বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৬

দুই সন্তান আক্তার মাহমুদ মাহির (৮) ও তাবাসসুম তাজমিন টাপুরকে (৫) কোলে নিয়ে শোকার্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার।
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম, ডেস্ক: আলোচিত এসপি বাবুল আক্তার প্রাণপ্রিয় সহধর্মীনি মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার দীর্ঘ ৩৮ দিন পর বাসা থেকে বের হয়ে সরাসরি পুলিশ সদর দপ্তরে যান। সেখানে প্রায় এক ঘন্টা অবস্থান করার পর দুপুর ২টার দিকে বেরিয়ে আসেন।
তবে তিনি বাসায় ফিরেন রাত ৯টায় দিকে এমনটায় জানান তার শ্বশুর। তিনি বলেন, ‘বাবুল আক্তার হেডকোয়ার্টার থেকে দুপুর ২টার দিকেই বের হয়ে ব্যাক্তিগত কিছু কাজ শেষ করে সন্তানদের জন্য কেনাকাটা করে রাত ৯টার দিকে বাসায় ফিরেন বলে জানান তার শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন।’
স্ত্রী মিতু হত্যার পর থেকেই দুই সন্তান আক্তার মাহমুদ মাহির (৮) ও তাবাসসুম তাজমিন টাপুরকে (৫) নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে আছেন বাবুল আক্তার। মা হারা সন্তানদের সাথে একান্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি।
কিন্তু এর আগে বাবুল আক্তার পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক পর তার শ্বশুর বলেন, ‘বাবুল সকাল ১০টার দিকে পুলিশ সদর দপ্তরে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছেন। বেলা ১টার কিছু পরে সদর দপ্তর থেকে একবার ফোন করেছিল। কিন্তু এরপর আর তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি।’
তিনি কোথায় যেতে পারেন- এমন প্রশ্নে মোশারফ হোসেন বলেন, ‘সেটাতো আমি বলতে পারবো না। তারতো ঢাকা শহরে আত্মীয়ের অভাব নেই। হয়তো কারো বাসায় বেড়াতে যেতে পারে।’
রাতে খিলগাঁও মেরাদিয়া বাবুল আক্তারের শ্বশুর বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা যায়।
তবে জামায় বাসায় না ফেরাতেও শ্বশুরের মধ্যে কোনো উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি। বেশ খুশি খুশিই মনে হচ্ছিল।
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বুধবার প্রধান ফটকের রেজিস্টার খাতায় স্বাক্ষর করে ১টা ১৩ মিনিটে ভেতরে প্রবেশ করেন বাবুল আক্তার। এরপর তিনি প্রথমে আইজিপির দপ্তরে যান। সেখানে প্রায় ১৫ মিনিটের মতো ছিলেন। এরপর সোজা চলে যান সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (সংস্থাপন) হাবীবুর রহমানের দপ্তরে। সেখানেও মিনিট বিশেক ছিলেন। এরপর বেশ কয়েক জন সিনিয়র কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করে ২টা ১০ মিনিটে হেঁটে পুলিশ সদর দপ্তর ত্যাগ করেন।
এদিকে ৩৮ দিন পর এসপি বাবুল আক্তারের পুলিশ সদর দপ্তরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চারিদিকে বেশ গুঞ্জন শুরু হয়। অনেককে বলতে শোনা যায়, ওপর মহলের সবুজ সংকেত পেয়ে চাকরিতে যোগদানের জন্যই তিনি সদর দপ্তরে এসেছেন। আবার এমনও শোনা যায়, গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে বাবুল আক্তারকে সদর দপ্তরে তলব করা হয়েছিল।
স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার দিনই (৫ জুন) সদর দপ্তরে জয়েন্ট করেন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। এরপর গত ২৫ জুন তাকে রাধানীর বনশ্রীর শ্বশুরবাড়ি থেকে মধ্যরাতে ডেকে নিয়ে টানা ১৫ ঘন্টা বসিয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় গোয়েন্দা কার্যালয়ে। পরে বাসায় পৌঁছে দেয়া হলেও পুলিশ সদর দপ্তর নিজ কর্মস্থানে এসপি বাবুল আক্তার আর স্বপদে যোগদান করেননি।
এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছিল, বাবুল আক্তার চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন ওই দিন রাতেই। তবে এনিয়ে নানা খবর বের হলেও সরকার কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও সুষ্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি এ নিয়ে মুখ খোলেননি বাবুল আক্তার নিজেও।
গত ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পরদিন পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিআই)। তবে মামলার মূল তদন্তে আছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততা প্রথমেই উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। এরপর নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বাবুল আক্তারেই স্ত্রী হত্যায় জড়িত এমন গুঞ্জনও চলে। তবে এখনো পর্যন্ত আসামিদের দেয়া স্বীকারোক্তি কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে বাবুল আক্তারই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সেই রকম কোনও কিছু বলা হয়নি।


You must log in to post a comment.