৮ মাত্রার ভূমিকম্প, ১০ মাত্রার হার্ট!

ctgbarta24.com
Share

৮ মাত্রার ভূমিকম্প, ১০ মাত্রার হার্ট!

রোববার, ২৪ এপ্রিল ২০১৬
৮ মাত্রার ভূমিকম্প, ১০ মাত্রার হার্ট!

“ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ”

শফিকুল ইসলাম জীবন : ঢাকায় নাকি সাড়ে সাত কিংবা আট মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। কারন ঢাকার অদুরে ডাউকি ফল্ট আর চট্টগ্রামের কাছের একটি ফল্টে বিপুল শক্তির সঞ্চয় হয়েছে-যা যে কোন সময় বমি করে দিতে পারে। আর এই বমির তীব্রতার ফলে আমরা প্রচন্ড ঝাঁকুনির মুখে পড়বো। খোদ ঢাকায় ধসে পড়বে নিদেন পক্ষে ৭২ হাজার ভবন। এই সব খবর এবং পূর্বাভাসের তাত্বিক দিক দুটি। একটি হচ্ছে মানুষকে সতর্ক করে দেয়া এবং আমাদের প্রভূদের সুদৃষ্টি কামনা করা-যাতে তারা প্রকৃত ব্যবস্থা গ্রহন করেন। আর এই দুটি ক্ষেত্রে কার্যত কোন ততপরতা না থাকায় খবরগুলোর ভাজে ভাজে ভূমিকম্পের আশঙ্কার সাথে সাথে ভয় এবং আতঙ্ক পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।জানি না, ৭২ হাজার ভবনের কোনটা কোথায়! তবে ওই সব ভবনগুলোর যদি একটা মান তালিকা তৈরী করা হয়, তাহলে সবচেয়ে নিম্মমান কিংবা এক নম্বর ভবনটি যেমন তেমন একটা ঝড়েও এতোদিনে ধসে পড়ার কথা ছিল। কিন্ত আমার বিশ্বাস ওই ভবনের মানুষগুলো ভূমিকম্প নিয়ে যতনা দু:শ্চিন্তাগ্রস্থ, তারচেয়ে অনেক বেশি চিন্তিত গবেষকরা আর তথা কথিত কিছু মিডিয়া। আমি খুশি হতাম, তারা যদি ওই সব ভবনগুলোকে সীলগালা কিংবা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়ার জন্য সরকারকে চাপ দিতেন। তারা নাকি নিশ্চিত, ওই ৭২ হাজার ভবন তো ধসে পড়বেই- সঙ্গে মানুষগুলোও মরবে। উপরন্তু ঢাকায় তৈরী হবে কয়েক কোটি টন কংক্রিকেটর স্তুপ। আমার প্রশ্ন- তাহলে ওই সব ভবনগুলোকে ভূমিকম্প আঘাত হানার আগেই কেনো গুড়িয়ে দেয়ার কথা বলা হচ্ছে না?যখন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপের কথা না শুনি, তখন মনে হয় আতঙ্কবাজির পেছনে কোন রাজনীতি বা ব্যবসা আছে কিনা! তারা কংক্রিটের হিসাব দেন। অংক কষেন ভবন আর মৃত লাশের। কেবলই গাণিতীক ব্যাখ্যা, আশঙ্কা আর ভবিষ্যতের রাহু গ্রাসের ভয়াল বাণী। কই, বুল ডোজার , শাবল, কোদাল, ঝুড়ি নিয়ে তো কাউকে রাস্তায় নামতে দেখি না। ভেঙ্গে পড়ার মতো যদি কিছু না থাকে, তো আট মাত্রার ভূমিকম্প এসে কাকে ভাঙ্গবে শুনি!

পাঠকর আরো জানতে বিস্তারিত এখানে পড়ুন :

https://www.ctgbarta24.com/2016/04/16/ভয়াবহ-ভূমিকম্প-ঝুঁকিতে-চ/

আমি জীবনে প্রথম ভুমিকম্পের সাথে পরিচিত হই ১৯৮৯ সালে। আমি তখন যশোহরে একটা স্কুলে পড়ি। একদিন দুপুর বেলা- আমি এক বন্ধুর বাসায় বসে দাবা খেলছি। হঠাত কেঁপে উঠলো ঘরটি-যার এক পাশের কোনা বহুবছর ধরে ধসানো ছিল। দেখলে মনে হতো ইটগুলো ঝুলে ঝুলে পড়ছে। সেদিনও ভবনটির কিছু হয়নি। তারপর জীবনে অসংখ্যবার ভুমিকম্পের সাথে সাথে নিজেও দুলেছি। কখনো কোন অঘটন ঘটেনি।

