শুক্রবার, ২০ মে ২০১৬
সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম
নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ৭ মে হাটহাজারীর ইউপি নির্বাচনে অস্ত্রসহ আটক নগর ছাত্রলীগের নেতা নুরুল আজিম রনিকে এক বিচারক কর্তৃক দুই বছর সাজা দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট যেখানে যার বিচার করবেন সেই বিচার দেখার দায়িত্ব উচ্চ আদালতের। ম্যাজিস্ট্রেট আইন মোতাবেক বিচার করেছেন। উচ্চ আদালত এখন বেশ সক্রিয়। কাজেই সংক্ষুব্ধরা সেখানে যেতে পারেন। রনির সাজায় আইনগত ত্রুটি থাকলে তারা উচ্চতর আদালতে সুবিচার পাবেন। ’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনী আইন কোনো আলাদা বিষয় নয়। ওই আইনেও সাজা হবে। দেশের প্রচলিত আইনেও সাজা হবে। কাজেই প্রচলিত আইন, নির্বাচনী আইনের বরখেলাপ সবই যোগ দেওয়া হবে। একটি অপরাধ হলে সেটি সব আইনেই কাভার করে। কাজেই আইনের যেসব বিষয় আছে সবই প্রযোজ্য হবে। এটা আপনাদেরকে (সাংবাদিকদের) আইনজ্ঞরাই বলতে পারবেন। আমি নই।’
এসময় নির্বাচন কমিশনের সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিচারকরা স্বাধীনভাবে বিচার করেন। তারা নির্বাচন কমিশনে সহায়তা করতে এসেছেন, তাই বলে তারা নির্বাচন কমিশনের অধীন, এ কথা সঠিক নয়। নির্বাচন কমিশন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বলে দেবে না, তুমি তিন বছর, দুইবছর, একবছর, সাজা দেবে। সেটি তার সিদ্ধান্ত। যেখানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, ওই অপরাধের যে শাস্তি আছে তার আলোকে তিনি সাজা দেবেন। নির্বাচন কমিশন ম্যাজিস্ট্রেটকে বলে দেওয়ার কোনো রকম এখতিয়ার নেই কত দিনের সাজা দেবেন। ’
তিনি আরো বলেন, দুর্গম অঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করা জটিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ। গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ইউপি নির্বাচন ২০১৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করেন। ‘এখনো দুটি পর্যায়ের ইউপি নির্বাচন বাকি আছে। আইনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। মার্চ থেকে জুনই হলো সময়সীমা। কিন্তু জুন থেকে রমজান শুরু হচ্ছে। রমজানে নির্বাচন করা কঠিন। আমরা সাধারণত সেটি করি না, বলেন সিইসি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন সিইসি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. রূহুল আমিন, ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার, জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আকতার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল বাতেন, খোরশেদ আলম, কোস্ট গার্ডের কমান্ডার ফয়েজ উদ্দিন, বিজিবির লে. কর্নেল ইকরাম, লে. কর্নেল ইমারত প্রমূখ।

