অষ্টম বেতন কাঠামোর নেপথ্যে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ রয়েছে

বুধবার,২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

beton_dhakareport_24763সিটিজিবার্তা২৪ডটকম : অষ্টম বেতন কাঠামোর নেপথ্যে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ রয়েছে বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের হাইকমান্ডকে অবহিত করেছে। তারা বলছে, এই বেতন কাঠামোতে ইচ্ছাকৃতভাবে বৈষম্য জিইয়ে রাখা হয়েছে। কেননা এতে করে বঞ্চিতরা আন্দোলনে নামবে। আর সরকার পড়বে বেকায়দায়।

গোয়েন্দা সূত্রটি বলছে, দেশি এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কোন আন্দোলনই সফল করতে পারেনি। তাই সরকারি কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশকে আন্দোলনে নামাতে পারলে তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে। এছাড়া এই কর্মকর্তারা নির্বাচনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সূত্রটি দাবি করছে, পাকিস্তানের একটি গোয়েন্দা সংস্থা আমলাদের ওই গ্রুপকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের টিকটিকি হিসেবে কাজ করছে। এই কর্মকর্তাদের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও গোয়েন্দারা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, জাতীয় বেতন স্কেলের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে সৃষ্ট বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ২৬টি ক্যাডার ও বিভিন্ন ফাংশনাল সার্ভিসের কর্মকর্তারা সারাদেশে কালোব্যাজ ধারণ করে কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ ২৩ ডিসেম্বর সারাদেশে মানববন্ধন ও কাল ২৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান। এছাড়া ২৭ থেকে ৩০ ডিসেম্বর প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিত্সকসহ ২৬টি ক্যাডার ও বিভিন্ন ফাংশনাল সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রতিদিন এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করবেন। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে লাগাতার কর্মসূচিতে যাবেন বঞ্চিত কর্মকর্তারা।

বঞ্চিত কর্মকর্তারা দাবি করছেন, মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নানা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। এটা থেকে তারা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পান। মাসে ৭-৮ লাখ টাকা পান। চড়েন প্রকল্পের দামি গাড়িতে। অথচ বেতন কাঠামোতে এই আমলারাই ১০০ থেকে ১২২ ভাগ পর্যন্ত সুবিধা পেয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ফরাস উদ্দীনের নেতৃত্বে পে-কমিশন অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণা করলেও পরে সচিব কমিটি ইচ্ছেমত এটা রদবদল করেছে। এছাড়া সাধারণত মন্ত্রণালয়ের ফাইল লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে পাস হতে অনেক সময় লাগে-এটা সবার জানা কথা। কিন্তু দ্রুততম সময়ের মধ্যে অষ্টম পে-স্কেলের ফাইল পার হওয়ার পিছনেও আমলাদের স্বার্থ জড়িত রয়েছে বলে বঞ্চিতরা দাবি করছেন।

জানা গেছে, সদ্য ঘোষিত অষ্টম বেতন কাঠামোতে সরকার যে আশ্বাস দিয়েছে তার প্রতিফলন ঘটেনি বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের শিক্ষক এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্যাডার ও নন-ক্যাডারেও। এ বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরকারের ভেতর কিছু লোক আছে যারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। বিষয়টি সরকারের হাইকমান্ডের গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা দরকার। এখনও সময় আছে এ বেতন কাঠামোর পরিবর্তন করা এবং ওই সব লোকদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. একে মনোয়ার উদ্দীন আহমদ বলেন, একেক শ্রেণির চাকরীজীবীদের একেকটা বেতন স্কেল হবে, সেটা ঠিক। তবে সদ্য ঘোষিত অষ্টম বেতন কাঠামোতে সরকারের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। তারা শিক্ষক সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। তিনি বলেন, একটা সময় এদেশের শিক্ষক সমাজের প্রয়োজন হত সরকারের। কিন্তু বর্তমানে তা আর দরকার নেই। তাই অষ্টম বেতন কাঠামোতে বৈষম্য রাখা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ বেতন কাঠামো নিয়ে সরকার যে আশ্বাস দিয়েছে তার কোন প্রতিফলন ঘটেনি। বরং সরকারের কিছু লোক অনানুষ্ঠানিক ভাবে একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। সরকারের ভেতর কিছু লোক আছে যারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম মূল চাবিকাঠি শিক্ষা। কিন্তু সে সেক্টরকে অবহেলা করে কোন সরকারই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না।

উৎসঃ  বাংলাদেশ প্রতিদিন

আপনার মতামত দিন....

এ বিষয়ের অন্যান্য খবর:


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


CAPTCHA Image
Reload Image