৪ কাস্টমস হাউজে বসছে ডিজিটাল কন্টেইনার স্ক্যানার
বুধবার, ১১ মে ২০১৬
মাহাবুবুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
অর্থনীতি ডেস্ক: আমদানি ও রপ্তানী পণ্যের দ্রুত খালাস নিশ্চিতকরণে ১১৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের ৪ কাস্টমস হাউজে ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল কন্টেইনার স্ক্যানার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মাধ্যমে বৈধ ব্যবসায় সহায়তা ও অবৈধ মালামাল বহন প্রতিরোধসহ কার্গো হ্যান্ডলিং সহজতর ও নিরাপদ হবে এবং সময় কম লাগবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১১ মে) রাজধানীর সেগুনাবাগিচায় এনবিআর ভবনে চীন ও সরকারের সহাতায় ৪ কাস্টমসের জন্য ক্রয়কৃত কন্টেইনার স্ক্যানার হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১১৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৩ কোটি ৮৬ লাখ এবং চীন সরকারের অনুদান থেকে ৯৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। বেনাপোল, চট্টগ্রাম, কমলাপুর আইসিসিডি ও মংলা কাস্টমস হাউজে এই মোবাইল কন্টেইনার স্ক্যানার বসানো হবে।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ ৪ কাস্টমস হাউসে আধুনিক স্ক্যানার বসানোর মাধ্যমে কাজের গতিশীলতা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এর সঙ্গে রাজস্ব বোর্ডের সক্ষমতাও বাড়ল। ১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের অনুদানই বেশি ছিল। এজন্য বন্ধু রাষ্ট্র চীনের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’
এনবিআরের প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদেরও আধুনিক করতে হবে। কেননা নতুন এই স্ক্যানার অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। নতুন এই প্রযুক্তি সংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে আশা করছি কাজের গতি ও পরিধি বাড়বে। এর সঙ্গে সময় বাঁচবে, বৃদ্ধি পাবে রাজস্ব।’
এম এ মান্নান বলেন, ‘পূর্ব দিকে চায়না একটি বড় সূর্য। ওই দিকে তাকালে চায়নাকেই বেশি দেখতে পাই। এছাড়া রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। ওই সকল দেশও আমাদের উন্নয়নের অংশীদার। তবে চীনের ওপর আমরা বেশি আশাবাদি।’
সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ‘কাস্টমস হাউসে নতুন এই স্ক্যানার যোগ হওয়ায় শুধু বাণিজ্যের ক্ষমতায়ই বাড়বে না, এর সঙ্গে কাস্টমসের নিরাপত্তা ও রাজস্ব বাড়বে।’
অনুষ্ঠানে ‘রাজস্ব ও নিরাপত্তায় স্ক্যানিংয়ের গুরুত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার হোসেন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘কাস্টমস হাউজে অনেক সময় অবৈধ মালামাল পরিবহনের সন্দেহে বড় বড় ল্যাগেজ খোলা হয়। এতে সময় ব্যয় হয় অনেক। কিন্তু স্ক্যানার বসালে ল্যাগেজ খোলা লাগবে না। অবৈধভাবে কেউ যদি কোনো পণ্য বাইরে থেকে নিয়ে আসতে চায় তাহলে তা সহজেই ধরা পড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পণ্যের দ্রুত খালাস নিশ্চিতকরণে স্ক্যানারের ব্যবহার খুবই জরুরি। স্ক্যানারগুলো বসানো হলে কন্টেইনার স্ক্যানিংয়ে হাতের স্পর্শ অনেকাংশে কমে আসবে। এতে বাণিজ্য আরও সহজ হবে, কার্গো হ্যান্ডলিং সহজতর ও নিরাপদ হবে এবং সময় কম লাগবে। এছাড়া কাস্টমস হাউসগুলোর দক্ষতা বাড়বে, যা বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ‘ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত মা মিংকিয়াং, এনবিআর সদস্য (শুল্কনীতি) ফরিদ উদ্দিনসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।’

