BREAKING NEWS
Search

‘আপনারা মহিউদ্দিন এবং নাছিরের কর্মী নন, আমরা সবাই শেখ হাসিনার কর্মী’

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম । ৪ আগস্ট ২০১৬

'আপনারা মহিউদ্দিন এবং নাছিরের কর্মী নন, আমরা সবাই শেখ হাসিনার কর্মী'

‘আপনারা মহিউদ্দিন এবং নাছিরের কর্মী নন, আমরা সবাই শেখ হাসিনার কর্মী’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, আপনার আমি মহিউদ্দিনের কর্মী নন, নাছিরের কর্মী নন, আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুকণ্যা শেখ হাসিনার কর্মী। নগরীতে ১৪ দলীয় মহাজোটের জঙ্গিবাদ বিরোধী ধারাবাহিক কর্মসূচি পদযাত্রা পূর্বক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

বুধবার (৩ আগস্ট) নগরীর পুরাতন চান্দগাঁও থানার সামনে ১৪ দলের জঙ্গিবাদ বিরোধী ধারাবাহিক কর্মসূচি পদযাত্রা পূর্বক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

১৪ দলের জঙ্গিবাদবিরোধী এ সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মীদের দফায় দফায় স্লোগানের কারণে সমাবেশে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। সমাবেশস্থানে নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফা হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। নেতাকর্মীদের এমন আচরণে বিরক্ত হয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। নেতাকর্মীদের স্লোগানের কারনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার বাধাগ্রস্ত হন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত নেতাকর্মীদের আচরণে তিনি মাইক ছেড়ে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে চেয়েছিলেন।

বিকেল পাঁচটা ৪৫ মিনিটের দিকে এম ই এস কলেজের জিএস আরশাদুল আলম বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি মিছিল আসে। মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখর মিছিলটি সমাবেশস্থানে প্রবেশ করা মাত্র বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি লেগে যায়। এদিক-ওদিক ছুটাছুটি শুরু করে কর্মীরা। মহিউদ্দিন চৌধুরী তাদের বারবার থামানোর চেষ্টা করলেও তারা স্লোগান দিয়ে সমাবেশে উত্তেজনা ছড়াতে থাকে।

এ সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী বাচ্চুকে উদ্দেশ্য করে বলেন,  ‘এই বাচ্চু তুমি ছাত্রলীগ করো? এই মুহূর্তে তোমার ব্যানার গুটিয়ে ফেলো।’

“তোরা আইসস দে মিটিং ভাঙ্গি দিবের লাই তোরা যা গ্যোই যা”

এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আই যাইরগ্যই, সভা কি শেষ করে দেবো? অযথা স্লোগান দিয়ে লাভ নেই। সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী ছাড়া আন্দোলন করা যায় না। আমরা যুদ্ধে নেমেছি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে। আপনারা আমার কর্মী নন, নাছিরের কর্মী নন, আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুকণ্যা শেখ হাসিনার কর্মী।’

তিনি বলেন, ‘একটা সভায় আপনারা এসেছেন সভাকে সফল করার জন্য। কিন্তু আপনাদের কর্মকান্ড দেখে মানুষ ভয় পেয়ে চলে যাচ্ছে।’

উচ্ছৃঙ্কলতার কারণে নেতাকর্মীদদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করলেও সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় তাদের সাথে রসিকতাও করেন। বিকেল পাঁচটা ৩৫ মিনিটে বক্তব্য দিতে উঠেন তিনি।

তিনি তার বক্তব্যের শুরুতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘জঙ্গিদের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফেটে ফেলতে হবে। তাই সবাইকে লাঠি দেওয়া হয়েছে।’

“হওগো আইন্যে হইত নো পারি, চায় দেহাউচায় এক ক্যানা”

এ সময় নেতাকর্মীরা লাঠি উঁচিয়ে তুললে তিনি বলেন,  “এতো হম কা” ?

