রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম ।।
জেনিফার আলম ঃ সত্যিকারের সম্পূর্ন রঙ্গিন সিনেমার গল্প লিখছি । এখন পর্যন্ত এটা কেন বলিউডি কোন সিনেমার প্লট হলো নাহ সেটাই ভাবনার বিষয় ! আমদের গল্পের নায়কের জন্ম ১৯৪৯ সালের ভারতের ওডিশা রাজ্যে। জন্মের সময়ই আমাদের নায়ক প্রদুনা কুমার মহানন্দী মানুষ আর ধর্মের তৈরি জাত প্রথার বলি হয়ে গেলেন। একে তোহ দরিদ্র তার উপরে নীচু জাতের অছ্যুত তকমা। মানুষ সদয় হয়নি বলেই হয়তো প্রকৃতি তাকে হাত খুলে প্রাচুর্য দিলেন, টাকা পয়সা নাহ, আসম্ভব সুন্দর আকার হাত আর বিশাল বড় মন। ১৯৭১ সালে আমাদের প্রদুনা সাহেব দিল্লির আর্ট কলেজে ভর্তি হয়ে গেলেন এবং পোর্ট্রেট আকিয়ে হিসেবেও বেশ নাম করে ফেল্লেন।তার নাম একান ওইকান হয়ে চলে গেল আমাদের গল্পের নায়িকার কাছে। আমাদের নায়িকা সুদূর লন্ডনে পড়াশুনা করা ১৯ বছর বছর বয়সী চার্লোটী ভন সেদভীন।আমদের নায়িকার জন্ম খোদ ইউরোপের সুইডেনে.. রয়েল ব্লাড যাকে বলে আর কি। পোর্ট্রেট আকিয়ের কাছে এসে পোর্ট্রেট করে দাওয়ার বিনিময়ে মনটাই দিয়ে বসলেন আমাদের প্রদুনা কুমার কে। চার্লোটী নাম পাল্টে হলেন চারুলতা আর বিয়ে করলেন আমাদের প্রদুনা কে একদম সব ধর্মীয় প্রথা মেনে। কিন্তু সুখ তোহ আর চিরস্থায়ী নয় তাই এবার বিচ্ছেদ পর্ব শুরু। আমাদের চারুলতা চইলেন, প্রদুনা তার সঙ্গে চলুক কিন্তু নায়ক চাইলেন পড়াশোনা শেষ করতে । এখানেই বিচ্ছেদ পর্বের শুরু। চিঠি লিখে যোগাযোগ চলছিলো । এর মধ্যেই চারুলতা বিমানের টিকেট পাঠাতে কিন্তু প্রদুনা জানালেন তিনি নিযেই ব্যাবস্থা করে আসবেন । শুরু হলো এক সাধারণ মানুষের অতি অসাধারন হবার যাত্রা।
বাইসাইকেলে চেপে সুইডেন যাত্রা. হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন, বাইসাইকেলে করেই সুইডেন রওনা হলেন নায়ক। তিনি অম্রিতসার গেলেন, সেখান থেকে দিল্লী হয়ে আফগানিস্তান , পেরিয়ে গেলেন ইরান ,তুর্কি , বুলগেরিয়া, যুগস্লাভিয়া, জার্মানি , অস্ট্রিয়া এবং ডেনমার্ক. পথে কত অনাহারের দিন গেছে, সাইকেল নষ্ট হয়েছে শুধু ভাঙ্গেনী মন। তখনো এই রকম বর্ডারে বর্ডারে এত কড়াকড়ি ছিলোনা। ৪মাস তিন সপ্তাহ পর আমাদের গল্পের নায়ক পৌছুলেন তার প্রেয়সীর দেশে। সুইডিশ ইমিগ্রেশন অফিসাররাহ বিশ্বাস করতেই পারছিলেন নাহ যে সাইকেল চালিয়ে গরীব এই ইন্ডিয়ান তাদের দেশে এসেছেন স্ত্রীকে দেখতে। আমাদের প্রদুন তাদের বিয়ের ছবি দেখালেন আর অফিসাররা বিশ্বাস করতেই পারছিলেন নাহ তাদের রাজকীয় রক্তের মেয়ে কিনা বিয়ে করেছেন কালো হতদরিদ্র এক ইন্ডিয়ান কে।
শেষ মেষ যখন চারুলতা জানলেন তার প্রিয় মানুষটি ৫মাস সাইকেল চলিয়ে সুধু তাকেই দেখতে এসেছেন,পাগলের মত ছুটে এলেন আর ভালোবাসায় ভাসলেন . পরিবার আপন করে নিলো তাদের ২টি বাচ্চাও হলো। আমাদের প্রদুনা কুমার মহানন্দী এখন ডক্টর প্রদুনা কুমার . তিনি এখন সুইডিশ সরকার এর আর্ট এবং কালচার এর উপদেষ্টা।
তার আকা ছবি দুনিয়ার অনেক দেশে প্রদর্শিত হয়েছে এবং ইউনিসেফের গ্রিটিং কার্ড এর মত সম্মানিত জায়গায় স্থান করেছেন।
on 4 January 2012, he was awarded an honorary doctorate degree (Degree of Honoris Causa) from Utkal University of Culture (UUC) in Bhubaneshwar, Odisha state, India. He was also designated as the Oriya Cultural ambassador to Sweden by the Government of Odisha।
একসময় যেই গ্রামে তিনি অছ্যুত ছিলেন সেখানেই হাজারবার তাকে আমনন্ত্রন জানাচ্ছে।আর ইন্ডিয়ার বিখ্যাত সিনেমা পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি তাদের নিয়ে সিনেমা করার চিন্তা করছেন। আর সুইডিশ সরকার তাদের ভালোবাসার উপরে ডকুমেন্টারী করে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা বলে পুরো দুনিয়াকে দেখিয়েছে। ভালোবাসা আর মনের শক্তি দিয়ে সব জয় করা সম্ভব সবকিছু।