ভূমিকম্পের সাথে আমার দ্বিতীয়বার পরিচয় হয় ২০০৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী। ঢাকা থেকে সবে সাউথ ইস্ট লন্ডনের উলউইচ নামক একটি পাহাড়ি অঞ্চলে একটি রুম ভাড়া নিয়েছি। একদিন রাতে হঠাত লক্ষ করছি দোচালা বাড়িটি এদিক ওদিক দুলছে। মাথার ওপর ঝুলানো একটা বাল্ব দেখে মনে হলো এটি বৈশাখ মাস। বৈদ্যুতিক বাল্বটি পাকা আমের মতো দুষ্টু ঝড়ের কবলে পড়েছে। একবার মনে হলো, কাঠের বাড়ি বলে কেউ হয়তো পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছে। বেশ ভৌতিক একটা ব্যাপার মনে হচ্ছিল। বেশ কিছুক্ষন পর থেমে গেলো। সেদিনও আমি খুব বেশি ভয় পাইনি। সকালে বাইরে বের হয়ে জানলাম, এটি ছিল মাঝারি মানের একটা ভূমিকম্প।

লোকে বলে, ব্রিটেনে কোন ভুমিকম্প হয় না। কথাটা সঠিক না। হয়তো কম মাত্রার ভুমিকম্প হয় বলে এই ধারনাটা তৈরী হয়েছে। অথচ আমার কাছে মনে হয়েছে লন্ডন হচ্ছে একটি ভুমিকম্পের শহর-যেখানে কাটিয়ে দিয়েছি পাঁচ বছরের বেশি। বলা চলে লন্ডন শহর প্রতিনিয়ত কাঁপছে। এর মুল কারন আন্ডারগ্রাউন্ড টিউবগুলোর প্রতি মুহুর্তে ছুটে চলা এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক কারনে। আর বেশিরভাগ বাড়িঘর গুলো হচ্ছে কাঠের তৈরী। ফলে দুই তিন মাত্রার কম্পনের ফলেও সেগুলো ছোট্ট শিশুর মতো হেলে দুলে নেচে ওঠে। টিউব সার্ভিসের কারনে বোঝাও মুশকিল কোনটা প্রাকৃতিক ভুমিকম্প আর কোনটা ম্যান মেইড প্রযুক্তিগত ভূমিকম্প। তবে সিসমোগ্রাফের ভাষায় হিসাব করলে দেখা যাবে, সেগুলো গড়ে চার মাত্রার ভূমিকম্প। ব্রিটেনে সারা বছর গড়ে তিনশটি ভূমিকম্প হয় বলে তথ্য রয়েছে। লন্ডনের এই অভিজ্ঞতা আমার ঢাকায় বেশ ফল দিচ্ছে।

আরো পড়ুন   :

 

https://www.ctgbarta24.com/2016/01/05/বড়-ভূমিকম্প-মোকাবেলায়-অপ/

 

বাংলাদেশের আধুনিক মানুষগুলো ভূমিকম্পের সাথে মুলত পরিচিত হয়েছে ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। সেদিন সিকিমে ৬.৮ মাত্রার ভুমিকম্পের কারনে ঢাকাসহ দেশের অনেক অঞ্চল ব্যাপক ঝাঁকুনির মুখে পড়ে। আর সেদিনকার ভূমিকম্পটাই বলা চলে, বাংলাদেশের মানুষকে ভূমিকম্প সম্পর্কে একটা নতুন ভাবনার মধ্যে ফেলে দেয়।
আর তারপর থেকে প্রতিযোগিতা চলছে ভূমিকম্প নিয়ে কার গবেষনা, কার আতঙ্ক আর ভয়ার্ত পরামর্শ কতটা চটকদার এবং শীর্ষে। গবেষনা আর পরামর্শের ফাঁকে ফাঁকে আতঙ্ক না হলে-সেটা আবার খবর হয় না।

 

এ ব্যাপারে বিস্তারিত আরো সংবাদ এ লিংকে পড়তে পারেন :

“ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ”

 

২০১১ সালের পর থেকে দেশের মানুষ, বিশেষ করে ঢাকার বাসিন্দারা এক ধরনের আতঙ্ক নিয়েই বসবাস করছে। তবে আমার বিশ্বাস আতঙ্কের পাশাপাশি তাদের মনটাও আস্তে আস্তে শক্ত হচ্ছে। ডাউকি ফল্টে যেমন শক্তি বাড়ছে। একই হারে শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে আমাদের মনেও। তা নাহলে এতো বড় বড় ভূমিকম্পের পরও মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারতো না।

