাদের আটক করে।
বৃহস্পতিবার সকালে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান ছাত্রলীগ ক্যাডারদের আটকের বিষয়টি স্বীকার করেন।
তিনি জানান, তাদের কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। এজন্য তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
অন্যদিকে হোস্টেলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, একটি কাটা বন্দুক, একটি এয়ারগান ও কিছু দেশীয় অস্ত্রসহ ওইসব ছাত্রলীগ নেতাদের আটক করেছিল পুলিশ।
রামেক সূত্র জানায়, রামেকের লিও ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও রামেক শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের ছাত্র বিজয় হোসেনের সঙ্গে মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষের ছাত্র আরমান হোসেন এবং কাজী সালমানের আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছে। তারা সবাই রামেকের পিংকু হোস্টেলে থাকেন।
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিজয় হোসেন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে লিও ক্লাবের অনুষ্ঠান শেষে হোস্টেলে ফিরছিলেন। এ সময় পূর্ব বিরোধের জের ধরে আরমান হোসেন ও কাজী সালমানসহ আরো কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা তাকে হোস্টেলের সামনে থেকে ধরে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে একটি কক্ষে উচ্চশব্দে গান ছেড়ে দিয়ে বিজয় হোসেনকে প্রতিপক্ষরা বেদম মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
এ সময় হোস্টেলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এরপরই খবর পেয়ে নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ রামেকের পিংকু হোস্টেলের ০০৭ নম্বরের আরমান-সালমানের কক্ষটিতে অভিযান চালায়। অভিযানে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় একটি কাটা বন্দুক, একটি এয়ারগান ও বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র। এ সময় ওই কক্ষ থেকে আরমান ও সালমানসহ আটক করা হয় ছাত্রলীগের আরো অন্তত ৫ নেতাকর্মীকে।
আটককৃত অন্যরা হলেন-রামেক ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পল্লব হোসেন, ছাত্রলীগ কর্মী ও বিডিএফ ২৬তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাব্বি, এমবিবিএস ৫৬তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অনিক হোসেন, একই বর্ষের মুশফিক হোসেন ও এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ছাত্র নাহিদ হোসেন। সারারাত তারা রাজপাড়া থানা হাজতেই কাটান।
তবে বৃহস্পতিবার সকালে রামেক অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপে থানা থেকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মাসুম হাবিবের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন না ধরে কেটে দেন।
রাজশাহী রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় ছাত্রলীগ নেতাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি বলেও দাবি করেন ওসি।
এ ব্যাপারে কথা বলতে ছাত্রলীগ নেতা আরমান হোসেন ও কাজী সালমানের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের দুজনেরই মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে মারধরের শিকার রামেক ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আরমান ও সালমান সহযোগী ক্যাডারদের নিয়ে হোস্টেলে অবাধে মাদকসেবন ও অস্ত্রবাজিসহ নানা অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। প্রায় চার মাস আগেও তাদের কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তখনও তাদের পুলিশ ছেড়ে দিয়েছিল।
আরমান-সালমান অস্ত্রসহ ছবি তুলে তারা তাদের ফেসবুক আইডিতেও পোস্ট করেন। এতে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করায় তার সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব হয়। এই দ্বন্দ্বের জের ধরেই রাতে তাকে মারপিট করা হয়।
রামেক শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপু জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ওই ৭ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর সংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনে তাদের বহিষ্কার করা হবে বলে জানান তিনি।
তথ্য সূত্র যুগান্তর

