মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০১৫, ১৯:২৫ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৫, ১৯:৩৫
রিজওয়ানুল, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে দশম জাতীয় সংসদের এই স্থায়ী কমিটির ১৬তম সভায় এ তাগিদ দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘রামপাল ২০১৯ সালে উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। কাজ চলমান আছে। এ ছাড়া কাজের অগ্রগতি ও প্যারামিটার দেওয়া আছে। সেই পথেই আমরা এগোচ্ছি, যেভাবে দরপত্র দেওয়া হয়েছে।
‘আমাদের যেসব ফিনানশিয়াল ও ইকোনমিক জোন আছে, সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করছি। এসব এলাকায় দ্রুত ও কোয়ালিটি বিদ্যুৎ সরবরাহে রামপাল অবদান রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে চাপ আছে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজটি আমরা করব।’ এ ছাড়া রামপালকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চল হিসেবে উন্নয়ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনাও দেওয়া আছে বলে জানান তাজুল ইসলাম।
বাগেরহাটে সুন্দরবনের পাশে এই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এ কেন্দ্র করা হলে এখানকার জীববৈচিত্র্য ব্যাপক হুমকির মধ্যে পড়বে বলে দেশের বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক দল অভিযোগ করে আসছে। তারা প্রকল্পটি বাতিলের দাবিতে সুন্দরবন অভিমুখী লংমার্চ করে। প্রকল্পটি রামপাল থেকে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না। নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিল সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, ‘রামপাল সাপোর্টেট ইকোনমি গড়ে তোলা হবে, এটি এ ক্ষেত্রে অবদান রাখবে। যে প্যারামিটার দেওয়া আছে সে হিসেবেই এগুচ্ছে। যেহেতু দরপত্রও হয়ে গেছে আর আর্থিক বিষয়টিও নিশ্চিত; আশা করি, নির্ধারিত সময়েই তা শেষ হবে।’
এ ছাড়া বৈঠকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) গৃহীত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন এবং বিদ্যুৎ খাতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা হয়। কমিটি আরো নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ লাইন বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করে। বৈঠকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গৃহীত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে (আরইবি) ইজিবাইকের (টমটম) চার্জ দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের অবৈধ পন্থা রোধ করার সুপারিশ করা হয়।
কমিটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। বিদ্যুৎবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সকল প্রোগ্রামে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। বৈঠকে হাইওয়ে রোডের পাশের সরকারি জায়গার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নেওয়ার জন্যও সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সদস্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, মো. আতিউর রহমান আতিক, মো. আবু জাহির, এম আবদুল লতিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার আলোচনায় অংশ নেন।
এ ছাড়া বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, পিডিবি ও আরইবির চেয়ারম্যান, মহাপরিচালক (ডিজি), বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