আমার দশ বছরের মেয়েটি আগে কান্নাকাটি করতো। ভয়ে কাঁপতো। গত দুটি ভূমিকম্পের সময় মনে হলো তার অস্থিরতা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এখন ভূমিকম্প হোক আর না হোক-সে মাঝে মাঝে ভূমিকম্প হচ্ছে বলে মনে করে একটা বালিশ নিয়ে দৌড়ে বীমের নিচে চলে যায়। আমরা বাসার ভেতর তিনটা জায়গা চিহ্নিত করেছি। গত দুটি ভূমিকম্প হয়েছে রাতে-ফলে আমরা সবাই বাসায় ছিলাম। এক সাথেই আমরা আমাদের চিহ্নিত জায়গায় গিয়ে আমি সবাইকে ধরে দাঁড়িয়ে থেকেছি। আমরা কখনো দৌড়ে রাস্তায় কিংবা দরজা পর্যন্ত খুলিনি। আমি সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে বলতে থাকি-কিচছু হবে না। আমাদের ভবনটি ভেঙ্গে পড়লে ঢাকার ৯০ ভাগ ভবনই ভেঙ্গে পড়বে। মারা যাবে লাখ লাখ মানুষ। এতো মানুষ যেখানে মরবে, সেখানে আমাদের বাঁচতে ইচ্ছা হবে না। কাজেই মরতে হলে নিজেদের ঘরে, আরাম আয়েশেই মরবো। হুড়ো হুড়ি করে বাইরে পরের ঘরের নিচে, সরকারি নড়বড়ে বৈদু্্যতিক খুঁটি আর তারের নিচে পিষ্ট হয়ে মরার কোন দরকার নেই।

আমার বাসার দেয়াল কিংবা উচুঁ কোন স্থানে এমন কোন বস্তু নেই-যা মাথার ওপর পড়তে পারে। আমি আমার বাসাটিকে অযথা ফার্নিচারের দোকান বানাতে চাইনি। একান্ত দরকারি জিনিস ছাড়া আমার বাসায় অযথা আসবাবপত্র নেই। ইচ্ছে মতো আমরা ঘরের ভেতর দৌড়াদৌড়ি করতে পারি।

বিস্তারিত আরো সংবাদে পড়ুন :

 

https://www.ctgbarta24.com/2016/04/19/ভূমিকম্পের-আতঙ্কে-চট্টগ্/

আমার মনে হয়েছে, বাড়ির প্রধান ব্যক্তির একটা বড় দায়িত্ব হচ্ছে অন্যদের মনের শক্তি বাড়াতে কাজ করা। যদিও এটা একটা কঠিন কাজ। নিজে কিছুটা অভিনয় করে হলেও দুর্যোগ মুহুর্তে হাসতে হবে, স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে হবে-এটার চেয়ে কঠিন দায়িত্ব আর হতে পারে না। আর এই কাজটি যে নিখুঁত ভাবে করতে পারে-সে ভূমিকম্পকে হারাতে পারে। মনে হয় একারনে আমার ছোট্ট মেয়েটি ভুমিকম্পকে এখন ভয় পায় না। অথচ সেদিন দেখলাম, আশ পাশে লেফট রাইট শুরু হয়ে গেছে। ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার পর আমরা দরজা খুলে দেখতে থাকি-কারা কারা দৌড়ে নীচে গিয়েছিল। মজার ব্যাপারটা লক্ষ্য করি, যখন দেখি কেউ কেউ আমাদের সাহস আর স্বাভাবিক আচরন দেখে লজ্জা পাচ্ছে।

এখন আমাদের মনের জোর ডাউকির জোরের চেয়েও বেশি মনে হয়। ডাউকিতে যদি থাকে ৮ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী কম্পন শক্তি, তো আমাদের মনে আছে ১০ মাত্রার চেয়েও বেশি। দেখা যাক-কার জোর কতটুকু! মরলে মরবো-এই সুন্দর বাংলাদেশে!

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম/শ.ই.জী/ এমকে

সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ

সোমবার খুলছে প্রিমিয়ারের দামপাড়া ক্যাম্পাস... ক্যাম্পাস ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম রোববার, ২৪ এপ্রিল ২০১৬ চট্টগ্রাম: আগামীকাল সোমবার (২৫ এপ্রিল) থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্য...
চট্টগ্রামে সাংবাদিককে স্বপরিবারে হত্যার হুমকি... রোববার, ২৪ এপ্রিল ২০১৬ সাংবাদিক জীবন কৃষ্ণ নাথ সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :  জাতীয় দৈনিক আমাদের সংবাদ পত্রিকা ও চট্টগ্রাম থেকে প্...
চট্টগ্রামে মাদকের আখড়া বরিশাল কলোনি ও ধোপার মাঠে নিষ্ফল অভিযান... অভিযানের সংবাদ ফাঁস হয় আঈন-শৃঙ্কলা বাহীনির সদস্যদের মাধ্যমে!  নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম রোববার, ২৪ এপ্রিল ২০১৬ চট্টগ্রামে মাদকের আখ...
কাজির দেউড়িতে পিকআপের চাকায় পিষ্ট হয়ে রোহিঙ্গা শিশু নিহত... রবিবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৬ সিটিজিবার্তা২৪ডটকম  নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্রগ্রাম : নগরীর কাজির দেউড়ি আউটার স্টেডিয়াম এলাকায় পিকআপ গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়েছে ...
প্রতিটি জেলায় পাসপোর্ট অফিস করা হবে : প্রধানমন্ত্রী... রবিবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৬ সিটিজিবার্তা২৪ডটকম  ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় পাসপোর্ট অফিস করা হবে। এ ছাড়া ...



Leave a Reply