মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০১৬
জেনিফার আলাম: প্রথমে একটি ছোট্ট ঘটনা দিয়ে শুরু করছি, পিঙ্কি থাকে টঙ্গী রেললাইনের পাশে ছোট্ট ঝাপ দেওয়া পলিথিনের ঘরে এবং আজ সে খুব খুশি কারন তার গায়ে যে নীল রঙ্গের ফ্রকটি রয়েছে এমন ফ্রক শুধু টিভিতেই সে দেখেছে, তার আনন্দ আকাশ ছুয়ে গেল তখন যখন সে জানতে পারলো তার স্কুলের আগামী ৩মাসের বেতন সহ সব বকেয়া পরিশোধ করেছেন একজন মানুষ এবং কাল থেকে পিঙ্কি কোন রকম দুশ্চিন্তা ছাড়াই স্কুলে যেতে পারবে।
আরেকটা ছোট্ট ঘটনা, তাহমিনা পড়াশুনা করেন একটি স্কুলের ক্লাস ১০ এ। বাবা নেই এবং ৫ বোন এর সংসার মা চালান সেলাই করে। এই বছরের সব বেতন বকেয়া পরেছে স্কুলে এবং নাম কেটে দেয়া হয়েছে। এক সকালে তাহমিনা জানলো তার সমস্ত বকেয়া পরিশোধ করা হইছে এবং এস এস সি পর্যন্ত তার পড়াশুনার সমস্ত খরচ বহন করা হবে। এবং এমন কাজ গুলো করার জন্য কিছু মানুষ তাদের প্রতি মাসের খরচের টাকা থেকে কিছু টাকা সঞ্চয় করে রাখেন যেন মাসের শুরুতে এই অদ্ভুত সুন্দর কিছু মুখে হাসি ফুটানো যায়।
এই আলোকিত মানুষদের একজন এর নাম নুর আবতাহি সুজন। খালি চোখে এই যুবক কে দেখলে দেখা যায় প্রচন্ড ব্যাস্ত কর্পোরেট চাকুরীজীবী। কিন্তু এই ব্যাস্ততা আর কর্পোরেট ভাব গাম্ভী্র্যর মধ্যে লুকিয়ে আছেন একজন আলোকিত মানুষ, যিনি এই প্রতিটি মাসের শুরুতে ছোট্ট ছোট্ট ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন যা পাল্টে দিচ্ছে কিছু মানুষের জীবন। তার এই কাজ রাস্তা করে দিচ্ছে বেশ কিছু মানুষকে শিক্ষিত হবার আলোর দিকে এগিয়ে যাবার্। এই কাজ গুলো মানুষটি করে যাচ্ছিলেন প্রচার ছাড়া। নিজের উদ্যোগে।
আমাদের মধ্যেই হেটে বেড়ানো মানুষটি নিজের ভেতরকার আলো দিয়ে আলোকিত করছেন আরো মানুষের জীবন। যেখানে কর্পোরেট অফিসাররা বেতন পেয়ে ভালো কোন পোশাক বা ভালো কোন রেস্টুরেন্টে খেয়ে নিজেদের আনন্দ খুজে নেন সেখানে এই মানুষটি তার নিজের পরিশ্রমলব্ধ অর্থ দিয়ে এই মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চিন্তায় নিজেকে ব্যাস্ত রাখেন। এখানেই তিনি অনন্য অসাধারন, যেটা আমি বা আপনি হতে পারি না।
আমরা পুরো টিম সুজন কে ধন্যবাদ জানাই একজন আলোকিত মানুষ হয়ে আরো মানুষের জীবন কে আলোকিত করার জন্য। তার এই আলোক যাত্রা অব্যাহত থাক এবং আরো তীব্র হোক।