মহিউদ্দিন বলেন,  ‘লাঠি দিয়েছি, মাথায় টুপি দিয়েছি, হুইসেল দিয়েছি। এসব নিয়ে পাহারা দেবেন।’

এসময় তিনি বলেন, ‘পারবেন? তা না হলে লাঠি ফেরত দেবেন।’

এরপর তিনি নেতাকর্মীদের জিজ্ঞাসা করেন- ‘হুইসেল আছে? বাজান একবার। এসময় নেতাকর্মীরা চারদিক থেকে হুইসেলের আওয়াজ তুলেন।

তখন মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘জোরো বাজাওনা, জোরে, জোরে, অইয়্যে, অইয়্যে’ তার এ কথা শুনে নেতাকর্মীদের মধ্যে তখন হইহুল্লোড় পড়ে যায়।

মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘কথা হইয়্যুম দে এদেশের লাই। এ সময় সমাবেশস্থলের মাঝখানে একজন কর্মী ‘মহিউদ্দিন ভাই-মহিউদ্দিন ভাই’ স্লোগান ধরে উঠেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী তখন ওই কর্মীর উদ্দেশে বলেন, ‘ইতেরে ধরি দুয়ো পিড়ে দ্য, এন কা গরের।’

তখন ওই কর্মী আরও জোরালো কন্ঠে আওয়াজ তুলে স্লোগান দিতে শুরু করেন।

মহিউদ্দিন তখন তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘পোয়াইবেয়্যে হন? তুমি কি আমাদের লোক? বন্ধ কর স্লোগান।’

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ছাত্র নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এমইএস কলেজের প্রিন্সিপ্যাল হন, ভাইস প্রিন্সিপ্যাল হন?-জামায়াত-শিবিরর। তোয়ারা তো আইজো হইত নো পারো ফঁল্যা।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘জামায়াত অধ্যুষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক যারা আছেন, সাবধান হয়ে যাবেন।’

14-dol-podojatra-chandgao-thana-area-ctgbarta24-1280x817

চট্টগ্রাম ১৪ দলীয় মহাজোটের সমাবেশ শেষে মহিউদ্দিন চৌধুরী, সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন বাদল ও আ জ ম নাছিরের নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ বিরোধী পদযাত্রা।

দলীয় নেতা কর্মীদের ‘জঙ্গিবাদ খতম করো, বাংলাদেশ জঙ্গি মুক্ত করো’ নামে স্লোগান দেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন,  ‘যুদ্ধে নেমেছি স্লোগান দেওয়ার জন্যে নয়, কৌশল অবলম্বন করার জন্য। সেই কৌশল অস্ত্র দিয়ে নয়, লোহার রড় দিয়ে নয়, লাঠি দিয়ে। লাডির বারি ইয়ে এক্কবারে হমচম যেন তিন কেজি ফান লার। এক বারি মাথা ফাডি যাইবো।’

সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে সমাবেশস্থানে প্রবেশ করেন নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

তিনি মঞ্চে উঠলে মহিউদ্দিন চৌধুরী তাকে সালাম দেন। তখন কয়েকজন নেতাকর্মী সিডিএ ছালামের নামে স্লোগান ধরলে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলে উঠেন-“হইয়্যে তো, এহনো তো টাইম নো অ। টাইম হইলে আঁই সহ ছালাম ভাই এগিয়ে চলো হইয়্যুম।”

“হইয়্যে না, তোরাত্বে আর স্লোগান দেন ফইত্যো ন। হঁত্যে হারে নমিনেশন দিয়্যুম ইয়েন পরের হথা। এতো শরে অইবের লাই বুলি এন গইল্যে ক্যান অইবো”।

সমাবেশে বোয়ালখালী-চান্দগাঁও (একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ও জাসদের কেন্দ্রীয় কার্য-কমিটির সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ অনেকের এটা শেষ বয়সের লড়াই। সারাদেশে অগণিত তরুণ রাস্তায় নেমে গেছে। এ তরুণরাই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবিচল থাকবে। বাংলাদেশের মাটিতে আমরা জঙ্গিবাদকে সাত ফুট নিচে মাটি দেবো।’

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করার জন্য পবিত্র ধর্ম ইসলামের নাম দিয়ে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটানো হচ্ছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তাদের এই অপতৎরতা আমরা রুখে দেবো।’

নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, জাসদ নেতা ইন্দু নন্দন দত্ত প্রমুখ। এছাড়া সমাবেশে মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা অংশ নেন।

সমাবেশে শেষে মহিউদ্দিন চৌধুরী, সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন বাদল ও আ জ ম নাছিরের নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ বিরোধী পদযাত্রা বের করা হয়।

 

সিটিজিবার্তা২৪ডটকম/ ৪আগস্ট/ জেএ/ এমকে




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image