বিগত চার বছরের জনদূর্ভোগের পরিত্রাণ চেয়ে
আবদুল বাসেত, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
বুধবার, ১১ মে ২০১৬

বিগত ৪ বছর ধরে শাহপরীর দ্বীপের ৪০ হাজার জনসাধারণ এভাবে জোয়ার ভাটার উপরে তাদের জীবনের ভাগ্য নির্ধারণের জীবনযাপন করছেন।
কক্সবাজার জেলার উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি এমপির কাছে ৪০ হাজার মানুষের জীবন রক্ষার মানবিক আকুল আবেদন জানিয়ে সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম বরাবর খোলা চিঠি পাঠিয়াছেন টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের এক তরুন নেতা।
এমপি বদির কাছে আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে তাদের এলাকার জনসাধারণের বিগত চার বছর ধরে জন দুর্ভোগে আটকে থাকা কষ্টকর সমস্যাবলীর বর্ননা দিয়ে এর পরিত্রাণে আকুল আবেদন জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আবদুল বাসেত।

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ প্রতিদিন জোয়ারের স্রোতে ভেঙ্গে সাগরের গর্ভে বিলীন হয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে।
এমপি বদির কাছে ছাত্রলীগ নেতা আবদুল বাসেতের খোলা চিঠি সিটিজিবার্তা২৪ডটকম পাঠকদের কাছে হুবহু নিম্নে প্রকাশিত করাহলোঃ
বরাবর
মাননীয় সংসদ সদস্য
কক্সবাজার-৪ ( উখিয়া-টেকনাফ)
টেকনাফ – কক্সবাজার
বিষয়ঃ- শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা ও দ্বীপের ভাঙ্গাকবলিত অসহায় মানুষের দুঃখ-দূর্দশা লাগব প্রসঙ্গে।
জনাব,
সবিনয় বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা কক্সবাজার জেলার সর্বদক্ষিণের উপজেলা টেকনাফের অন্তর্ভূক্ত সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের শাহপরীর দ্বীপ গ্রামের ভাঙ্গাকবলিত এলাকার অসহায় বাসিন্দা। বিগত ২০১২ সালের ২২ শে জুলাই বর্ষা মৌসুমে প্রবল জোয়ারের স্রোতে আমাদের শাহপরীর দ্বীপ গ্রামটি বাংলাদেশের মূল-ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে আজ চার চারটি বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আপনি অবশ্যই অবগত আছেন। গত চার বছরে শাহপরীর দ্বীপের অসহায় ৪০ হাজার বাসিন্দা কিভাবে, কতকষ্টে দিনযাপন করেছে আজ কারও অজানা নয়।
বিগত চার বছরে শাহপরীর দ্বীপের হাজার হাজার বাসিন্দা নিজের একমাত্র মাথা গুঁজার শেষ সম্ভল সহায় সম্পত্তি, ভিটে-মাটি হারিয়ে শরণার্থী হয়ে অন্যত্র পারি জমিয়েছে। আর যারা এখনও মাতৃভূমির টানে শাহপরীর দ্বীপে খেয়ে-নাখেয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন তাদের দুঃখের, কষ্টের মাত্রা যে কতটুকু তা একমাত্র আল্লাহ্ ও আমরা নিজেরাই বুঝতেছি।
হে মহামান্য সংসদীয় প্রতিনিধি,
আল্লাহর অশেষ রহমত ও আপনার ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় উখিয়া-টেকনাফের উন্নয়নের চিত্র আজ সত্যিই বদলে গিয়েছে। আপনার সাত বছরের ক্ষমতায় অতীতের চল্লিশ বছরের উন্নয়নের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে গেছে। আপনি সাত বছরে উখিয়া-টেকনাফের যে উন্নয়ন করেছেন তা সারা জীবন স্মরনীয় হয়ে থাকবে এই দুই উপজেলার সকল মানুষের হৃদয়ে। আপনাকে নিয়ে সত্যিই আমাদের গর্বের সীমা নেই। যেখানেই যায় শুধু আপনার উন্নয়নের বাস্তব চিত্র দেখতে পায়।
আপনি যখন মেধাবী ছাত্রী ছলিমার পড়ালেখার সম্পূর্ণ খরচের দায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নেন, তখন আমাদের গর্বের অন্ত থাকেনা। এই রকম উখিয়া-টেকনাফের হাজারো ছলিমার পড়ালেখার, জীবনযাপনের, বিবাহের সম্পূর্ণ খরচের দায়বার আপনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। যা শুনতে সত্যিই খুবই ভালো লাগে। উখিয়া-টেকনাফের মানুষের মৌলিক চাহিদা (অন্য,বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ) প্রায় সব গুলোর দায়িত্ব আপনি নিজের করে নিয়েছেন। সেই সাথে আপনি আপনার নির্বাচনী এলাকা (উখিয়া-টেকনাফ) দুই উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস সিভিল স্টেশন স্থাপন করে ইতিহাসের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এখন এ দুই উপজেলাকে সার্বক্ষণিক আলোকিত করে রাখার উদ্দ্যেগ নিয়ে মহাসড়কে সোলার পাওয়ার বিদ্যুৎ স্থাপন করে দিয়েছেন জনসাধারণের সুবিধার্থে। আপনি উখিয়া-টেকনাফের জন্য যা করেছেন এতেই যথেষ্ট, যা নিয়ে আমরা সারা জীবন গর্ব করতে পারবো। আল্লাহ্ আপনাকে উখিয়া-টেকনাফের গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের দোয়ায় হাজার বছর বাঁচিয়ে রেখে মানবতার পাশে থেকে মানুষের সেবা করার সুযোগ দান করুক।
হে মানবদরদী,
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান সরকার ও আপনার ব্যক্তিগত উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া আমাদের শাহপরীর দ্বীপে স্পর্শ করেনি। নূন্যতম সাহায্য বলতে মাঝে মাঝে সামান্য পরিমান চালটুকু পেয়েছে শাহপরীর দ্বীপবাসী। এ এলাকার অসহায় মানুষের বসবাস ও যাতায়াত কতযে কষ্টকর হয়ে গেছে তা বলে বুঝাতে পারবোনা। আমরা যারা আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি এবং ২০০৮ ও ২০১৪ সালে যারা জনগনের ধারে ধারে নৌকা ও আপনার জন্য ভোট ভিক্ষা করেছিলাম! আমরা এখন সাধারণ সেইসব ভোটারদের সামনে পড়লে লজ্জায় মাথা নিঁচু হয়ে যায়। যে যায় বলুক আপনার চেষ্টার কোনো ট্রুটি ছিলোনা। সরকারিভাবে ও ব্যক্তিগত ভাবে আপনি অনেক চেষ্টা করেছেন! সময় উপযোগী না হওয়ায় সেইসব চেষ্টার সুফল এলাকাবাসী ভোগ করতে পারেনি। আমাদের এলাকার ছাত্রছাত্রীদের কাছে উচ্চ শিক্ষা যোগাযোগের অভাবে আজ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রী অকালেই নিজের শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি করতে বাধ্য হয়েছেন।
এছাড়া এলাকাবাসীর আরও অনেক কষ্টের কথা যা বলে ও লিখে শেষ করা যাবেনা। যা আপনি নিজেই অবগত। তাই এইসব লিখে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাইনা। আপনার কাছে আমাদের আকুল আবেদন, অতএব আপনার কাছে শাহ্ পরীর দ্বীপ বাসীর আকূল আবেদন আগামী বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই আমাদের শাহপরীর দ্বীপ ও দ্বীপবাসীর জন্য কিছু একটা করুন……… যেখান থেকে হোক, যেভাবেই হোক আপনি আমাদের বাঁচান।
‘আমরা বাঁচতে চাই, ‘আমরা থাকতে চাই’ বাব-দাদার ভিটে মাটি ছেড়ে আমরা অন্য কোথাও যেতে চাই না। আমাদের থাকতে দিন। ইনশাআল্লাহ্ আপনি চাইলে পারবেন, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি শাহপরীর দ্বীপ ও এই দ্বীপের অসহায় মানুষকে বাঁচাতে। আমাদের বাঁচান!! আমরা মনে করি আপনার জন্য শাহপরীর দ্বীপকে বাঁচানো ও রক্ষা করা কোনো ব্যাপারই না।
নিবেদকঃ-
শাহপরীর দ্বীপ বাসীর পক্ষে
আব্দুল বাসেদ
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক
টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগ
